ঢাকা ০৩:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

সফরে পুতিনের মলমূত্র কেন সংগ্রহ করেন দেহরক্ষীরা

  • আপডেট সময় : ০১:১০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুন ২০২২
  • ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক : রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিদেশে কোনো সফরে থাকলে দেহরক্ষীরা তাঁর মলমূত্র সংগ্রহ করে থাকেন। পরে সেগুলো মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সফরের সময় মলমূত্র ফেলে এলে তা শত্রুভাবাপন্ন কেউ সংগ্রহ করতে পারেন। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক বেশি তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। উদ্ভট এই দাবি প্রথমে ফ্রান্সের নিউজ ম্যাগাজিন প্যারিস ম্যাচ-এর এক প্রতিবেদনে করা হয়। দুজন অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক এই প্রতিবেদন করেছিলেন। অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোও প্রতিবেদনটি ছাপায় এবং এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে। ডকট্রিন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি কনসালটিংয়ের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) কর্মকর্তা রেবেকা কফলার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো ধরনের তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে পড়তে পারে সে শঙ্কায় থাকেন পুতিন। ক্ষমতা পরিবর্তন ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এমন একটি চিত্র তুলে ধরতে চান যে তিনি অনির্দিষ্টকাল রাশিয়া শাসন করতে থাকবেন।’
ফ্রান্সের নিউজ ম্যাগাজিনটি প্রতিবেদনে দাবি করে, রাশিয়ার ফেডারেল গার্ড সার্ভিসের একজন বিশেষ সহযোগী একটি স্যুটকেস বহন করেন যাতে পুতিনের মলমূত্র সংগ্রহ করে রাখা হয়। পরে তা মস্কোয় ফেরত পাঠানো হয়।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট দাবি করেছে, একটি বিশেষ প্যাকেটে এই শারীরিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। প্যাকেটগুলো শুধু এ জন্য ব্যবহৃত একটি ব্রিফকেসে রাখা হয় রাশিয়ায় ফেরত পাঠাতে। এই সংবাদমাধ্যমটি রাশিয়ার ওপর দুটি বইয়ের লেখক রেজিস জেন্টে এবং এক দশকের বেশি সময় রাশিয়ার সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করা মিখাইল রুবিনের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা মলমূত্র সংগ্রহের এ ধরনের ঘটনার কথা জানান। একটি ছিল ২০১৭ সালের ২৯ মে পুতিনের ফ্রান্স সফরের সময়। আরেকটি ছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাঁর সৌদি আরব সফরকালে। বলা হয়ে থাকে, পুতিন ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই বিদেশ সফরের সময় এ নিয়ম মেনে আসছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের বিষয়টি সব সময় বিশ্বে আলোচনার বিষয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ বলে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। রুশ নেতার ঘনিষ্ঠ একজন প্রভাবশালীকে গত মাসে একটি অডিও রেকর্ডে বলতে শোনা যায়, ‘ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত পুতিন খুব অসুস্থ।’
মার্কিন ম্যাগাজিন নিউ লাইন এই অডিও রেকর্ডটি সংগ্রহ করে। অজ্ঞাত ওই প্রভাবশালীকে পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে একজন পশ্চিমা পুঁজি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলাপ করতে শোনা যায়। তবে এ ধরনের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

সফরে পুতিনের মলমূত্র কেন সংগ্রহ করেন দেহরক্ষীরা

আপডেট সময় : ০১:১০:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুন ২০২২

প্রত্যাশা ডেস্ক : রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বিদেশে কোনো সফরে থাকলে দেহরক্ষীরা তাঁর মলমূত্র সংগ্রহ করে থাকেন। পরে সেগুলো মস্কো নিয়ে যাওয়া হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের এক প্রতিবেদনে এমন দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সফরের সময় মলমূত্র ফেলে এলে তা শত্রুভাবাপন্ন কেউ সংগ্রহ করতে পারেন। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পুতিনের স্বাস্থ্য সম্পর্কে অনেক বেশি তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার শঙ্কা থাকে। উদ্ভট এই দাবি প্রথমে ফ্রান্সের নিউজ ম্যাগাজিন প্যারিস ম্যাচ-এর এক প্রতিবেদনে করা হয়। দুজন অভিজ্ঞ অনুসন্ধানী সাংবাদিক এই প্রতিবেদন করেছিলেন। অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোও প্রতিবেদনটি ছাপায় এবং এ নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে। ডকট্রিন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি কনসালটিংয়ের প্রেসিডেন্ট ও সাবেক মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ) কর্মকর্তা রেবেকা কফলার ফক্স নিউজকে বলেন, ‘নিজের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত কোনো ধরনের তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাতে পড়তে পারে সে শঙ্কায় থাকেন পুতিন। ক্ষমতা পরিবর্তন ঘিরে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে এমন একটি চিত্র তুলে ধরতে চান যে তিনি অনির্দিষ্টকাল রাশিয়া শাসন করতে থাকবেন।’
ফ্রান্সের নিউজ ম্যাগাজিনটি প্রতিবেদনে দাবি করে, রাশিয়ার ফেডারেল গার্ড সার্ভিসের একজন বিশেষ সহযোগী একটি স্যুটকেস বহন করেন যাতে পুতিনের মলমূত্র সংগ্রহ করে রাখা হয়। পরে তা মস্কোয় ফেরত পাঠানো হয়।
যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট দাবি করেছে, একটি বিশেষ প্যাকেটে এই শারীরিক বর্জ্য সংগ্রহ করা হয়। প্যাকেটগুলো শুধু এ জন্য ব্যবহৃত একটি ব্রিফকেসে রাখা হয় রাশিয়ায় ফেরত পাঠাতে। এই সংবাদমাধ্যমটি রাশিয়ার ওপর দুটি বইয়ের লেখক রেজিস জেন্টে এবং এক দশকের বেশি সময় রাশিয়ার সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করা মিখাইল রুবিনের সঙ্গে কথা বলেছে। তারা মলমূত্র সংগ্রহের এ ধরনের ঘটনার কথা জানান। একটি ছিল ২০১৭ সালের ২৯ মে পুতিনের ফ্রান্স সফরের সময়। আরেকটি ছিল ২০১৯ সালের অক্টোবরে তাঁর সৌদি আরব সফরকালে। বলা হয়ে থাকে, পুতিন ক্ষমতায় আসার শুরু থেকেই বিদেশ সফরের সময় এ নিয়ম মেনে আসছেন। রুশ প্রেসিডেন্টের স্বাস্থ্যের বিষয়টি সব সময় বিশ্বে আলোচনার বিষয়। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তিনি গুরুতর অসুস্থ বলে ব্যাপক গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। রুশ নেতার ঘনিষ্ঠ একজন প্রভাবশালীকে গত মাসে একটি অডিও রেকর্ডে বলতে শোনা যায়, ‘ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত পুতিন খুব অসুস্থ।’
মার্কিন ম্যাগাজিন নিউ লাইন এই অডিও রেকর্ডটি সংগ্রহ করে। অজ্ঞাত ওই প্রভাবশালীকে পুতিনের স্বাস্থ্য নিয়ে একজন পশ্চিমা পুঁজি বিনিয়োগকারীর সঙ্গে আলাপ করতে শোনা যায়। তবে এ ধরনের গুঞ্জন নাকচ করে দিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।