ঢাকা ০৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

রাশিয়া-ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্র উত্তেজনা: নেপথ্যের হিসাব-নিকাশ

  • আপডেট সময় : ০৭:৫২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক ঘটনা মাঠে নয়, বরং আকাশে চলছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মাঝারিপাল্লার পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়া দাবি করেছে, তারা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। যদিও এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছাড়া নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় শহর ডনিপ্রোতে কোনও বড় ক্ষতি হয়নি। তবে, এটি একটি সপ্তাহব্যাপী পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহার করেছে ইউক্রেন। রুশ হামলা মূলত পশ্চিমা সামরিক সহায়তার ওপর চাপ সৃষ্টি করার হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তা: সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো রণক্ষেত্রের লড়াইয়ে তেমন প্রভাব ফেলছে না। বরং, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। ইউক্রেন একটি শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে চাইছে, আর রাশিয়া পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বাড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথগ্রহণের আগে রাশিয়ার এই পদক্ষেপগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিন আমাদের জানুয়ারির ২০ তারিখের আগে বিতাড়িত করতে চান। এটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রমাণ যে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফল: রাশিয়ার পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইউক্রেন দাবি করে, হামলায় খুব কমই ক্ষতি হয়েছে। ডনিপ্রোতে তৈরি হওয়া ছোট আকারের গর্ত প্রমাণ করে, ক্ষেপণাস্ত্রটি হয়তো কেবল একটি দেখানোর জন্য হামলা ছিল। ইউক্রেনের পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কমিটির প্রধান রোমান কস্টেনকো বলেন, এটি সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এদিকে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম নয়। জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
উত্তর কোরীয় সেনাদের ভূমিকা ও পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া: উত্তর কোরিয়া থেকে প্রায় ১১ হাজার সেনা রাশিয়ায় মোতায়েনের পর পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির লক্ষণ বলে অভিহিত করেছে। এই পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আমেরিকান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এটিএসিএমএস ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যুক্তরাজ্যও তাদের স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত পরিমাণ এটিএসিএমএস সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের এক মুখপাত্র জানান, তারা রাশিয়ার হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তবে, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি: ইউক্রেনীয় বাহিনী বর্তমানে রণক্ষেত্রে চাপে রয়েছে। রাশিয়ার সেনারা পূর্বাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো ঘিরে ফেলছে এবং দখল নিশ্চিত করার চেষ্টায় রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন যদি নতুন সেনা মোতায়েনের ব্যবস্থা না করে, তবে ফ্রন্টলাইন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যুদ্ধের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেছেন, আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আর কোনও পথ নেই। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস

 

 

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

রাশিয়া-ইউক্রেন ক্ষেপণাস্ত্র উত্তেজনা: নেপথ্যের হিসাব-নিকাশ

আপডেট সময় : ০৭:৫২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের সাম্প্রতিক ঘটনা মাঠে নয়, বরং আকাশে চলছে। বৃহস্পতিবার রাশিয়ার মাঝারিপাল্লার পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এই উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের নেতৃত্বাধীন রাশিয়া দাবি করেছে, তারা পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম একটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে। যদিও এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড ছাড়া নিক্ষেপ করা হয়েছে। এই হামলায় ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় শহর ডনিপ্রোতে কোনও বড় ক্ষতি হয়নি। তবে, এটি একটি সপ্তাহব্যাপী পাল্টাপাল্টি হামলার ধারাবাহিকতা ছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের সরবরাহ করা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার অভ্যন্তরে ব্যবহার করেছে ইউক্রেন। রুশ হামলা মূলত পশ্চিমা সামরিক সহায়তার ওপর চাপ সৃষ্টি করার হুমকি বলে মনে করা হচ্ছে।
সামরিক নয়, রাজনৈতিক বার্তা: সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র হামলাগুলো রণক্ষেত্রের লড়াইয়ে তেমন প্রভাব ফেলছে না। বরং, এগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য পূরণের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। ইউক্রেন একটি শক্তিশালী অবস্থান অর্জন করে যুদ্ধবিরতির আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে চাইছে, আর রাশিয়া পরমাণু যুদ্ধের হুমকি বাড়িয়ে উত্তেজনা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের শপথগ্রহণের আগে রাশিয়ার এই পদক্ষেপগুলো বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিন আমাদের জানুয়ারির ২০ তারিখের আগে বিতাড়িত করতে চান। এটি তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রমাণ যে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন।
ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফল: রাশিয়ার পরীক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর ইউক্রেন দাবি করে, হামলায় খুব কমই ক্ষতি হয়েছে। ডনিপ্রোতে তৈরি হওয়া ছোট আকারের গর্ত প্রমাণ করে, ক্ষেপণাস্ত্রটি হয়তো কেবল একটি দেখানোর জন্য হামলা ছিল। ইউক্রেনের পার্লামেন্টের প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা কমিটির প্রধান রোমান কস্টেনকো বলেন, এটি সামরিক নয়, বরং রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। এদিকে, ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এমন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে সক্ষম নয়। জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের কাছে নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন।
উত্তর কোরীয় সেনাদের ভূমিকা ও পশ্চিমা প্রতিক্রিয়া: উত্তর কোরিয়া থেকে প্রায় ১১ হাজার সেনা রাশিয়ায় মোতায়েনের পর পশ্চিমা দেশগুলো এটিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির লক্ষণ বলে অভিহিত করেছে। এই পদক্ষেপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে আমেরিকান ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এটিএসিএমএস ব্যবহারের অনুমতি দেয়। যুক্তরাজ্যও তাদের স্টর্ম শ্যাডো ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে পর্যাপ্ত পরিমাণ এটিএসিএমএস সরবরাহ করতে পারছে না। বর্তমানে ইউক্রেনের হাতে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা রাশিয়ার সামরিক সরঞ্জামকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতরের এক মুখপাত্র জানান, তারা রাশিয়ার হুমকিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। তবে, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন অব্যাহত থাকবে।
রণক্ষেত্রের পরিস্থিতি: ইউক্রেনীয় বাহিনী বর্তমানে রণক্ষেত্রে চাপে রয়েছে। রাশিয়ার সেনারা পূর্বাঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলো ঘিরে ফেলছে এবং দখল নিশ্চিত করার চেষ্টায় রয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেন যদি নতুন সেনা মোতায়েনের ব্যবস্থা না করে, তবে ফ্রন্টলাইন ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। যুদ্ধের এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জেলেনস্কি বলেছেন, আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আর কোনও পথ নেই। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস