নিজস্ব প্রতিবেদক: গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেছেন, শিক্ষকদের জন্য আলাদা স্বতন্ত্র বেতন স্কেল বাস্তবায়ন করতে হবে। শিক্ষকদের বেতনসহ অন্যান্য মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।
শনিবার (৩০ আগস্ট) দুপুরে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবি আদায়ে ডাকা মহাসমাবেশে একাত্মতা জানিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, যে কোনো দেশের উন্নতির জন্য শিক্ষা প্রধান মাধ্যম। এ দেশের মানুষ আশা করেছিল তারা সমান সুযোগ সুবিধা পাবে। একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কায়েম হবে। তবে স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও বেতন-ভাতা ও মর্যাদার জন্য শিক্ষকদের রোদে পুড়ে, পুলিশের লাঠিচার্জ খেয়ে আন্দোলন করতে হয়। এটা লজ্জাজনক।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার বুনিয়াদ। এটিকে গুরুত্ব না দিলে শিক্ষার মেরুদণ্ড ভঙ্গুর হয়ে যায়। কাজেই আমাদের প্রাথমিক শিক্ষায় আলাদা করে গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবি মেনে নিতে সরকারকে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন দিয়ে তাদের সংসার চলে না। শিক্ষকরা যদি শিক্ষায় মনোনিবেশ না করতে পারেন তাহলে তারা কীভাবে শিশুদের শিক্ষা দেবেন?
শনিবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্যদিয়ে প্রাথমিকের শিক্ষকদের মহাসমাবেশ শুরু হয়। তিন দফা দাবিতে প্রাথমিক শিক্ষকদের ছয়টি পৃথক সংগঠনের মোর্চা ‘সহকরী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ’ শহীদ মিনারের এ মহাসমাবেশ আয়োজন করেছে।
মহাসমাবেশে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে শিক্ষকদের দাবির প্রতি একাত্মতা জানাচ্ছেন।
শিক্ষকদের দাবিগুলো হলো- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে এন্ট্রি পদ সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন-ভাতা দেওয়া, শতভাগ শিক্ষককে পদোন্নতি এবং ১০ ও ১৬ বছরপূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির জটিলতা নিরসন।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌনে ৪ লাখেরও বেশি শিক্ষক কর্মরত। তাদের মধ্যে প্রধান শিক্ষকদের বর্তমান বেতন গ্রেড দশম। এছাড়া সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড ১৩তম।
এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৫