ঢাকা ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

সংস্কারের অভাবে সড়কের বেহাল দশা

  • আপডেট সময় : ০২:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২
  • ১৬০ বার পড়া হয়েছে

খুলনা সংবাদদাতা : খুলনার রূপসা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন সড়কের সিগমা সী-ফুডস এর পাশ দিয়ে চর রূপসা (বাগমারা) বায়তুল মামুর জামে মসজিদ পর্যন্ত ৯’শ ফুট রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে খাল ও জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। একারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকায় প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস। বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারের পানিতে বছরের বেশিরভাগ সময় রাস্তাটি জলামগ্ন থাকে। ফলে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে না পেরে গৃহবন্দি থাকে এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীদের দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৫ বছরে কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি।

এলাকায় বসবাসকারী জনসংখ্যার মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় চার শতাধিক। চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় এ সকল শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ইতোপূর্বে শিশু শিক্ষার্থীদের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এলাকার জনগণের জীবন-যাত্রার মান অনুন্নত হওয়ায় অসংখ্য কাঁচা টয়লেট রয়েছে। যা পানিতে তলিয়ে দুর্গন্ধ ও জীবাণু প্রবাহিত হয়ে থাকে। যে কারণে ডায়রিয়া ও চুলকানি-পাঁচড়াসহ পানিবাহিত রোগ লেগেই থাকে। ভুক্তভোগী মৃত হানিফ হাওলাদারের ছেলে মো. খোকন হাওলাদার বলেন, রাস্তাটি দুরবস্থায় থাকায় কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে পানিতে ভাসিয়ে লাশ কবর স্থানে নিয়ে যেতে হয়।
বাইতুর মামুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি সবসময় পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে পারে না। অনেক সময় ইমাম হয়ে আমি একাই নামাজ আদায় করি। পাশাপাশি স্কুল-মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরা বইয়ের ব্যাগ নিয়ে স্কুল ড্রেস পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রওনা হলে মাঝে মাঝে আছাড় খেয়ে পড়ে গিয়ে আর স্কুলে যেতে পারে না।

পাইওনিয়ার কলেজের ছাত্রী তামান্না বলেন, এই পথ দিয়ে যাওয়া আসায় প্রতিটি মানুষের দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় আমাদের ভেজা জামা-কাপড় ও স্যান্ডেল নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই। নার্সারি শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু আব্দুল্লাহ বলে, এই রাস্তা দিয়ে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। আমরা যেন স্কুলে যেতে পারি। সেজন্য এই রাস্তাটি ভালো করে দেবেন।
স্থানীয় দন্ত চিকিৎসক ইমাম হোসেন বলেন, এই রাস্তাটি নিয়ে আমরা খুবই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। স্থানীয় মেম্বর, মহিলা মেম্বর নির্বাচনের সময় এই এলাকায় এসে রাস্তার দূরবস্থা দেখে আমাদেরকে অনেক আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু দূরবস্থা নিরসনে তারা কোন পদক্ষেপ নেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, আমার হাতেই প্রথম এই রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল। একজন ইউপি সদস্য পরিষদ থেকে যে টাকা বরাদ্দ পায় তা দিয়ে এই রাস্তার কাজ করা সম্ভব না। রাস্তাটি মেরামত করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হবে। তাই উপজেলা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে মাপ-ঝোঁপ কমপ্লিট করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

সংস্কারের অভাবে সড়কের বেহাল দশা

আপডেট সময় : ০২:৩৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২

খুলনা সংবাদদাতা : খুলনার রূপসা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন সড়কের সিগমা সী-ফুডস এর পাশ দিয়ে চর রূপসা (বাগমারা) বায়তুল মামুর জামে মসজিদ পর্যন্ত ৯’শ ফুট রাস্তাটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ভেঙে খাল ও জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। একারণে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এলাকাবাসী। স্থানীয়রা জানায়, ওই এলাকায় প্রায় ৩ হাজার লোকের বসবাস। বর্ষা মৌসুম ও জোয়ারের পানিতে বছরের বেশিরভাগ সময় রাস্তাটি জলামগ্ন থাকে। ফলে নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে না পেরে গৃহবন্দি থাকে এলাকাবাসী। ভুক্তভোগীদের দাবি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও গত ৫ বছরে কোন উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি।

এলাকায় বসবাসকারী জনসংখ্যার মধ্যে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে প্রায় চার শতাধিক। চলাচলের উপযোগী রাস্তা না থাকায় এ সকল শিক্ষার্থীরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। ইতোপূর্বে শিশু শিক্ষার্থীদের পানিতে তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। গর্ভবতী মহিলা ও অসুস্থদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। এলাকার জনগণের জীবন-যাত্রার মান অনুন্নত হওয়ায় অসংখ্য কাঁচা টয়লেট রয়েছে। যা পানিতে তলিয়ে দুর্গন্ধ ও জীবাণু প্রবাহিত হয়ে থাকে। যে কারণে ডায়রিয়া ও চুলকানি-পাঁচড়াসহ পানিবাহিত রোগ লেগেই থাকে। ভুক্তভোগী মৃত হানিফ হাওলাদারের ছেলে মো. খোকন হাওলাদার বলেন, রাস্তাটি দুরবস্থায় থাকায় কেউ মারা গেলে বা অসুস্থ হলে পানিতে ভাসিয়ে লাশ কবর স্থানে নিয়ে যেতে হয়।
বাইতুর মামুর জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা আরিফুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি সবসময় পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে মুসল্লিরা নামাজ পড়তে মসজিদে যেতে পারে না। অনেক সময় ইমাম হয়ে আমি একাই নামাজ আদায় করি। পাশাপাশি স্কুল-মাদ্রাসার ছেলে-মেয়েরা বইয়ের ব্যাগ নিয়ে স্কুল ড্রেস পরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রওনা হলে মাঝে মাঝে আছাড় খেয়ে পড়ে গিয়ে আর স্কুলে যেতে পারে না।

পাইওনিয়ার কলেজের ছাত্রী তামান্না বলেন, এই পথ দিয়ে যাওয়া আসায় প্রতিটি মানুষের দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়। অনেক সময় আমাদের ভেজা জামা-কাপড় ও স্যান্ডেল নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। আমরা দ্রুত এ সমস্যার সমাধান চাই। নার্সারি শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশু আব্দুল্লাহ বলে, এই রাস্তা দিয়ে যেতে আমাদের অনেক কষ্ট হয়। আমাদের বই খাতা ভিজে যায়। আমরা যেন স্কুলে যেতে পারি। সেজন্য এই রাস্তাটি ভালো করে দেবেন।
স্থানীয় দন্ত চিকিৎসক ইমাম হোসেন বলেন, এই রাস্তাটি নিয়ে আমরা খুবই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। স্থানীয় মেম্বর, মহিলা মেম্বর নির্বাচনের সময় এই এলাকায় এসে রাস্তার দূরবস্থা দেখে আমাদেরকে অনেক আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু দূরবস্থা নিরসনে তারা কোন পদক্ষেপ নেননি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াছ হোসেন বলেন, আমার হাতেই প্রথম এই রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল। একজন ইউপি সদস্য পরিষদ থেকে যে টাকা বরাদ্দ পায় তা দিয়ে এই রাস্তার কাজ করা সম্ভব না। রাস্তাটি মেরামত করতে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা খরচ হবে। তাই উপজেলা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এনে মাপ-ঝোঁপ কমপ্লিট করে স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মুর্শেদীর দপ্তরে পাঠিয়েছি। আশা করছি অতি দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।