ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির

  • আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা রাজনীতিকে নেশা হিসেবে গ্রহণ করিনি, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি। রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, আমরা দুনিয়ার জন্য রাজনীতি করি না।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে জামায়াত আয়োজিত দিনব্যাপী ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতে দেশটাকে লুটপাট করে খেয়েদেয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা পেয়েছি একটা কঙ্কাল। সেই কঙ্কালকে নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব। কঙ্কাল বাংলাদেশকে জীবন্ত বাংলাদেশে পরিণত করা হবে।’ স্বৈরাচার বিদায় নিলেও দেশ থেকে এখনো ‘স্বৈরমানসিকতা’ নির্মূল হয়নি উল্লেখ করে তা সরাতে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিদেশ গেলেই বলি আমাদের দুটি রেমিট্যান্স থাকবে– একটি আর্থিক ও অন্যটি ইনটেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স লাগবে। দুই হাত বাড়িয়ে আপনাদের বুকে জড়িয়ে নিতে চাই। আপনারা দেশে চলে আসুন।’ অনুষ্ঠানে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানান।

জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে দুটি প্রধান লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। প্রথমত, প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, সব ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, ‘বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পথ-পদবি বা প্রভাব দেখা উচিত নয়। সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের এই দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিলে বাকি সব অর্জন সম্ভব।’

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ দুর্নীতি আর দুঃশাসনের কপালে চাপা পড়েছিল। সেই চ্যাপ্টার থেকে আমরা দেশকে টেনে তুলতে চাই।’

ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের মন্ত্রী-এমপিরা বিলাসিতা পরিহার করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈধ সুযোগ-সুবিধার যা গ্রহণ না করলেই নয়, শুধু সেটাই আমরা গ্রহণ করব। আমরা দুনিয়ার জন্য রাজনীতি করি না। জনগণের চোখের কোনায় সামান্য হাসি ফুটে উঠলে সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা।’

পলিসি সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মু. তাহের, মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওআ/আপ্র/২০/0১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি : জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০৯:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা রাজনীতিকে নেশা হিসেবে গ্রহণ করিনি, কর্তব্য হিসেবে গ্রহণ করছি। রাজনীতি আমাদের পেশা নয়, আমরা দুনিয়ার জন্য রাজনীতি করি না।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে জামায়াত আয়োজিত দিনব্যাপী ‘পলিসি সামিট ২০২৬’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অতীতে দেশটাকে লুটপাট করে খেয়েদেয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা পেয়েছি একটা কঙ্কাল। সেই কঙ্কালকে নিয়েই আমরা সামনে এগিয়ে যাব। কঙ্কাল বাংলাদেশকে জীবন্ত বাংলাদেশে পরিণত করা হবে।’ স্বৈরাচার বিদায় নিলেও দেশ থেকে এখনো ‘স্বৈরমানসিকতা’ নির্মূল হয়নি উল্লেখ করে তা সরাতে লড়াই অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

দেশের উন্নয়নে প্রবাসীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা বিদেশ গেলেই বলি আমাদের দুটি রেমিট্যান্স থাকবে– একটি আর্থিক ও অন্যটি ইনটেলেকচুয়াল বা বুদ্ধিবৃত্তিক। আমাদের বুদ্ধিবৃত্তিক রেমিট্যান্স লাগবে। দুই হাত বাড়িয়ে আপনাদের বুকে জড়িয়ে নিতে চাই। আপনারা দেশে চলে আসুন।’ অনুষ্ঠানে তিনি দেশ-বিদেশ থেকে আগত গবেষক, অর্থনীতিবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের ধন্যবাদ জানান।

জামায়াত আমির তাঁর বক্তব্যে দুটি প্রধান লক্ষ্যের কথা তুলে ধরেন। প্রথমত, প্রাথমিক স্তর থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত নৈতিকতা ও পেশাদারিত্বনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দ্বিতীয়ত, সব ক্ষেত্রে সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, ‘বিচারের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির পথ-পদবি বা প্রভাব দেখা উচিত নয়। সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রের এই দুটি বিষয়ে গুরুত্ব দিলে বাকি সব অর্জন সম্ভব।’

আগামী প্রজন্মের জন্য একটি পরিচ্ছন্ন ও শান্তির বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ দুর্নীতি আর দুঃশাসনের কপালে চাপা পড়েছিল। সেই চ্যাপ্টার থেকে আমরা দেশকে টেনে তুলতে চাই।’

ক্ষমতায় গেলে জামায়াতের মন্ত্রী-এমপিরা বিলাসিতা পরিহার করবেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বৈধ সুযোগ-সুবিধার যা গ্রহণ না করলেই নয়, শুধু সেটাই আমরা গ্রহণ করব। আমরা দুনিয়ার জন্য রাজনীতি করি না। জনগণের চোখের কোনায় সামান্য হাসি ফুটে উঠলে সেটাই হবে আমাদের সার্থকতা।’

পলিসি সামিটে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতা, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মু. তাহের, মাওলানা আ.ন.ম. শামসুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ওআ/আপ্র/২০/0১/২০২৬