ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস করছে, মন্তব্য জার্মান প্রেসিডেন্টের

  • আপডেট সময় : ০৬:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

বার্লিনে ভাষণ দেন জার্মান প্রেসিডেন্ট স্টাইনমায়ার -ছবি রয়টার্স

প্রত্যাশা ডেস্ক: জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বর্তমান পথ ধরে চললে বিশ্বব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং বিশ্ব ডাকাতদের আস্তানাতে পরিণত হতে পারে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক ভাষণে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

স্টাইনমায়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। তিনি সতর্ক করেছেন, বিশ্ব যেন ডাকাতদের আস্তানায় পরিণত না হয়। যেখানে নীতিহীন শক্তিগুলো তাদের ইচ্ছামতো দখল করতে পারে। তিনি ভাষণে আরো বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ যেমন একটি ঐতিহাসিক ফাটল সৃষ্টি করেছিল, তেমনি আমাদের প্রধান অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের এই ভাঙন দ্বিতীয় বড় ধাক্কা। তার এই বক্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক ভূমিকা, বিশেষত ভেনেজুয়েলার বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটকে বোঝাতে চেয়েছেন।

তিনি ভাষণে আরো জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের অবশ্যই বিশ্বকে এমন একটি স্থান হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে যেখানে অঞ্চল বা সার্বভৌম দেশগুলো কয়েকটি বৃহৎ শক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে , বৃহস্পতিবার জার্মানির সরকারি সম্প্রচারক এআরডির পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬% জার্মান এখন মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অংশীদার নয় যার উপর জার্মানি নির্ভর করতে পারে। মাত্র ১৫% মনে করেন জার্মানি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর বিশ্বাস রাখতে পারে, যা এই নিয়মিত মনোভাব জরিপে রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন স্তর। তুলনামূলকভাবে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জার্মান মনে করেন তারা ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের উপর নির্ভর করতে পারে।

জরিপে আরো দেখা গিয়েছে, ৬৯% জার্মান ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রায় একই সংখ্যক মানুষ মনে করেন যে ন্যাটো অংশীদাররা জোটের শক্তিশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার উপর নির্ভর করতে পারে না।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বললেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশকে নিজেদের সাম্রাজ্য মনে করে: এদিকে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বাস্তব হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

পেত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে একটি মার্কিন সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই এ মন্তব্য আসে। তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইস-এর এজেন্টদের আচরণকে নাৎসি ব্রিগেড-এর সঙ্গে তুলনা করেন। ট্রাম্প প্রশাসন অপরাধ দমন ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে আইসের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান ভালো ধারণা বলে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে উদ্দেশ করে নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলতে বলেছেন বলে জানান পেত্রো, যা তিনি তীব্রভাবে নিন্দা করেন।

গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরপর ট্রাম্প জানান, তিনি হোয়াইট হাউজে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ফোনালাপের পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প এই কথোপকথনকে একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময় এক কলম্বিয়ান কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্যে ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার পেত্রোর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

পেত্রো জানান, ফোনালাপটি এক ঘণ্টার কিছু কম সময় স্থায়ী হয়েছিল এবং এর বেশিরভাগ সময় আমি কথা বলেছি। আলোচনায় কলম্বিয়ায় মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এবং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যা ঘটছে- এসব বিষয় উঠে আসে।

পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন এবং আইস এজেন্টদের নাৎসি ব্রিগেডের মতো আচরণের অভিযোগ তোলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ ও মাদক পাচারের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে থাকেন এবং এ যুক্তিতে বড় পরিসরের অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোকে মাদক পাচার দমনে যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন।

হোয়াইট হাউজে ফেরার পর ট্রাম্প দেশের বিভিন্ন শহরে আইস এজেন্ট মোতায়েন করেছেন। সংস্থাটি অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অবৈধ অভিবাসন তদন্ত এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখে। পেত্রো বলেন, আইস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা শুধু লাতিন আমেরিকানদের রাস্তায় হয়রানি করছে না- যা আমাদের জন্য অপমানজনক- বরং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও হত্যা করছে। তিনি আরো বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ব শাসনের স্বপ্ন দেখা যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশে পরিণত হবে। বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে না। পেত্রোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায়, আইন উপেক্ষা করে অন্যান্য সরকারকে একটি সাম্রাজ্যের দৃষ্টিতে দেখছে।

সূত্র: বিবিসি

সানা/ওআ/৯/১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বব্যবস্থা ধ্বংস করছে, মন্তব্য জার্মান প্রেসিডেন্টের

আপডেট সময় : ০৬:৪০:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

প্রত্যাশা ডেস্ক: জার্মান প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাংক-ভাল্টার স্টাইনমায়ার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বর্তমান পথ ধরে চললে বিশ্বব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যেতে পারে এবং বিশ্ব ডাকাতদের আস্তানাতে পরিণত হতে পারে। গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এক ভাষণে তিনি এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

স্টাইনমায়ার তার বক্তব্যে উল্লেখ করেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আচরণ বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। তিনি সতর্ক করেছেন, বিশ্ব যেন ডাকাতদের আস্তানায় পরিণত না হয়। যেখানে নীতিহীন শক্তিগুলো তাদের ইচ্ছামতো দখল করতে পারে। তিনি ভাষণে আরো বলেছেন, রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণ যেমন একটি ঐতিহাসিক ফাটল সৃষ্টি করেছিল, তেমনি আমাদের প্রধান অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যবোধের এই ভাঙন দ্বিতীয় বড় ধাক্কা। তার এই বক্তব্যকে ট্রাম্প প্রশাসনের আন্তর্জাতিক ভূমিকা, বিশেষত ভেনেজুয়েলার বিষয়ে হস্তক্ষেপের প্রেক্ষাপটকে বোঝাতে চেয়েছেন।

তিনি ভাষণে আরো জোর দিয়ে বলেছেন, আমাদের অবশ্যই বিশ্বকে এমন একটি স্থান হওয়া থেকে রক্ষা করতে হবে যেখানে অঞ্চল বা সার্বভৌম দেশগুলো কয়েকটি বৃহৎ শক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে পরিণত হয়।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে , বৃহস্পতিবার জার্মানির সরকারি সম্প্রচারক এআরডির পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৬% জার্মান এখন মনে করেন যে যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অংশীদার নয় যার উপর জার্মানি নির্ভর করতে পারে। মাত্র ১৫% মনে করেন জার্মানি এখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর বিশ্বাস রাখতে পারে, যা এই নিয়মিত মনোভাব জরিপে রেকর্ড হওয়া সর্বনিম্ন স্তর। তুলনামূলকভাবে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ জার্মান মনে করেন তারা ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের উপর নির্ভর করতে পারে।

জরিপে আরো দেখা গিয়েছে, ৬৯% জার্মান ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন। প্রায় একই সংখ্যক মানুষ মনে করেন যে ন্যাটো অংশীদাররা জোটের শক্তিশালী সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের সুরক্ষার উপর নির্ভর করতে পারে না।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বললেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশকে নিজেদের সাম্রাজ্য মনে করে: এদিকে কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বাস্তব হুমকি এখনো বিদ্যমান বলে মন্তব্য করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

পেত্রো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্যান্য দেশকে একটি মার্কিন সাম্রাজ্যের অংশ হিসেবে দেখছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ার পরই এ মন্তব্য আসে। তিনি মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইস-এর এজেন্টদের আচরণকে নাৎসি ব্রিগেড-এর সঙ্গে তুলনা করেন। ট্রাম্প প্রশাসন অপরাধ দমন ও অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযানের অংশ হিসেবে আইসের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে বাড়িয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলা ও দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কলম্বিয়াকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান ভালো ধারণা বলে মনে হচ্ছে। এ ছাড়া ট্রাম্প একাধিকবার পেত্রোকে উদ্দেশ করে নিজের পিঠ বাঁচিয়ে চলতে বলেছেন বলে জানান পেত্রো, যা তিনি তীব্রভাবে নিন্দা করেন।

গত বুধবার (৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ট্রাম্প ও পেত্রোর মধ্যে ফোনালাপ হয়। এরপর ট্রাম্প জানান, তিনি হোয়াইট হাউজে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। ফোনালাপের পর নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প এই কথোপকথনকে একটি বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন। সে সময় এক কলম্বিয়ান কর্মকর্তা জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্যে ১৮০ ডিগ্রি পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। তবে বৃহস্পতিবার পেত্রোর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।

পেত্রো জানান, ফোনালাপটি এক ঘণ্টার কিছু কম সময় স্থায়ী হয়েছিল এবং এর বেশিরভাগ সময় আমি কথা বলেছি। আলোচনায় কলম্বিয়ায় মাদক পাচার, ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি এবং লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে যা ঘটছে- এসব বিষয় উঠে আসে।

পেত্রো যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অভিবাসনবিরোধী অভিযানের কড়া সমালোচনা করেন এবং আইস এজেন্টদের নাৎসি ব্রিগেডের মতো আচরণের অভিযোগ তোলেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধ ও মাদক পাচারের জন্য অভিবাসনকে দায়ী করে থাকেন এবং এ যুক্তিতে বড় পরিসরের অভিযান চালাচ্ছেন। তিনি কলম্বিয়া ও ভেনেজুয়েলার মতো দেশগুলোকে মাদক পাচার দমনে যথেষ্ট উদ্যোগ না নেওয়ার অভিযোগও করেছেন।

হোয়াইট হাউজে ফেরার পর ট্রাম্প দেশের বিভিন্ন শহরে আইস এজেন্ট মোতায়েন করেছেন। সংস্থাটি অভিবাসন আইন প্রয়োগ, অবৈধ অভিবাসন তদন্ত এবং অনথিভুক্ত অভিবাসীদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাবাসনে ভূমিকা রাখে। পেত্রো বলেন, আইস এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে তারা শুধু লাতিন আমেরিকানদের রাস্তায় হয়রানি করছে না- যা আমাদের জন্য অপমানজনক- বরং তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদেরও হত্যা করছে। তিনি আরো বলেন, এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ব শাসনের স্বপ্ন দেখা যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটি দেশে পরিণত হবে। বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে কোনো সাম্রাজ্য গড়ে ওঠে না। পেত্রোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে, বিশেষ করে লাতিন আমেরিকায়, আইন উপেক্ষা করে অন্যান্য সরকারকে একটি সাম্রাজ্যের দৃষ্টিতে দেখছে।

সূত্র: বিবিসি

সানা/ওআ/৯/১/২০২৬