ঢাকা ১০:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এই কথার ভিত্তি নাই

  • আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোস্তফা হোসেন

যক্ষ্মা বা টিবি নামক মারাত্মক ব্যাধিটির সঙ্গে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত যক্ষ্মাকে ক্ষয়রোগও বলা হয়। বিশ্বের একটি জটিল সংক্রামক ব্যাধি হচ্ছে যক্ষ্মা। কোনো এক সময়ে মানুষের ধারণা ছিল, ‘হয় যদি যক্ষ্মা নাই তবে রক্ষা’।

এখন ওই ধারণাটির আর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তখন যক্ষ্মা বা টিবির রোগ জীবাণু সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না,। ফলে এ রোগটি প্রতিকারের কোনো পন্থা তাদের জানা ছিল না।

বর্তমানে যক্ষ্মার রোগ জীবাণু আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়েরও ওষুধ বের হয়েছে।

যক্ষ্মা বা টিবির রোগ জীবাণু শ্বাসের সঙ্গে শ্বাসনালির সাহায্যে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এ রোগটি সংক্রমিত হয় মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক অতি ক্ষুদ্র জীবাণুর মাধ্যমে। এ জীবাণু বাতাসে অনেক সময় ধরে জীবিত থাকতে পারে।

আমরা অনেকে মনে করে থাকি, যক্ষ্মা বা টিবিতে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির পাশে বসলেই যক্ষ্মা হয়ে যায়। কিন্তু এ রোগটি এভাবে কখনো সংক্রমিত হয় না।

যক্ষ্মা সংক্রমিত হয় যক্ষ্মা রোগীর হাঁচি, কাশি, কফ, মলমূত্র ইত্যাদির দ্বারা। এ ছাড়া যক্ষ্মার জীবাণু বদ্ধ, স্যাঁতসেঁতে ও জনাকীর্ণ পরিবেশে খুব দ্রুত রোগ বিস্তার করে থাকে। যে কোনো সময় যে কোনো বয়সের মানুষ এ ব্যাধির কবলে পড়তে পারে।

যক্ষ্মার জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশের কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছরের মধ্যে এ রোগের প্রকাশ ঘটে। সাধারণত দরিদ্র লোকদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। কফ এবং কাশি হচ্ছে যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ।

প্রাথমিক অবস্থায় কাশি, কফ এবং সামান্য জ্বর দিয়ে এ ব্যাধিটির শুরু হয়। ধীরে ধীরে আরও নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন- খাবারে অনীহা, শরীরের ওজন অল্প অল্প করে হ্রাস পাওয়া, বিষাদগ্রস্ততা, মাঝে মাঝে রাতে ঘাম দিয়ে রাতে জ্বর ছাড়া ইত্যাদি।

কোনো কোনো যক্ষ্মা রোগীর কফ বা কাশির সঙ্গে রক্ত নির্গত হয়। কফের সঙ্গে যে রক্ত বের হয় তা খুব বেশি লাল হয়ে থাকে।

যক্ষ্মা রোগীদের রোগের শুরুতে যে জ্বর হয়, তা সাধারণত বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে থাকে কিন্তু সকালের দিকে রোগীর গায়ে আর জ্বর থাকে না। কোনো ব্যক্তির কাশি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয়। তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট যেতে হবে।

যক্ষ্মা রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে সুষ্ঠু চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগীদেরও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত কফ পরীক্ষা করে থাকেন। কফের সঙ্গে যক্ষ্মার জীবাণু পাওয়া গেলে তারা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হন।

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, কফ, থুথু থেকে নির্গত জীবাণু সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দেহে প্রবেশ করে যক্ষ্মা ব্যাধিটি সংক্রমিত করে থাকে। যক্ষ্মা হলে এখন আর দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এর অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এ ব্যাধিটিকে সম্পূর্ণ হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।

লেখক: বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

আজকের প্রত্যাশা/ কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

যক্ষ্মা হলে রক্ষা নাই, এই কথার ভিত্তি নাই

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

অধ্যাপক ডা. এ কে এম মোস্তফা হোসেন

যক্ষ্মা বা টিবি নামক মারাত্মক ব্যাধিটির সঙ্গে আমরা সবাই কম বেশি পরিচিত যক্ষ্মাকে ক্ষয়রোগও বলা হয়। বিশ্বের একটি জটিল সংক্রামক ব্যাধি হচ্ছে যক্ষ্মা। কোনো এক সময়ে মানুষের ধারণা ছিল, ‘হয় যদি যক্ষ্মা নাই তবে রক্ষা’।

এখন ওই ধারণাটির আর কোনো ভিত্তি নেই। কারণ তখন যক্ষ্মা বা টিবির রোগ জীবাণু সম্পর্কে কোনো ধারণা ছিল না,। ফলে এ রোগটি প্রতিকারের কোনো পন্থা তাদের জানা ছিল না।

বর্তমানে যক্ষ্মার রোগ জীবাণু আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে এটি সম্পূর্ণ নিরাময়েরও ওষুধ বের হয়েছে।

যক্ষ্মা বা টিবির রোগ জীবাণু শ্বাসের সঙ্গে শ্বাসনালির সাহায্যে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। এ রোগটি সংক্রমিত হয় মাইকোব্যাকটেরিয়াম টিউবারকিউলোসিস নামক অতি ক্ষুদ্র জীবাণুর মাধ্যমে। এ জীবাণু বাতাসে অনেক সময় ধরে জীবিত থাকতে পারে।

আমরা অনেকে মনে করে থাকি, যক্ষ্মা বা টিবিতে আক্রান্ত কোনো ব্যক্তির পাশে বসলেই যক্ষ্মা হয়ে যায়। কিন্তু এ রোগটি এভাবে কখনো সংক্রমিত হয় না।

যক্ষ্মা সংক্রমিত হয় যক্ষ্মা রোগীর হাঁচি, কাশি, কফ, মলমূত্র ইত্যাদির দ্বারা। এ ছাড়া যক্ষ্মার জীবাণু বদ্ধ, স্যাঁতসেঁতে ও জনাকীর্ণ পরিবেশে খুব দ্রুত রোগ বিস্তার করে থাকে। যে কোনো সময় যে কোনো বয়সের মানুষ এ ব্যাধির কবলে পড়তে পারে।

যক্ষ্মার জীবাণু মানুষের দেহে প্রবেশের কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক বছরের মধ্যে এ রোগের প্রকাশ ঘটে। সাধারণত দরিদ্র লোকদের মধ্যে এ রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি থাকে। কফ এবং কাশি হচ্ছে যক্ষ্মার প্রধান লক্ষণ।

প্রাথমিক অবস্থায় কাশি, কফ এবং সামান্য জ্বর দিয়ে এ ব্যাধিটির শুরু হয়। ধীরে ধীরে আরও নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন- খাবারে অনীহা, শরীরের ওজন অল্প অল্প করে হ্রাস পাওয়া, বিষাদগ্রস্ততা, মাঝে মাঝে রাতে ঘাম দিয়ে রাতে জ্বর ছাড়া ইত্যাদি।

কোনো কোনো যক্ষ্মা রোগীর কফ বা কাশির সঙ্গে রক্ত নির্গত হয়। কফের সঙ্গে যে রক্ত বের হয় তা খুব বেশি লাল হয়ে থাকে।

যক্ষ্মা রোগীদের রোগের শুরুতে যে জ্বর হয়, তা সাধারণত বিকাল বা সন্ধ্যার দিকে থাকে কিন্তু সকালের দিকে রোগীর গায়ে আর জ্বর থাকে না। কোনো ব্যক্তির কাশি যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময় স্থায়ী হয়। তবে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের নিকট যেতে হবে।

যক্ষ্মা রোগটি প্রাথমিক অবস্থায় নির্ণয় করা গেলে সুষ্ঠু চিকিৎসার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ভালো করা সম্ভব।

যক্ষ্মা বা টিবি রোগীদেরও রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসকরা সাধারণত কফ পরীক্ষা করে থাকেন। কফের সঙ্গে যক্ষ্মার জীবাণু পাওয়া গেলে তারা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত হন।

আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি, কফ, থুথু থেকে নির্গত জীবাণু সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের দেহে প্রবেশ করে যক্ষ্মা ব্যাধিটি সংক্রমিত করে থাকে। যক্ষ্মা হলে এখন আর দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

বর্তমানে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে এর অনেক আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা এ ব্যাধিটিকে সম্পূর্ণ হাতের মুঠোয় নিয়ে এসেছেন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করলে এ রোগ সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।

লেখক: বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ

আজকের প্রত্যাশা/ কেএমএএ