প্রত্যাশা ডেস্ক: শীতে আবহাওয়ায় অনেক মানুষ মাংশপেশিতে টান, ব্যথা কিংবা অস্বস্তি অনুভব করেন। তাপমাত্রা কমে গেলে শরীর স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়ায় মাংসপেশি শক্ত করে ফেলে। ফলে বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই মাংসপেশির ব্যথা রয়েছে, তাদের জন্য এ সমস্যা আরো বেশি বাড়তে পারে। যদিও শীত ও পেশিব্যথার সম্পর্ক পুরোপুরি স্পষ্ট নয়, তবুও সম্ভাব্য কারণ ও প্রতিকার জানা থাকলে অস্বস্তি কমানো সম্ভব।
শীতে পেশিতে ব্যথা বা পেশি ইনজুরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে গবেষণায় উল্লেখ রয়েছে। ঠান্ডা আবহাওয়ায় মাংসপেশি শক্ত হয়ে যায়, রক্ত সঞ্চালন কমে যায় এবং শরীর তাপ উৎপাদনের জন্য কাঁপতে থাকে, যা মাংসপেশিতে চাপ তৈরি করতে পারে। যাদের আগে থেকেই মাংসপেশি ব্যথা বা ফাইব্রোমায়ালজিয়ার মতো সমস্যা আছে, তাদের ক্ষেত্রে শীতের দিনগুলোতে ব্যথা বেড়ে যেতে পারে। তবে সবার ক্ষেত্রেই যে শীত ব্যথার কারণ হবে, তা নয়।
শীতে কেন মাংসপেশিতে ব্যথা হয়: শীতের সঙ্গে মাংসপেশির ব্যথার সম্পর্ক নিয়ে কয়েকটি ব্যাখ্যা রয়েছে। তা হলো-
মাংসপেশির টান: শীতে মাংসপেশি ও টেন্ডন শক্ত হয়ে যায়। শরীর গরম রাখার জন্য অনেক সময় কাঁপুনি শুরু হয়, যা মাংসপেশির বারবার সংকোচন ও প্রসারণ ঘটায়। দীর্ঘ সময় ঠান্ডায় থাকলে এতে ব্যথা হতে পারে।
আঘাতের ঝুঁকি: শীতে মাংসপেশির শক্তি, নমনীয়তা ও সহনশীলতা কমে যেতে পারে। ফলে শারীরিক কাজ বা ব্যায়ামের সময় আঘাত লাগার শঙ্কা বাড়ে।
ব্যথা অনুভবের পরিবর্তন: শীতে তাপমাত্রা ব্যথা অনুভব করার ক্ষমতা বা সহনশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে স্নায়ুর প্রদাহও বাড়তে পারে।
জীবনযাপনের পরিবর্তন: শীতে অনেক মানুষ কম নড়াচড়া করেন। দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় থাকলে মাংসপেশি শক্ত বা দুর্বল হয়ে পড়ে, যা ব্যথার কারণ হতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, অনেকেই শীতে পেশিব্যথা অনুভব করেন। তবে হঠাৎ তীব্র ব্যথা, খুব বেশি অস্বস্তি বা আঘাতের ইতিহাস থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
শীতে মাংসপেশির ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়: নিচের উপায়গুলো ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মূল রোগ থাকলে তা সারায় না। ওই উপায়গুলো হলো-
শরীর গরম রাখা: শরীরের মূল অংশ (বুক, পেট) উষ্ণ রাখলে মাংসপেশি শিথিল হতে সাহায্য করে।
নির্দিষ্ট স্থানে তাপ দেওয়া: ব্যথাযুক্ত স্থানে গরম সেঁক, হট ওয়াটার ব্যাগ বা হিট প্যাক ব্যবহার করা যেতে পারে।
হালকা স্ট্রেচিং: আস্তে আস্তে স্ট্রেচ করলে শক্ত মাংসপেশি ঢিলা হতে পারে। তবে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ম্যাসাজ: ম্যাসাজ করলে রক্ত চলাচল বাড়ে এবং মাংসপেশি আরাম পায়। ঘরেও সহজ ম্যাসাজ করা যায়।
শীতে মাংসপেশির ব্যথা প্রতিরোধের উপায়: যদি শীতে ব্যথার মূল কারণ হয়, তাহলে সবচেয়ে ভালো উপায় হলো নিজেকে উষ্ণ রাখা।
কিছু কার্যকর পরামর্শ: ঘর যতা সম্ভব উষ্ণ রাখা; ঠান্ডা বাতাস ঢোকে এমন ফাঁক বন্ধ করা; একসঙ্গে অনেক মোটা কাপড় না পরে ঢিলেঢালা কয়েক স্তরের কাপড় পরা; বাইরে গেলে গরম কোট, জ্যাকেট ও বুট পরা; ঘরে মোজা ও সিøপার ব্যবহার করা; টুপি, মাফলার ও গ্লাভস দিয়ে খোলা অংশ ঢেকে রাখা; খুব ঠান্ডা বা ঝোড়ো আবহাওয়ায় বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলা; পর্যাপ্ত খাবার খাওয়া- যাতে শরীর শক্তি পায়।
ব্যায়াম বাইরে করলে: ব্যায়ামের আগে ভালোভাবে ওয়ার্ম-আপ করা; ঘাম শোষণ করে এমন কাপড় পরা; ঘাম হলে দ্রুত ভেজা কাপড় বদলানো; পর্যাপ্ত কার্বোহাইড্রেট খাওয়া, কারণ ঠান্ডায় শরীর বেশি শক্তি খরচ করে।
কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে: মাংসপেশির ব্যথা যদি নিজে নিজে না কমে, খুব তীব্র হয় বা দৈনন্দিন কাজকর্মে বাধা দেয়; তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত। ঠান্ডা ছাড়াও মাংসপেশির ব্যথার অনেক কারণ থাকতে পারে; যা সঠিকভাবে শনাক্ত করা জরুরি।
শীতে মাংসপেশির ব্যথা অনেক মানুষের জন্য একটি পরিচিত সমস্যা। এর পেছনে মাংসপেশির টান, কম নড়াচড়া, ব্যথা অনুভবের পরিবর্তনসহ নানা কারণ থাকতে পারে। যদিও এটি সব সময় গুরুতর কিছু নয়, তবুও ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী বা তীব্র হলে অবহেলা করা ঠিক নয়। নিজেকে উষ্ণ রাখা, নিয়মিত হালকা নড়াচড়া করা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে শীতে মাংসপেশির ব্যথা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ


























