ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতায় দায়ীদের বিচারে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার

  • আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ধারাবাহিক সহিংসতা, বিশেষত সংখ্যালঘু হত্যা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৩২ বিশিষ্ট নাগরিক। এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কয়েক সপ্তাহে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ ধারাবাহিক সংখ্যালঘু নাগরিককে হত্যা, তাঁদের পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যা নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিপ্রায়ে করা হচ্ছে বলে জনমনে ধারণা বিরাজ করছে।

আসন্ন নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দেশের ঐতিহ্যের অংশ। যারা এসব সহিংস সাম্প্রদায়িক হামলা বা হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তারা সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ। সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতা সৃষ্টিকারী। বিবৃতিদাতারা মনে করেন, দেশি-বিদেশি উসকানিদাতা পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠীও এসব ঘটনায় মদদ দিচ্ছে। বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘আমরা বিস্ময় ও ক্ষোভের সঙ্গে এ-ও লক্ষ করছি, ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং নাশকতা, হত্যা-হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করতে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।’

বিবৃতিতে চারটি দাবি জানিয়েছেন নাগরিকেরা। দাবিগুলো হলো-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা এবং উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, দোকানপাটসহ স্থাপনা, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, ‘যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী, নরসিংদীর শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ বেশ কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্রতম ভাষায় নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই।’

হিন্দুসহ দেশের সব ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুর ধর্মীয় ও সামগ্রিক জীবনের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অবিলম্বে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া ও নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়ানো। মূলধারার সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব ঘটনা সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ করতে দেশবাসীকে এবং বিশেষ করে নিজ নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন সুলতানা কামাল, খুশী কবির, রাশেদা কে চৌধূরী, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, আনু মুহাম্মদ, শাহীন আনাম, ফিরদৌস আজিম, শামসুল হুদা, নুর খান, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, স্বপন আদনান, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, মনিন্দ্র কুমার নাথ, পাভেল পার্থ, সালেহ আহমেদ, পারভেজ হাসেম, রেজাউল করিম চৌধুরী, শাহ ই মবিন জিননাহ, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, জবা তালুকদার, ঈশিতা দস্তগীর, মেইনথিন প্রমীলা ও হানা শামস আহমেদ।

সানা/আপ্র/১০/০১/২০২৬

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

৩২ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি

সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতায় দায়ীদের বিচারে ব্যর্থ হচ্ছে সরকার

আপডেট সময় : ০৯:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, ধারাবাহিক সহিংসতা, বিশেষত সংখ্যালঘু হত্যা, বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনাসহ বিভিন্ন হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন ৩২ বিশিষ্ট নাগরিক। এসব ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে তাঁদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছেন তাঁরা।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কয়েক সপ্তাহে একের পর এক পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডসহ ধারাবাহিক সংখ্যালঘু নাগরিককে হত্যা, তাঁদের পরিবারের বাড়িঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। যা নির্বাচনের আগে দেশকে অস্থিতিশীল করার অভিপ্রায়ে করা হচ্ছে বলে জনমনে ধারণা বিরাজ করছে।

আসন্ন নির্বাচনকে বিঘ্নিত করতে এসব কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী নাগরিকদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক দেশের ঐতিহ্যের অংশ। যারা এসব সহিংস সাম্প্রদায়িক হামলা বা হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তারা সমাজের একটি ক্ষুদ্র অংশ। সাম্প্রদায়িক উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নাশকতা সৃষ্টিকারী। বিবৃতিদাতারা মনে করেন, দেশি-বিদেশি উসকানিদাতা পৃষ্ঠপোষক গোষ্ঠীও এসব ঘটনায় মদদ দিচ্ছে। বিবৃতিতে তাঁরা বলেছেন, ‘আমরা বিস্ময় ও ক্ষোভের সঙ্গে এ-ও লক্ষ করছি, ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং নাশকতা, হত্যা-হামলার জন্য দায়ীদের বিচারের কাঠগড়ায় সোপর্দ করতে সরকার বারবার ব্যর্থ হচ্ছে।’

বিবৃতিতে চারটি দাবি জানিয়েছেন নাগরিকেরা। দাবিগুলো হলো-সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হত্যা, বাড়িঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা এবং উসকানিদাতাদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা। সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর, দোকানপাটসহ স্থাপনা, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ের সুরক্ষা দিতে অন্তর্বর্তী সরকারকে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ময়মনসিংহের ভালুকায় দীপু দাস, ‘যশোরে রানা প্রতাপ বৈরাগী, নরসিংদীর শরৎ চক্রবর্তী মণিসহ বেশ কয়েকজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া চট্টগ্রামের রাউজানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে ঘরের দরজা বন্ধ করে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। আমরা এসব ঘটনায় গভীর ক্ষোভ ও তীব্রতম ভাষায় নিন্দা এবং ধিক্কার জানাই।’

হিন্দুসহ দেশের সব ধর্মীয় এবং জাতিগত সংখ্যালঘুর ধর্মীয় ও সামগ্রিক জীবনের নিরাপত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় অবিলম্বে প্রশাসনকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া ও নিয়মিত কঠোর নজরদারি বাড়ানো। মূলধারার সব রাজনৈতিক দলগুলোকে এসব ঘটনা সমন্বিতভাবে প্রতিরোধ করতে দেশবাসীকে এবং বিশেষ করে নিজ নিজ দলের কর্মী-সমর্থকদের প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন সুলতানা কামাল, খুশী কবির, রাশেদা কে চৌধূরী, জেড আই খান পান্না, ইফতেখারুজ্জামান, আনু মুহাম্মদ, শাহীন আনাম, ফিরদৌস আজিম, শামসুল হুদা, নুর খান, সামিনা লুৎফা, সুমাইয়া খায়ের, সুব্রত চৌধুরী, তবারক হোসেন, স্বপন আদনান, তাসনিম সিরাজ মাহবুব, রোবায়েত ফেরদৌস, জোবাইদা নাসরীন, মনিন্দ্র কুমার নাথ, পাভেল পার্থ, সালেহ আহমেদ, পারভেজ হাসেম, রেজাউল করিম চৌধুরী, শাহ ই মবিন জিননাহ, জাকির হোসেন, সাইদুর রহমান, সাঈদ আহমেদ, দীপায়ন খীসা, জবা তালুকদার, ঈশিতা দস্তগীর, মেইনথিন প্রমীলা ও হানা শামস আহমেদ।

সানা/আপ্র/১০/০১/২০২৬