ঢাকা ০৩:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

শুধু বিস্কুট খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি

  • আপডেট সময় : ১১:৩১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক : ২৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী টালিয়া সিনট চার বছর ধরে পাকস্থলীর বিরল এক রোগে ভুগছেন। গ্যাস্ট্রোপেরেসিস নামের এ রোগের কারণে তিনি খাবার খাওয়ার পর তা আর হজম হতে পারে না। তাঁর বমি ভাব হতে থাকে কিংবা বমি হয়ে যায়। এমন অবস্থায় তিনি পাচনযোগ্য বিস্কুট খেয়ে বেঁচে আছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গ্যাস্ট্রোপেরেসিস হলো পাকস্থলীর একটি রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে খাবার হজমের জন্য পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে যাওয়ার যে প্রক্রিয়া আছে, তার গতি ধীর হয়ে যায়। কখনো কখনো ক্ষুদ্রান্ত্রে একেবারেই খাবার পৌঁছাতে পারে না। সিনট বিবিসিকে বলেন, এ ধরনের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকাটা কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন যা কিছুই খাই বা পান করি না কেন, প্রায়ই আমার প্রচ- পেটব্যথা হয়, নয়তো তীব্র বমি ভাব অথবা বমি হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে এখন পুরোপুরি নল দিয়ে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সিনটকে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। খেতে হচ্ছে পাচনযোগ্য বিস্কুট।
২৫ বছর বয়সী এ নারী বলেন, ২০১৮ সালে প্রথম তাঁর শরীরে লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে। লক্ষণগুলো এতটাই বিরল ছিল যে শুরুতে চিকিৎসকেরাও বুঝতে পারছিলেন না, কী হয়েছে। উপসর্গগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে সিনট বলেন, ‘খাবার খাওয়ার পর আমার মনে হয় যা খেয়েছি, তা বুকের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে আটকে আছে। তখন মনে হয় ব্যথা থেকে রেহাই পেতে আমাকে বমি করতে হবে।’
সিনট বলেন, গত জানুয়ারিতে তিনি একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হন। সে ভাইরাস তাঁর শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে আক্রমণ করে। এতে তাঁর উপসর্গগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। টালিয়া সিনটের বাবা পিটার সিনট তাঁকে লন্ডনের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ওই চিকিৎসক সিনটের শরীরে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস শনাক্ত করেন। পিটার বলেন, গ্যাস্ট্রোপেরেসিসের সমস্যা হলে তা একেবারে সারিয়ে তোলা যায় না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এখন সিনটের পরিবার তাঁর চিকিৎসার খরচ বাবদ প্রায় ৮০ হাজার পাউন্ড পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করতে চাইছে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে চিকিৎসকেরা তাঁর পেটে গ্যাস্ট্রিক পেসমেকার যন্ত্র স্থাপন করবেন। এটি সিনটের পেটের মাংসপেশিতে স্পন্দন তৈরি করবে। এতে তাঁর খাবার হজম হবে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, চিকিৎসা না করানো হলে পাচনযোগ্য বিস্কুট খেয়েই সিনটকে বেঁচে থাকতে হবে।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

শুধু বিস্কুট খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি

আপডেট সময় : ১১:৩১:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২

প্রত্যাশা ডেস্ক : ২৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ নারী টালিয়া সিনট চার বছর ধরে পাকস্থলীর বিরল এক রোগে ভুগছেন। গ্যাস্ট্রোপেরেসিস নামের এ রোগের কারণে তিনি খাবার খাওয়ার পর তা আর হজম হতে পারে না। তাঁর বমি ভাব হতে থাকে কিংবা বমি হয়ে যায়। এমন অবস্থায় তিনি পাচনযোগ্য বিস্কুট খেয়ে বেঁচে আছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
গ্যাস্ট্রোপেরেসিস হলো পাকস্থলীর একটি রোগ। এ রোগে আক্রান্ত হলে খাবার হজমের জন্য পাকস্থলী থেকে ক্ষুদ্রান্ত্রে যাওয়ার যে প্রক্রিয়া আছে, তার গতি ধীর হয়ে যায়। কখনো কখনো ক্ষুদ্রান্ত্রে একেবারেই খাবার পৌঁছাতে পারে না। সিনট বিবিসিকে বলেন, এ ধরনের জটিলতা নিয়ে বেঁচে থাকাটা কঠিন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন যা কিছুই খাই বা পান করি না কেন, প্রায়ই আমার প্রচ- পেটব্যথা হয়, নয়তো তীব্র বমি ভাব অথবা বমি হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে এখন পুরোপুরি নল দিয়ে খাবার গ্রহণের মাধ্যমে সিনটকে পুষ্টির চাহিদা মেটাতে হচ্ছে। খেতে হচ্ছে পাচনযোগ্য বিস্কুট।
২৫ বছর বয়সী এ নারী বলেন, ২০১৮ সালে প্রথম তাঁর শরীরে লক্ষণগুলো দেখা দিতে থাকে। লক্ষণগুলো এতটাই বিরল ছিল যে শুরুতে চিকিৎসকেরাও বুঝতে পারছিলেন না, কী হয়েছে। উপসর্গগুলোর বর্ণনা দিতে গিয়ে সিনট বলেন, ‘খাবার খাওয়ার পর আমার মনে হয় যা খেয়েছি, তা বুকের মধ্যে বছরের পর বছর ধরে আটকে আছে। তখন মনে হয় ব্যথা থেকে রেহাই পেতে আমাকে বমি করতে হবে।’
সিনট বলেন, গত জানুয়ারিতে তিনি একটি ভাইরাসে আক্রান্ত হন। সে ভাইরাস তাঁর শরীরের হজম প্রক্রিয়াকে আক্রমণ করে। এতে তাঁর উপসর্গগুলো আরও তীব্র হয়ে ওঠে। টালিয়া সিনটের বাবা পিটার সিনট তাঁকে লন্ডনের একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। ওই চিকিৎসক সিনটের শরীরে গ্যাস্ট্রোপেরেসিস শনাক্ত করেন। পিটার বলেন, গ্যাস্ট্রোপেরেসিসের সমস্যা হলে তা একেবারে সারিয়ে তোলা যায় না। তবে চিকিৎসার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এখন সিনটের পরিবার তাঁর চিকিৎসার খরচ বাবদ প্রায় ৮০ হাজার পাউন্ড পরিমাণ তহবিল সংগ্রহ করতে চাইছে। চিকিৎসার অংশ হিসেবে চিকিৎসকেরা তাঁর পেটে গ্যাস্ট্রিক পেসমেকার যন্ত্র স্থাপন করবেন। এটি সিনটের পেটের মাংসপেশিতে স্পন্দন তৈরি করবে। এতে তাঁর খাবার হজম হবে। চিকিৎসকেরা বলেছেন, চিকিৎসা না করানো হলে পাচনযোগ্য বিস্কুট খেয়েই সিনটকে বেঁচে থাকতে হবে।