ঢাকা ১০:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

রাত জেগে, জাঙ্ক ফুড খেয়েও সুস্থ তিনি, বয়স ১০১

  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

প্রত্যাশা ডেস্ক: সুস্থ জীবনযাপনের প্রচলিত কোনো নিয়ম তিনি মানেননি। গভীর রাত পর্যন্ত টেলিভিশন দেখেছেন, মধ্যরাতে জাঙ্ক ফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে খিদে মিটিয়েছেন। এত সব ‘অনিয়ম’ সত্ত্বেও ১০১ বছর বয়সেও দিব্যি সুস্থ আছেন তিনি। চীনের এই নারীর সব দাঁতও এখনো অক্ষত।

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর ওয়েনঝৌয়ের বাসিন্দা ওই নারীর নাম জিয়াং ইউয়েছিন। তার সাত সন্তানের মধ্যে একজনের নাম ইয়াও সংপিং। সম্প্রতি ইয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের জীবনযাপনের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন। এরপরই জিয়াংয়ের দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াং প্রতিদিন রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত টেলিভিশন দেখেন। এত রাতে ঘুমালেও তার ঘুম ভাঙে সকাল ১০টার দিকে। প্রাত্যহিক কাজ শেষে এক কাপ কড়া সবুজ চা দিয়ে দিনের শুরু করেন তিনি। মেয়ে ইয়াও জানান, দেরিতে ঘুমালেও তাঁর মায়ের ঘুম গভীর ও আরামদায়ক।

প্রায় দুই বছর আগে এ ধরনের জীবনযাপন শুরু করেন জিয়াং। সে সময় এক দুর্ঘটনায় তার হাতে চোট লাগে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়। সুস্থ হয়ে উঠতে পরিবারের সদস্যরা তাকে গৃহকর্ম থেকে বিরত রাখেন। দিনের বেলায় কাজ কমে যাওয়ায় তিনি বেশি ঘুমাতে শুরু করেন। এর ফলেই ধীরে ধীরে রাত জাগার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

বর্তমানে জিয়াং সকালে নাশতার বদলে ব্রাঞ্চ—অর্থাৎ সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার একসঙ্গে খান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাতের খাবার খান। প্রয়োজন হলে রাত নয়টার দিকে আবার নাশতা করেন। ওয়েনঝৌয়ের স্থানীয় পেস্ট্রি ‘মাতিসং’ তাঁর প্রিয়। এ ছাড়া বিস্কুট, চিপস, শাকিমা ও শুকনা মিষ্টি আলুর নাশতাও তিনি পছন্দ করেন। বয়স ১০০ পেরোলেও জিয়াংকে কখনো দাঁতের চিকিৎসা নিতে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ধীরে ও স্বচ্ছন্দে সব খাবার চিবিয়ে খান। পরিবারের মতে, জিয়াংয়ের দীর্ঘায়ুর পেছনে রয়েছে ভালো ঘুম, নিয়মিত সবুজ চা পান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—একটি শান্ত মন। তিনি সহজে রাগ করেন না, কাউকে নিয়ে ক্ষোভ পুষে রাখেন না। শান্তিতেই থাকতে পছন্দ করেন। জিয়াংয়ের এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ জীবনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

সানা/এসি/আপ্র/২৫/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

রাত জেগে, জাঙ্ক ফুড খেয়েও সুস্থ তিনি, বয়স ১০১

আপডেট সময় : ০৮:৪২:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

প্রত্যাশা ডেস্ক: সুস্থ জীবনযাপনের প্রচলিত কোনো নিয়ম তিনি মানেননি। গভীর রাত পর্যন্ত টেলিভিশন দেখেছেন, মধ্যরাতে জাঙ্ক ফুড বা অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে খিদে মিটিয়েছেন। এত সব ‘অনিয়ম’ সত্ত্বেও ১০১ বছর বয়সেও দিব্যি সুস্থ আছেন তিনি। চীনের এই নারীর সব দাঁতও এখনো অক্ষত।

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শহর ওয়েনঝৌয়ের বাসিন্দা ওই নারীর নাম জিয়াং ইউয়েছিন। তার সাত সন্তানের মধ্যে একজনের নাম ইয়াও সংপিং। সম্প্রতি ইয়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মায়ের জীবনযাপনের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন। এরপরই জিয়াংয়ের দৈনন্দিন রুটিন নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, জিয়াং প্রতিদিন রাত প্রায় ২টা পর্যন্ত টেলিভিশন দেখেন। এত রাতে ঘুমালেও তার ঘুম ভাঙে সকাল ১০টার দিকে। প্রাত্যহিক কাজ শেষে এক কাপ কড়া সবুজ চা দিয়ে দিনের শুরু করেন তিনি। মেয়ে ইয়াও জানান, দেরিতে ঘুমালেও তাঁর মায়ের ঘুম গভীর ও আরামদায়ক।

প্রায় দুই বছর আগে এ ধরনের জীবনযাপন শুরু করেন জিয়াং। সে সময় এক দুর্ঘটনায় তার হাতে চোট লাগে এবং অস্ত্রোপচার করতে হয়। সুস্থ হয়ে উঠতে পরিবারের সদস্যরা তাকে গৃহকর্ম থেকে বিরত রাখেন। দিনের বেলায় কাজ কমে যাওয়ায় তিনি বেশি ঘুমাতে শুরু করেন। এর ফলেই ধীরে ধীরে রাত জাগার অভ্যাস গড়ে ওঠে।

বর্তমানে জিয়াং সকালে নাশতার বদলে ব্রাঞ্চ—অর্থাৎ সকালের নাশতা ও দুপুরের খাবার একসঙ্গে খান। সন্ধ্যা ছয়টার দিকে রাতের খাবার খান। প্রয়োজন হলে রাত নয়টার দিকে আবার নাশতা করেন। ওয়েনঝৌয়ের স্থানীয় পেস্ট্রি ‘মাতিসং’ তাঁর প্রিয়। এ ছাড়া বিস্কুট, চিপস, শাকিমা ও শুকনা মিষ্টি আলুর নাশতাও তিনি পছন্দ করেন। বয়স ১০০ পেরোলেও জিয়াংকে কখনো দাঁতের চিকিৎসা নিতে হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান, তিনি ধীরে ও স্বচ্ছন্দে সব খাবার চিবিয়ে খান। পরিবারের মতে, জিয়াংয়ের দীর্ঘায়ুর পেছনে রয়েছে ভালো ঘুম, নিয়মিত সবুজ চা পান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—একটি শান্ত মন। তিনি সহজে রাগ করেন না, কাউকে নিয়ে ক্ষোভ পুষে রাখেন না। শান্তিতেই থাকতে পছন্দ করেন। জিয়াংয়ের এই গল্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ জীবনের ক্ষেত্রে ইতিবাচক মানসিকতাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।

সানা/এসি/আপ্র/২৫/০১/২০২৬