ক্রীড়া ডেস্ক : অবিশ্বাস্য কয়েকটি অঘটনের জন্ম দেওয়া মরক্কোর রূপকথা শেষ। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেমি-ফাইনালে হারের পর মরক্কান শিবিরে ভর করেছিল আকাশ ছুঁতে না পারার হতাশাও। ভক্ত-সমর্থকদের চোখে চিকচিক করছিল জল। তবে, গভীরভাবে দেখলে ওই কষ্টের চেয়েও অনেক বেশি গর্বিত তারা। প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে মরক্কো সেমি-ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রিয় দলকে ঘিরে সমর্থকদের স্বপ্নের সীমানা আকাশ ছুঁয়েছিল। সে আশার সমাপ্তি হলেও বিশ্ব সেরার মঞ্চ থেকে নিশ্চিতভাবেই খালি হাতি ফিরছে না তারা। দেশের মানুষের কাছে জিয়াশ-হাকিমরা বীরের মর্যাদা তো পেয়েই গেছেন, দুর্দান্ত ফুটবলে অন্যান্য দেশের ভালোবাসাও অর্জন করেছেন তারা। তাই স্বপ্নের ভেলায় ভেসে তারা হয়তো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি, তবে তাদের অর্জনও অনেক বড়।
ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে কাতার বিশ্বকাপ শুরু করা মরক্কো দ্বিতীয় ম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় তারকাসমৃদ্ধ বেলজিয়ামকে। এরপর কানাডাকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় তারা। শেষ ষোলোয় তাদের সামনে ছিল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন; টাইব্রেকারে লুইস এনরিকের দলকে বিদায় করে দিয়ে আরেক চমক দেখায় মরক্কো। লেখে প্রথম আরব দেশ হিসেবে বিশ্বকাপে শেষ আটে খেলার ইতিহাস। এরপর শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে সেমি-ফাইনালের টিকেট পায় তারা, এর আগে আফ্রিকার কোনো দলই যা করে দেখাতে পারেনি। বিশ্বকাপ যত এগিয়ে গেছে, আফ্রিকা ও আরব বিশ্বের দেশগুলোতে মরক্কোর জনপ্রিয়তা কেবলই বেড়েছে। দলটির জন্য তারা গলা ফাটিয়েছেন, যেন নিজেদের দেশের জাতীয় দল জিতেছে, যেন মরক্কোই তাদের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করছে। স্টেডিয়ামে প্রতি ম্যাচেই মরক্কোর সমর্থন দেখা গেছে অনেক বেশি। আর সেমি-ফাইনালে তো ছাড়িয়ে যায় আগের সবকিছুকে। আগে থেকে কাতারে থাকা সমর্থকদের সঙ্গে যোগ দেন আরও অনেকে। এতে ম্যাচের আগে চারদিক হয়ে হঠে ‘মরক্কোময়।’ আল বাইত স্টেডিয়ামের ভেতরের চিত্রটাও ছিল একই। মরক্কোর লাল-সবুজ জনসমুদ্রের মাঝে ফরাসি ভক্তদের সংখ্যা ছিল খুব কম।
ফ্রান্সের বিপক্ষে কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করলেও আরেকটি চমকের আশায় ছিল মরক্কানরা। মাঠে তারা উপহারও দেয় আত্মবিশ্বাসী ফুটবল; কিন্তু প্রবল প্রতিপক্ষের সঙ্গে পেরে ওঠেনি। ২-০ গোলে হেরে গেছে তারা। অবশ্য ট্রফির লড়াই থেকে ছিটকে গেলেও মরক্কোর প্রাপ্তি সম্ভাবনা সামনেও আছে। আগামী শনিবার ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে খেলবে মরক্কো। অনেকে মনে করেন, বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ অধিকাংশ দলই খেলতে চায় না। কিন্তু মরক্কোর জন্য ধারণাটি হয়তো প্রযোজ্য নয়। প্রতিটি ম্যাচই যে তাদের নতুন চূড়া স্পর্শ করার সুযোগ। মরক্কোর রাজধানী রাবাতের বাসিন্দা মোহাম্মদের কাছেই যেমন, তৃতীয় হওয়া ফাইনাল খেলা বা বিশ্বকাপ জেতার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বিবিসি স্পোর্টকে তিনি বলেন, দেশের অর্জনে তারা গর্বিত। “তৃতীয় স্থান অর্জন করা আমাদের কাছে বিশ্ব জয়ের সমান, কারণ আমরা এরই মধ্যে অপ্রত্যাশিত সবকিছু অর্জন করেছি। আজ কোন অশ্রু নেই, কারণ এই খেলোয়াড়রা ভক্ত ও দেশের জন্য যা করেছে, তাতে আমরা গর্বিত।”
মরক্কোর প্রাপ্তির এখনও বাকি
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ