ড. নিজামউদ্দিন জামি :শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক সমকালীন চিত্রকলার বিশিষ্টজন। তাঁর জীবন ও সৃষ্টিকর্মে বহুমুখী গুণের সমাবেশ ঘটেছে। তিনি প্রধানত ‘শিক্ষক’ নাকি ‘শিল্পী’ সে বিষয়ে বিতর্ক করাই যায়। তাঁর অন্য পরিচয়ও আমাদের মুগ্ধ করে। তিনি একজন সংগঠক। দেশের চিত্রশিল্পীদের বৃহত্তম সংগঠন ‘বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ’ গঠনে তাঁর ভূমিকা ছিল সর্ববিধ। ’৮৮-র বন্যায় তিনি ছুঠে গিয়েছিলেন সদলবলে। তিনি একজন সুবক্তা, মোটিভেটর। সহকর্মী-শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দান তাঁর নিত্যদিনের কাজ। এদেশের শিশুচিত্রকলার গোড়াপত্তন এবং এর প্রচার-প্রসারে তিনি অসামান্য অবদান রাখেন। ‘মোস্তাফিজ আর্ট স্কুল’ দিয়ে তিনি প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে শিল্পবোধ তৈরি করে চলেন নিরন্তর। তাঁর আরেকটি পরিচয় দিয়ে এ প্রসঙ্গ শেষ করবো, তা হলো তিনি কণ্ঠশিল্পীও। রবীন্দ্রসংগীতে তিনি ডুবে যান অবসর পেলেই। গত দশকে তাঁর গানের অ্যালবামও প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় এখানে আর না-ই দিলাম! সবমিলিয়ে শিল্পী মোস্তাফিজুল হক একজন পরিপূর্ণ মানুষ। মানুষ হিসেবেও তিনি অনন্য।
২০২০ সালে বাংলাদেশে করোনা থাবা বিস্তার করে। ভয়াবহ এক পরিস্থিতি! কেবল বাংলাদেশ নয়, পৃথিবী যেন এক মৃত্যুপুরী! মানুষ ভয়ে ঘরবন্দী হয়েছে আর জীবজন্তু মহানন্দে লোকালয়ে বেরিয়ে এসেছে। সমুদ্রের ডলফিনও বাদ যায়নি, তারাও কূলের ওঠার আনন্দ ভোগ করেছে। প্রকৃতিতে খেলে গেছে সবুজের দমকা হাওয়া। এমন একটি পরিস্থিতি পৃথিবী আগে কখনো দেখেনি। জীবজন্তু এবং প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ হলেও করোনা মানুষের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। যার মাশুল এখনো দিচ্ছে পৃথিবীর সাড়ে সাতশো কোটি মানুষ। অবশ্য এ সর্বনাশের জন্য মানুষই দায়ি। এ সত্যকে রংতলির আঁচড়ে দৃশ্যমান করেছেন যুগসচেতন শিল্পী মোস্তাফিজুল হক।
ঘরবন্দী মানুষ অলস সময় পার করছে। শিল্পী মোস্তাফিজুল হক এ থেকে মুক্তির পথ খুঁজে বার করেছেন। ভাবনার জগতকে মেলে ধরেছেন রংতুলি দিয়ে। শিল্পীর হাতে এর চেয়ে বড়ো হাতিয়ার দ্বিতীয়টি নেই। কবিরা যেমন শব্দবানে বিদ্ধ করেন, শিল্পীরাও তদ্রুপ রঙের ভাষায় জীবন আঁকেন, কথা বলেন। লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি (১৪৫২-১৫১৯)ও তাই মনে করতেন, ‘পেইন্টিং হচ্ছে কবিতা যা যতটা না অনুভব করা যায়, তার চেয়ে বেশি দেখা যায় আর কবিতা হচ্ছে পেইন্টিং যা দেখার বদলে অনুভব করা যায়।’ (বিশ^খ্যাত ৫১ চিত্রশিল্পী, আলোঘর প্রকাশনা, ঢাকা, ২০১৯। পৃষ্ঠা ২৪) ভিঞ্চি কবিতাও লিখতেন। প্রত্যেক শ্রেণীপেশার মানুষেরই পরিভাষা আছে। জীবনের তাড়না এবং শিল্পের দায় শিল্পীর হলেও এর ভাষা প্রায় সর্বজনীন।
মোস্তাফিজুল হক করোনাকালে পুরোদমে নেমে পড়লেন ঢাল-তলোয়ার নিয়ে! তিনি প্রতিদিন প্রকৃতি দেখেছেন, প্রাণীজগতের গতিপ্রকৃতি ও তাদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করছেন। এভাবে মনের অজান্তে আঁকতে থাকলেন একরের পর এক চিত্রকর্ম। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাচাই করলেন এর প্রাসঙ্গিকতা, গুণমান। দারণ সাড়া পেলেন, শিল্পী অনুপ্রাণিত হলেন। তাঁর শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা ও প্রযতেœ ‘চিত্রকলা গ্যালারি’ ডিজিটাল ফর্মেটে প্রদর্শনীর আয়োজন করে। ১৫ জুন থেকে ৩০ জুন ২০২০ পর্যন্ত পক্ষকালব্যাপী চলে এ প্রদর্শনী। ৩০টি চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হয় তাতে। নামকরণও ছিল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ! “বৈশি^ক দুর্যোগের গতিপ্রকৃতি : প্যান্ডামিক মুড”। এর ইংরেজি নাম ঞযব ঋৎববফড়স রহ ঃযব ফধুং ড়ভ ঈড়ৎড়হধ বা করোনাকালে স্বাধীনতা। দেশ-বিদেশ থেকে অভাবিত সাড়া মিলেছে। চিত্ররসিক, সংগ্রাহকরা এগিয়ে এলেন সমানতালে। দেশবরেণ্য চিত্রশিল্পী, চিত্রসমালোচক, অধ্যাপক প্রমুখ এ শিল্পকর্ম তথা প্রদর্শনী নিয়ে প্রাণখোলা আলোচনা করেন প্রতিদিনই। প্রায় অর্ধশতাধিক শিল্পবোদ্ধা-বক্তা তাঁদের মতপ্রকাশ করেন। অতিথি ও আলোচকদের বক্তব্যগুলি শিল্পী জীবনের জন্য মহামূল্য সম্পদ, সন্দেহ নেই। বলা যায় অসাধারণ এক মূল্যায়ন। শিল্প-সাহিত্যের জন্য সমালোচনা এক বিশেষ আশীর্বাদ। এক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। এ মহান প্রাপ্তিকে কালের গহ্বর থেকে বাঁচিয়ে রাখবেন না কোনজন? শিল্পী মোস্তাফিজুল হক করোনাকালে তাঁর চিন্তা ও দর্শনের যে প্রতিফলন ঘটিয়েছেন, কালের সাক্ষী করেই রাখলেন সে আরাধ্য সংকলন। “বৈশি^ক দুর্যোগের গতিপ্রকৃতি” নামক সংকলনটি তারই ফলজ স্মারক। যা ইতিহাসের পাতায় ভাস্বর হয়ে থাকবে।
এ গ্রন্থ কেনো উল্লেখযোগ্য, তা অনুধাবন করতে হলে বইয়ের ভেতরে দৃষ্টি দিতে হবে। এ অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনী উদ্বোধন করেছিলেন শিল্পীদের শিল্পী অধ্যাপক রফিকুন নবী। তিনি দ্বিধাহীন চিত্তে ঘোষণা করেন, ‘মোস্তাফিজ দেশের শিল্পকলা জগতের অন্যতম শিল্পী। যিনি শিশুচিত্রকলার মাধ্যমে শিশুদের মানস গঠনে উদ্বুদ্ধকারী শিল্পী হিসেবে অত্যন্ত পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্ব।’ (বৈশি^ক দুর্যোগের গতিপ্রকৃতি, পৃষ্ঠা-১৫) অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম শিল্পীর ব্যতিক্রমী কাজের প্রশংসা করে বলেন, ‘মোস্তাফিজের কাজ আমার যে কারণে ভালো লাগে, সবসময়ই চিত্রকর্মে স্বাধীনতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান এবং তাঁর ছবিতে একধরনের নিজস্বতা রয়েছে। তাঁর কাজের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে শৈলীর বলিষ্ঠ প্রকাশ। সে বিমূর্ত-আধা বিমূর্ত ধারা এবং অবয়বধর্মী ছবি আঁকেন। দ্বিতীয়ত তিনি অত্যন্ত নিপুণতার সাথে রঙের ব্যবহার করেন। অনেক সময় তিনি ইচ্ছেকৃতভাবে রঙে রঙে ঝগড়া বাধিয়ে দেন। তাতে রঙের যে রহস্যময় বৈশিষ্ট্য সেগুলো প্রকাশিত হয়।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ১৬) বড় ভাই শিল্পী মাহমুদুল হকের (১৯৪৫-২০২২) অনুপ্রেরণা শিল্পী জীবনের বাঁক তৈরিতে সহায়তা করেছে। ছোট ভাই মোস্তাফিজুল হকের কাজ ও স্টাইল সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘৯০ এর দশকে জাপান সরকারের বৃত্তি নিয়ে সে দেশে যায় এবং সেখানে “নিহঙ্গা” ধারার উপর ৪ বছরের উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে। যেটি জাপানি ধ্রুপদী ধারা হিসেবে পরিচিত। এ ধারা আমাদের দেশে নূতন। সেই ধারায় মোস্তাফিজ বেশ কিছু সুন্দর কাজ আমাদেরকে উপহার দিয়েছে। আমার মনে পড়ে সে সময় তাঁর সেই টোটেম নিয়ে কাজগুলো যথেষ্ট প্রশংসিত হয়েছিল। আমি মনে করি সেই ছবিগুলো সত্যিকার অর্থে বেশ সফল ও গ্রহণযোগ্য। বাংলাদেশে এই ভিন্নতর ধারায় শিল্পকর্ম নির্মাণ তাঁর হাত ধরেই শুরু হয়।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ১৭) শিল্পীর দীর্ঘদিনের বন্ধু শিল্পী নিসার হোসেন বলেন, ‘তাঁর তুলিতে রঙের যে বিচিত্র ব্যবহার সেটা অত্যন্ত প্রশংসার দাবি রাখে। ধীরে ধীরে পর্যায়ক্রমে রঙের যে স্বঘন ব্যবহার, রঙের সাথে রঙের যে বুনন তৈরি করা, তিনি খুবই নিপুণভাবে ও নিষ্ঠার সাথে তা করে থাকেন। এতে তাঁর চিত্রকর্মের ওজন বৃদ্ধি পায় এবং দৃশ্যমান অভিব্যক্তি সমৃদ্ধ হয়। তাঁর ছবির বিষয় নির্বাচনে দেখা যায়- আশেপাশের অতিচেনা চাক্ষুষ জগৎ যেমন জীবজন্তু, পশু-পাখি নিয়েই সব আয়োজন ও বিন্যাস। সাধারণ বিষয়বস্তু কি করে শিল্পগুণে অসাধারণ হয়ে উঠে তা তাঁর সৃষ্টির একটি বড়গুণ।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ১৮)। শিল্পী জামাল উদ্দিন আহমেদ জাপানের শুকুবা ইউনিভার্সিটিতে শিল্পী মোস্তাফিজুল হকের সহপাঠী ছিলেন। দুজনই এখন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সহকর্মী। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁর চিত্রকর্মগুলো দেখেছি, সেগুলোর গুণগত মান বেশ ভালো। বোল্ড লাইন, টেকচার এবং খুবই সুন্দর রঙের ব্যবহার। আমি মনে করি তাঁর আঁকা শিল্পকর্মগুলো সকলেরই ভালো লাগবে।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ১৯) শিল্পী মলয় বালার কথাটি তার সম্পর্কে আরো প্রাসঙ্গিক মনে হয়। তিনি বলেন, ‘শক্তি ও সামর্থ্যে জীবনকে উদ্যাপন ও উপভোগ করার সাহস তাঁর চরিত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তাঁর মতো বুকেরপাটা উঁিচয়ে উচ্চহাসি কজনই বা হাসতে পারেন আমাদের চারুকলায়!’ (পৃষ্ঠা ২১) ভাস্কর ও শিল্পী হামিদুজ্জামান খান বলেন, ‘শিল্পী মোস্তাফিজুল হক নানাগুণে গুণান্বিত। তিনি এদেশের প্রতিষ্ঠিত চিত্রশিল্পী। এ মহামারিতেও অদম্য সাহসী শিল্পী মোস্তাফিজ একক চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ। তাঁর চিত্রকর্মে কারোনাকালীন গতিপ্রকৃতি ও অন্যান্য প্রাণীর স্বাধীনতার অভিব্যক্তি সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে। তাঁর চিত্রকর্মে প্রাণের স্পন্দন পাওয়া যায়, এখানেই তাঁর স্বার্থকতা।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ২২) স্থপতি ও শিল্পী মুস্তাফা খালীদ পলাশ বলেন, ‘এ প্রদর্শনী একটি দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। চাইলেই আমরা স্বশরীরে উপস্থিত না হয়েও অনলাইনে ভার্চুয়ালি প্রদর্শনীটি উপভোগ করতে পারি।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ২৩) শিল্পী সৈয়দ আবুল বারক আলভী বলেন, ‘তাঁর একটা বড়গুণ ছিল শিক্ষকতা পেশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি নিজের অন্যান্য কাজগুলো চালিয়ে নিতে পারতেন। নিয়মিত শিল্পচর্চার পাশাপাশি ছোটদের ছবি আঁকার স্কুল থেকে শুরু করে বড়দের জন্য সংস্কৃতিবান্ধব-সৃজনশীল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি চারুকলায় বিভিন্ন সংগঠন এবং নানামুখী কর্মকা-ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর কর্মনিষ্ঠা ও সাংগঠনিক যোগ্যতার কারণে নিজ বিভাগ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ও তাঁকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে থাকে।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ২৫) বিশ^বিদ্যালয়ের সহকর্মী শিল্পী মোহাম্মদ ইউনূস বলেন, ‘আমাদের শিল্পীদের পক্ষ থেকে চারুকলার বরেণ্য চিত্রশিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক লকডাউনের মধ্যে ঘরে বসে এমন কিছু দুর্লভ চিত্র এঁকেছেন, যা এ মহাদুর্যোগের গতিপ্রকৃতি ও এর বিরুদ্ধে মানুষের রুখে দাঁড়াবার সাহসকে ইঙ্গিত করে। চিত্রগুলো স্পষ্টই বলে দিচ্ছে এ মুহূর্তে আমাদের কী করণীয় এবং কীভাবে আমরা এ অদৃশ্য দুর্যোগ মোকাবেলা করবো।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ২৬) অগ্রজ শিল্পী ও সহকর্মীর কাজ সম্পর্কে শিল্পী শিশির ভট্টাচার্য বলেন, ‘তাঁর আঁকা জলরঙ এখনও আমার চোখে লেগে আছে।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ২৮) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের ছেলে প্রকৌশলী ময়নুল আবেদিন। শিল্পীর সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে বলেন, ‘মোস্তাফিজ একজন চিত্রশিল্পীর পাশাপাশি তিনি একজন গায়কও বটে। ভালো রবীন্দ্রসংগীত করেন তিনি। মোস্তাফিজের ছবির মতো গায়কীও অতুলনীয়। একদা মোস্তাফিজ আমার স্ত্রীকে একটা গানের সিডি দিয়েছিল, প্রায়শই সে বেশ মনোযোগ সহকারে তা শোনে। ব্যক্তি মোস্তাফিজ অনেক ভালো এবং সুদর্শন একজন মানুষ। বহুগুণে গুণান্বিত মানুষটি একজন বড় মাপের চিত্রশিল্পী, সংগীতশিল্পী এবং দক্ষ সংগঠক।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ২৯) উদীয়মান শিল্পী সুমন ওয়াহিদ বলেন, ‘মোস্তাফিজুল হকের কাজে আগেও আমরা জীব-জগতের নানা ধরনের বাসিন্দা মোরগ, ঘোড়া ইত্যাদির উপস্থিতি লক্ষ্য করি। এ পর্বে মোরগ, ঘোড়ার সাথে যুক্ত হতে দেখি কাক, শকুন, চিলের অবয়বকে। এখানে একধরনের অশুভ শক্তি বা অশনি সংকেত শিল্পী বোধ করছেন, যা বিরুদ্ধ সময়ের বার্তা বহন করে। আবার লড়াকু মোরগ বা তেজস্বী ঘোড়ার মাধ্যমে একধরনের সম্ভাবনাকেও আমরা আবিষ্কার করতে পারি। তাঁর কাজের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো বিমূর্ততার মাধ্যমে মূর্ততায় চলে আসা। পাশাপাশি মূর্ততার ভেতর দিয়ে বিমূর্ততায় মিশে যাবার একটি প্রবণতা তাঁর কাজে পরিলক্ষিত হয়।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৩০) শিল্পী শেখ আফজাল হোসেন বলেন, ‘করোনাকালে আঁকা তাঁর চিত্রকর্মগুলোর মোটিভ চলমান প্যান্ডামিকের বিভিন্ন বার্তা বহন করে মানুষকে সচেতন ও মানবিক হতে উদ্বুদ্ধ করছে। নতুন মাধ্যমে এ চিত্রপ্রদর্শনী কীভাবে আয়োজন করা হলো, কীভাবে মানুষ দেশ-বিদেশ থেকে বিপুল সাড়া দিলো, চিত্রকর্মগুলি কীভাবে বিক্রি হলো, এ সবই শিক্ষণীয়।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৪৫) ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আজিজুল হক শিল্পীর চিত্রকর্মের ভেতর দিয়ে সমাজের সুবিধাবাদীদের মুখোশ খুলে গেছে বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন- ‘ছবিগুলোর মধ্যে একধরনের বলিষ্ঠ অবয়ব ফুটে উঠেছে। এ যে প্রাণময়তা, গতিশীলতা ও বলিষ্ঠতার মধ্যে মাথা উঁচু করে সমস্ত বিপদ তথা দুর্যোগকে মোকাবেলা করার মতো যে শক্তি ও সাহস তিনি সঞ্চার করেছেন, প্রদর্শিত চিত্রকর্মগুলির দিকে তাকালে তার প্রমাণ মেলে। মোস্তাফিজুল হকের চিত্রকর্মে স্বাস্থ্যবান শকুনের উপস্থিতি আমাদের সমাজের সুবিধাবাদীদের মুখ ও মুখোশ উন্মোচন করে।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৪৮) রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী লিলি ইসলাম বলেন, ‘তিনি একজন প্রকৃত শিল্পীর আদল, সংগীতপ্রেমী ও আপাদমস্তক একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। একজন শিল্পীর যে মানবিক গুণাবলি থাকা প্রয়োজন, এর সবটুকু নিয়েই তিনি হয়ে উঠেছেন একজন পরিপূর্ণ মানুষ।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৫২) শিল্পী ড. ফরিদা জামান বিভাগীয় শিক্ষক মোস্তাফিজুল হক সম্পর্কে বলেন, ‘শিল্পী মোস্তাফিজুল হককে আমরা সবাই জানি, তিনি মোস্তাফিজ শুধু ছবিই আঁকেন না, ভালো গানও করেন এবং ভালো সংগঠকও বটে। তাঁর পরিচালিত শিশুচিত্রকলা একাডেমিগুলো এর একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৫৪) শিল্পী মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘চার দশকের অধিক সময় ধরে বাংলাদেশের শিশুচিত্রকলা নিয়ে তিনি নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন। তিনি হালের আধুনিক বা উত্তরাধুনিকতার ডামাঢোলে গা না ভাসিয়ে, দেশমাতৃকার প্রতি উৎসর্গিত শিল্পী বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার আলোকে চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেন।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৫৫) শিল্পী মোস্তাফিজুল হক সম্পর্কে শিল্পী নাসরীন বেগম বলেন, ‘অত্যন্ত ব্যস্ত মানুষ হয়েও দীর্ঘ এ প্যান্ডামিক মুহূর্তকে জয় করেছেন তিনি সৃষ্টিশীল এ কাজের মাধ্যমে। হতাশা থেকেই যে সফলতার জন্ম সেটা তাঁর তুলির আঁচড়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৬৯) অভিনেতা ও শিল্পী আফজাল হোসেন বলেন, ‘শিল্পী মূলত প্রাণীদের নিয়ে চিত্রকর্মগুলো এঁকেছেন, যা করোনা ভয়াবহতার রূপকঅর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কিন্তু চিত্রকর্মগুলো দেখে মনে হয় প্রতিটি প্রাণীর নিজস্ব গড়নের মধ্যে যে অর্থদ্যোতনা আছে, শিল্পী সেটিকেই বিষয়বস্তু হিসেবে গ্রহণ করেছেন। এ প্রাণীদের যে নিজস্ব গড়ন, শিল্পী রেখার মাধ্যমে তা আবিস্কার করেছেন।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৭০) শিল্পসমালোচক তকির হোসেন বলেন, ‘শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক ৮০ দশকের একজন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী। শিল্পকলার জগতে তিনি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। মোস্তাফিজের চিত্রকর্ম মানেই জীবজন্তু, পশুপাখি ও সবুজ শ্যামলিমা। তাঁর ছবির বিষয়বস্তুর মধ্যে নস্টালজিয়া, নদী ও গ্রামীণ জীবন উল্লেখযোগ্য। তাঁর চিত্রকর্মে মনোবীক্ষণ ও মানবিক সচেতনতার আহ্বানই প্রবল। করোনাকালে তিনি এমন কিছু দুর্লভ চিত্রকর্ম সৃষ্টি করেছেন, যা লোভী মানুষের লোলুপ দৃষ্টিকে মোরগের লড়াই ও শকুনের রূপক দিয়ে স্পষ্ট করা হয়েছে।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৭১) কণ্ঠশিল্পী কৃষ্ণকলি তাঁর উপলব্দির কথা বলেন এভাবে, ‘আমি মনে করি এ সময়ে এমন একটি প্রদর্শনী খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থবহ। ব্যক্তি মোস্তাফিজ ভাই অত্যন্ত পরোপকারী একজন মানুষ। কেউ বিপদগ্রস্ত বা ঝামেলায় আছে জানলে তাকে সবসময় তিনি সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। তিনি নিঃস্বার্থভাবে এগিয়ে আসেন এবং সাহায্যের হাত প্রসারিত করেন।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৭৪) চিত্রশিল্পী নাসিম আহমেদ নাদভী বলেন, ‘আমি দেখেছি মোস্তাফিজ লক্ষ্যহীনভাবে কিছু করে না। সুনির্দিষ্ট একটি লক্ষ্য নিয়ে সে সব কাজ করে এবং তাতে সফল হয়। এটা তার একটি বিরাট গুণ।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৭৫) স্থপতি হোসনে আরা রহমান বলেন, ‘তাঁর চিত্রকর্মে বিভিন্ন পশু-পাখির উপস্থিতি আমাকে মুগ্ধ করেছে। এ অস্থির সময়ে তাঁর নান্দনিক ও দুর্লভ চিত্রকর্মগুলো আমাদের আন্দোলিত করেছে। পাখিদের উড়ে যাওয়ার চিত্রগুলো আমাদের মনের প্রতিচ্ছবি। যা এ বন্দীদশা থেকে আমাদেরকেও পাখির মতো ডানা মেলে মুক্ত হবার পথ বাতলে দেয়।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৭৬) শিল্পী সামিনা নাফিস বলেন, ‘তিনি আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছেন, “মানুষ মানুষের জন্য”। (ঐ, পৃষ্ঠা ৭৭) শিল্পী দেওয়ান মিজান শিল্পীর দক্ষতা ও প্রবণতা সম্পর্কে বলেন, ‘পৃথিবীর এ দাহকালে আমাদের জীবনযাত্রায় যুক্ত হয়েছে মানবিক টানাপোড়েন, ঠিক তখন ত্রাতা হয়ে এলেন শিল্পী মোস্তাফিজুল হক। হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালার মতো ঝুলি থেকে নামালেন বিস্ময়কর সব চিত্রকর্ম, যার অনুরণন ছড়িয়ে পড়লো করোনা-বিহ্বল মানুষের মাঝে। বিরুদ্ধ বাতাসে ঘুরে দাঁড়াবার এই যে সাহস এবং দ্রোহ, তারই শিক্ষা মিলেছে এ সকল চিত্রকর্মে। যেমন, মোরগের লড়াই করবার উল্লম্ফন ভঙ্গিটি তাঁর চিত্রকর্মে প্রতি আক্রমণের রূপক হিসেবে এসেছে, যা এ নিদানকালে আমাদের সচেতন এবং সক্রিয় করে তুলেছে। তাঁর তেজোদীপ্ত ঘোড়ার রাজসিক চলনভঙ্গি অথচ যন্ত্রবত অবকাঠামো যেনো এই সময়কে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে আছে।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৭৮) শিক্ষকের শিল্পকর্ম দেখে শিল্পী কায়কোবাদ রানা ফ্ল্যাশব্যাকে চলে যান। তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হকের চিত্রকর্মগুলি দেখলে আমার ফিউচারিস্ট আর্টিস্টদের কথা মনে পড়ে, স্যারের কাজের লাইন ও রঙের ব্যবহার আমাকে গিয়াকোমো বালা ও উম্বার্ত বসিয়নীদের কথা মনে করিয়ে দেয়। তিনি বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের সৃজনশীল শিক্ষা এবং ডিজাইন শিক্ষার পথিকৃৎ। ছাত্রবান্ধব শিক্ষক এবং একজন মহান চিত্রকর হিসেবেও শ্রদ্ধেয়।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৮৪) অধ্যাপক আবদুস শাকুর শাহ বলেন, ‘দুর্যোগে শিল্পীদের ভূমিকা কী হতে পারে শিল্পী মোস্তাফিজুল হক করে দেখিয়েছেন। বিরাট এ কাজের জন্য শিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে আমি আমার সহকর্মী বরেণ্য এ শিল্পীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৮৫) শিল্পসমালোচক অধ্যাপক মঈনুদ্দীন খালেদ শিল্পী মনের কথা বলেন এভাবে, ‘বিষয়ের গভীরতাকে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেই শিল্পী একটি দার্শনিক ভাবনার জন্ম দিয়েছেন। মানবিক এ বিপর্যয়কে এ সিরিজের মাধ্যমে তিনি প্রামাণ্য করে রেখেছেন। শিল্পী উপরিতলের সৌন্দর্যকে পরিহার করে ক্যানভাস সাজিয়েছেন। খুব কমসময়ে তিনি অনেকগুলো ছবি আমাদের উপহার দিয়েছেন। আমাদের চিত্রকলার জন্য এটি সুসংবাদ, শিল্পীর সামাজিক দ্বায়বদ্ধতার দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি প্রশংসার দাবিদার।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৮৮) চিত্রশিল্পী ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম আলোর কথা বলেন। ‘শিল্পই মানুষকে আলোর পথ দেখায়। একটি আলোকিত প্রজন্ম তৈরিতে শিল্পের অবদান-ভূমিকা অনস্বীকার্য। গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়কে প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে তুলে ধরেছেন শিল্পী মোস্তাফিজুল হক।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৯০) শিল্পী মো. মনিরুজ্জামান অল্পকথায় বুঝিয়ে দিলেন যে, ‘সব বাধাই কাজের স্পৃহার কাছে নস্যি, সেটা আবার প্রমাণ করলেন মোস্তাফিজ ভাই।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৮৯) অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী বলেন, ‘তাঁর চিত্রকর্মের নিজস্ব কিছু ভঙ্গি আছে, আছে নিজস্ব কিছু করণকৌশল। সেভাবেই তাঁর চিত্রকর্মগুলো সৃষ্টি হয়েছে। সকল দুর্যোগেই অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হকের অগ্রণী ভূমিকা ছিল, আছে। এ করোনাকালেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৪৬) তরুণ শিক্ষক আরাফাত হোসেন বলেন, ‘শিল্পী মোস্তাফিজুল হকের চিত্রকর্মে দেখা যায় অভিব্যক্তিবাদ এবং আধুনিক ধারার একটি চমৎকার মিশেল। তাঁর চিত্রকর্মে রয়েছে ফর্ম, রূপ, রেখা ও টেকচারের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।’ (ঐ, পৃষ্ঠা ৫৩) শিল্পী মোঃ মাইদুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাঁর তুলির আঁচড়ের যে শক্তিমত্তা, তা আমাদের ভেতরে অমিয় তেজ এবং দ্রোহের জন্ম দেয়। এ বিপদে ও দুর্যোগে স্বতঃস্ফূর্ত হয়ে সংগ্রামী ভূমিকা নিয়ে বেঁচে থাকার প্রেরণা জোগায়।’ (পৃষ্ঠা ৪৪) এ তালিকা দীর্ঘ করা যায়। পাঠকের ধৈর্যচ্যুতির ভয়ে এখানে শেষ করছি।
শিল্পীর মুখে কিছু কথা শুনতে চাই। ‘বৈশি^ক দুর্যোগের গতিপ্রকৃতি : প্যান্ডামিক মুড’ শিরোনামে অনলাইন প্রদর্শনীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে শিল্পী বলেন, ‘আমার চিন্তা-চেতনায়ও মৃত্যুভয় এবং অজানা আতঙ্ক ভর করেছে। আর এসব বিষয় আমার ছবির ভেতর দিয়ে প্রকাশ পেতে থাকে। বিশেষ করে শকুনের, চিলের এবং কাক সিরিজের কাজগুলির মধ্যে এ মহামারির প্রকাশ স্পষ্ট হয়ে উঠে। করোনার তা-বে দেশে দেশে মানুষেরা ঘরের ভেতরেই লুকিয়ে গেছে। আর জীবজন্তুগুলো নির্ভয়ে বেরিয়ে আসে রাস্তায়। কী অদ্ভুত বিষয়! প্রকৃতির প্রতি মানুষের নির্দয় আচরণে জীবজন্তুগুলো প্রায়শ লুকিয়েই থাকতো। পৃথিবীতে মানুষই কেবল রাজত্ব করতো কিন্তু করোনাকালে আমাদের একটা ভিন্নচিত্র আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। মানুষেরা ঘরের খাঁচায় বন্দী আর জীবজন্তুগুলো বাইরে নির্বিকার ঘুরে বেড়াচ্ছে!’ (মোস্তাফিজুল হক, ভূমিকা)
২০২০ সালের মধ্য মার্চ থেকে করোনাকালের ছবি আঁকতে শুরু করেন শিল্পী। প্রায় আড়াই মাস চলে আঁকাআকি। একদিন শিল্পীর বন্ধু ও আত্মীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ইমামুল কবীর শান্ত পরলোক গমন (৩০ মে ২০২০) করেন। বইটি তাঁকেই উৎসর্গ করা হয়। বইয়ের শুরুতে শিল্পী পরিচিতি স্থান পায়। এর ভূমিকায় অনলাইন চিত্রপ্রদর্শনী ও গ্রন্থনা সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ দিয়েছেন শিল্পী। বইটির বিশেষত্ব হচ্ছে সাবলীল উপস্থাপনা ও সুচারু সম্পাদনা। আলোচক-সমালোচকদের বক্তব্যের অনুলিখন করে রচনাগুলি উপস্থাপিত হয়। এর প্রমিত বানান ও বাক্যগঠন যেকোনো পাঠককে আকর্ষণ করবেই। মোট ৩৪টি শিল্পকর্ম তিনটি গ্যালারির মাধ্যমে উপস্থাপিত হয়েছে। এছাড়াও শিল্পীজীবনের নানাদিক সংক্ষিপ্তাকারে বিবৃত হয়েছে গ্রন্থের শেষভাগে। ব্যক্তিগত, পারিবারিক এবং শিল্পকর্ম প্রদর্শনসহ নানা অনুষ্ঠানের ছবি গ্রন্থটিকে পূর্ণতা দিয়েছে। বইটি প্রকাশিত হয়েছে দেশের অন্যতম সৃজনশীল বিশ^বিদ্যাপীঠ শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি, ঢাকা থেকে। ১৩২ পৃষ্ঠার বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ৫০০ টাকা। গ্রন্থটি করোনাকালের প্রামাণ্য নিদর্শন ও দলিল। করোনাকালের ছবি নিয়ে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো অনলাইন প্রদর্শন ও গ্রন্থ-আয়োজনের জন্য শিল্পী অধ্যাপক মোস্তাফিজুল হক-এর অভিনন্দন প্রাপ্য।
লেখক : শিক্ষক, শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি।
শিল্পী মোস্তাফিজুল হক-এর কারোনাকালের দলিল :বৈশি^ক দুর্যোগের গতিপ্রকৃতি
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ