ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

শিশুসন্তানদের নিয়ে ৮০০ কিলোমিটার হাঁটলেন বাবা

  • আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

প্রত্যাশা ডেস্ক: সন্তানদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে ব্যতিক্রমী এক কাজ করেছেন চীনের এক ব্যক্তি। নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন পথে, হেঁটে হেঁটে ৩১ দিনে পাড়ি দেন ৮০০ কিলোমিটার পথ।

চীনের ওই ব্যক্তির পারিবারিক নাম উ। তাঁর দুই সন্তান ১০ বছরের মেয়ে এবং ৮ বছরের ছেলে। গত ১৭ জুলাই উ দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দক্ষিণ চীনের শেনজেনের বাওআন থেকে এক মাসের জন্য বেরিয়ে পড়েন। তাঁদের গন্তব্য দেশটির মধ্যাঞ্চলের হুনান প্রদেশ। যদিও এই ব্যক্তি শুরুতে নিজেই ভাবতে পারেননি, তাঁর দুই শিশুসন্তান শেষ পর্যন্ত এতটা পথ হেঁটে সফলভাবে পাড়ি দেবে। সংবাদমাধ্যমে উ বলেন, আমি ভাবিনি, ওরা শেষ পর্যন্ত যেতে পারবে। আমার মুক্তির আনন্দ হচ্ছে, একই সঙ্গে আমি তাদের জন্য গর্ব অনুভব করছি।

সাধারণত নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত উ সন্তানদের খুব একটা সময় দিতে পারেন না। দুই বছর আগে উ একবার এমন পরিকল্পনা করেছিলেন। সেবার তিনি ছেলে-মেয়েকে হাঁটিয়ে তাঁর নিজের শহর হুনানে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চাদের বয়স কম হওয়ায় সেবার তাঁকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল।

উ বলেন, ‘হাইকিংয়ের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি তাদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে চেয়েছিলাম। তারা সহজেই হাল ছেড়ে দেওয়ার স্বভাবের ছিল, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে পিছিয়ে যেত।’ আমি চেয়েছিলাম, তারা যেন দৃঢ়ভাবে লেগে থাকে এবং যা শুরু করবে, তা শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলে।

হেঁটে এই ভ্রমণে উ নিজে ১০ কেজি ওজনের একটি ব্যাকপ্যাক বহন করেছেন। দুই ছেলে-মেয়ের কাঁধে ছিল পাঁচ কেজি ওজনের একেকটি ব্যাগ। প্রতিদিন তাঁরা অন্তত ২৩ কিলোমিটার হাঁটতেন।

হাঁটার সময় বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে পড়লে উ তাদের নানা কথা বলে সাহস দিতেন। উ বলেন, যখন আমি খেয়াল করতাম তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, আমি তাদের বলতাম, তারা তাদের বাবার চেয়েও শক্তিশালী। এতটা পথ হাঁটতে গিয়ে উ-র পায়ে ফোসকা পড়েছে। কিন্তু শিশু দুটির পা অক্ষত ছিল। শুধু হাঁটার মাধ্যমে নয়, বরং এই সফরে উ তাঁর সন্তানদের আয় বুঝে ব্যয় করার শিক্ষাও দিয়েছেন। উ বলেন, তিনি ছেলে-মেয়েকে দৈনন্দিন খরচের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতেন।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি শক্তি নির্বাচন বিলম্বিতের চেষ্টা করছে, তবে পেছানোর সুযোগ নেই

শিশুসন্তানদের নিয়ে ৮০০ কিলোমিটার হাঁটলেন বাবা

আপডেট সময় : ০৮:২৫:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

প্রত্যাশা ডেস্ক: সন্তানদের দৃঢ়তা ও সহনশীলতার শিক্ষা দিতে ব্যতিক্রমী এক কাজ করেছেন চীনের এক ব্যক্তি। নিজের দুই সন্তানকে নিয়ে তিনি বেরিয়ে পড়েন পথে, হেঁটে হেঁটে ৩১ দিনে পাড়ি দেন ৮০০ কিলোমিটার পথ।

চীনের ওই ব্যক্তির পারিবারিক নাম উ। তাঁর দুই সন্তান ১০ বছরের মেয়ে এবং ৮ বছরের ছেলে। গত ১৭ জুলাই উ দুই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে দক্ষিণ চীনের শেনজেনের বাওআন থেকে এক মাসের জন্য বেরিয়ে পড়েন। তাঁদের গন্তব্য দেশটির মধ্যাঞ্চলের হুনান প্রদেশ। যদিও এই ব্যক্তি শুরুতে নিজেই ভাবতে পারেননি, তাঁর দুই শিশুসন্তান শেষ পর্যন্ত এতটা পথ হেঁটে সফলভাবে পাড়ি দেবে। সংবাদমাধ্যমে উ বলেন, আমি ভাবিনি, ওরা শেষ পর্যন্ত যেতে পারবে। আমার মুক্তির আনন্দ হচ্ছে, একই সঙ্গে আমি তাদের জন্য গর্ব অনুভব করছি।

সাধারণত নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত উ সন্তানদের খুব একটা সময় দিতে পারেন না। দুই বছর আগে উ একবার এমন পরিকল্পনা করেছিলেন। সেবার তিনি ছেলে-মেয়েকে হাঁটিয়ে তাঁর নিজের শহর হুনানে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাচ্চাদের বয়স কম হওয়ায় সেবার তাঁকে পিছিয়ে আসতে হয়েছিল।

উ বলেন, ‘হাইকিংয়ের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আমি তাদের মানসিক দৃঢ়তা বাড়াতে চেয়েছিলাম। তারা সহজেই হাল ছেড়ে দেওয়ার স্বভাবের ছিল, চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লে পিছিয়ে যেত।’ আমি চেয়েছিলাম, তারা যেন দৃঢ়ভাবে লেগে থাকে এবং যা শুরু করবে, তা শেষ করার অভ্যাস গড়ে তোলে।

হেঁটে এই ভ্রমণে উ নিজে ১০ কেজি ওজনের একটি ব্যাকপ্যাক বহন করেছেন। দুই ছেলে-মেয়ের কাঁধে ছিল পাঁচ কেজি ওজনের একেকটি ব্যাগ। প্রতিদিন তাঁরা অন্তত ২৩ কিলোমিটার হাঁটতেন।

হাঁটার সময় বাচ্চারা ক্লান্ত হয়ে পড়লে উ তাদের নানা কথা বলে সাহস দিতেন। উ বলেন, যখন আমি খেয়াল করতাম তারা ক্লান্ত হয়ে পড়েছে, আমি তাদের বলতাম, তারা তাদের বাবার চেয়েও শক্তিশালী। এতটা পথ হাঁটতে গিয়ে উ-র পায়ে ফোসকা পড়েছে। কিন্তু শিশু দুটির পা অক্ষত ছিল। শুধু হাঁটার মাধ্যমে নয়, বরং এই সফরে উ তাঁর সন্তানদের আয় বুঝে ব্যয় করার শিক্ষাও দিয়েছেন। উ বলেন, তিনি ছেলে-মেয়েকে দৈনন্দিন খরচের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিতেন।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ