ঢাকা ০৪:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

রিকশাচালক থেকে শত কোটি টাকার মালিক এরশাদ কারাগারে

  • আপডেট সময় : ০২:২৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলতো মো. এরশাদ আলীর জীবন। থাকতেন রাজশাহী মহানগরীতে। এক সময় বনে যান রিকশাচালকদের সর্দার। এরপর অবৈধভাবে পদ্মার বালু উত্তোলন, বিভিন্ন প্রকল্পে পাথর সরবরাহসহ নানা উপায়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যান। শুধু তাই নয়, বেসরকারি এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মামলাও হয়। সেই মামলায় এরশাদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন হাইকোর্ট। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। জামিন চেয়ে করা আবেদন শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজহারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর আসামির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শেখ মো. জাকির হোসেন।
আইনজীবী জানান, আগাম জামিন নিতে এলে আদালত জামিন না দিয়ে সরাসরি শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন এরশাদকে। তিনি এখন কারাগারে।
২০২০ সালের ৮ জুন এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলাটি হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। মামলায় এরশাদ আলীসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন এবি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এবিএম আবদুস সাত্তার, সাবেক এসভিপি রিলেশনশিপ ম্যানেজার ইসলামী ব্যাংকিং শাখা আবদুর রহিম, আনিসুর রহমান, একই শাখার ভিপি শহিদুল ইসলাম, এভিপি রুহুল আমিন, এবি ব্যাংকের সাবেক এমডি মসিউর রহমান, শামীম আহমেদ চৌধুরী, ইভিপি ও হেড অব সিআরএম ওয়াসিক আফরোজী, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান (স্বপন), সাবেক এসইভিপি সালমা আক্তার, সাবেক এভিপি এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, এসভিপি শামীম-এ-মোরশেদ, ভিপি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক ভিপি ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য মাহফুজ-উল-ইসলাম।
‘এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনে’র মালিক এরশাদ আলী। এছাড়া এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যানও তিনি। গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরশাদ আলীর ভাই আমিনুল ইসলামের সম্পদেরও অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, পদ্মা সেতু প্রজেক্টের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের নাম করে ছয়টি জাল ওয়ার্ক অর্ডার এবং সাতটি ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে এবি ব্যাংকের কাকরাইল শাখা থেকে ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন এরশাদ আলী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এ ঋণের ক্ষেত্রে শাখা ব্যবস্থাপকসহ প্রধান কার্যালয়ের সঠিক তদারকি ছিল না।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিকশাচালক থেকে শত কোটি টাকার মালিক এরশাদ কারাগারে

আপডেট সময় : ০২:২৯:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২

নিজস্ব প্রতিবেদক : রিকশার প্যাডেল ঘুরিয়ে চলতো মো. এরশাদ আলীর জীবন। থাকতেন রাজশাহী মহানগরীতে। এক সময় বনে যান রিকশাচালকদের সর্দার। এরপর অবৈধভাবে পদ্মার বালু উত্তোলন, বিভিন্ন প্রকল্পে পাথর সরবরাহসহ নানা উপায়ে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক হয়ে যান। শুধু তাই নয়, বেসরকারি এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে মামলাও হয়। সেই মামলায় এরশাদকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন হাইকোর্ট। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক। জামিন চেয়ে করা আবেদন শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কাজী মো. ইজহারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। আর আসামির পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট শেখ মো. জাকির হোসেন।
আইনজীবী জানান, আগাম জামিন নিতে এলে আদালত জামিন না দিয়ে সরাসরি শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন এরশাদকে। তিনি এখন কারাগারে।
২০২০ সালের ৮ জুন এরশাদ আলীর বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এবি ব্যাংকের ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে মামলাটি হয়। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ এ মামলা করেন কমিশনের উপ-সহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। মামলায় এরশাদ আলীসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
অন্য আসামিরা হলেন এবি ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক এবিএম আবদুস সাত্তার, সাবেক এসভিপি রিলেশনশিপ ম্যানেজার ইসলামী ব্যাংকিং শাখা আবদুর রহিম, আনিসুর রহমান, একই শাখার ভিপি শহিদুল ইসলাম, এভিপি রুহুল আমিন, এবি ব্যাংকের সাবেক এমডি মসিউর রহমান, শামীম আহমেদ চৌধুরী, ইভিপি ও হেড অব সিআরএম ওয়াসিক আফরোজী, মুফতি মুস্তাফিজুর রহমান (স্বপন), সাবেক এসইভিপি সালমা আক্তার, সাবেক এভিপি এমারত হোসেন ফকির, সাবেক প্রিন্সিপাল অফিসার তৌহিদুল ইসলাম, এসভিপি শামীম-এ-মোরশেদ, ভিপি খন্দকার রাশেদ আনোয়ার, এভিপি সিরাজুল ইসলাম ও সাবেক ভিপি ও ক্রেডিট কমিটির সদস্য মাহফুজ-উল-ইসলাম।
‘এরশাদ ব্রাদার্স করপোরেশনে’র মালিক এরশাদ আলী। এছাড়া এরশাদ গ্রুপের চেয়ারম্যানও তিনি। গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরশাদ আলীর ভাই আমিনুল ইসলামের সম্পদেরও অনুসন্ধান করছে দুদক। অভিযোগ রয়েছে, পদ্মা সেতু প্রজেক্টের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি ও সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের নাম করে ছয়টি জাল ওয়ার্ক অর্ডার এবং সাতটি ভুয়া ব্যাংক গ্যারান্টির মাধ্যমে এবি ব্যাংকের কাকরাইল শাখা থেকে ১৭৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন এরশাদ আলী। মামলার এজাহার অনুযায়ী, এ ঋণের ক্ষেত্রে শাখা ব্যবস্থাপকসহ প্রধান কার্যালয়ের সঠিক তদারকি ছিল না।