ঢাকা ১১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬

ভোট শান্তিপূর্ণ, হিরো আলমের উপর হামলা কেন্দ্রের বাইরে: আলমগীর

  • আপডেট সময় : ০২:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩
  • ১৫০ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রার্থী হিরো আলমের উপর হামলার ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণই ছিল।
গতকাল সোমবার রাজধানীর এই সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শেষের পর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে এসে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। নিরুত্তাপ এই উপনির্বাচনে ভোটের হার ১২-১৫ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন এই নির্বাচন কমিশনার। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আকবর খান পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচন হল। বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে এই নির্বাচনকে আলোচনায় আনেন ইউটিউবার হিরো আলম। এর আগে বগুড়া থেকে নির্বাচন করা এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন একতারা প্রতীক নিয়ে। ভোটগ্রহণের শেষ দিকে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে হামলার শিকার হন হিরো আলম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার আগে স্কুলের মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে সেলফি তোলেন হিরো আলম। তখন নৌকার ব্যাজধারী কয়েকজন এসে তাকে ঘিরে ধরেন এবং বলেন, ‘এটা টিকটক ভিডিও বানানোর জায়গা না’। এরপর হিরো আলমকে ধাওয়া শুরু করেন। তখন কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হিরো আলমকে ঘিরে ধরে স্কুলের গেইটের বাইরে দিয়ে আসেন। এরপর হিরো আলমকে সড়কে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আমি নিজেও সকালে ৮-১০ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, শান্তিপূর্ণ দেখেছি। আমাদের আরেক নির্বাচন কমিশনারও গেছেন। “প্রত্যেকটি কেন্দ্রে শাান্তিপূর্ণ হয়েছে। সিসি ক্যামেরাও দেখেছি আমরা। ঢাকার বাইরেও পৌরসভাসহ কিছু নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।”
ঢাকা ১৭ উপ নির্বাচনের শেষ দিকে সোমবার বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে হামলার শিকার হওয়ার আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমকে ঘিরে ফেলেন নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী একদল যুবক। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গেইটের দিকে নিয়া যান।
হিরো আলমের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকরা তুলে ধরলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “১২৪টা কেন্দ্র রয়েছে, একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে তো বলা যায় না অসুষ্ঠু হয়েছে।
“স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপর হামলার বিষয়ে কিছু তথ্য আমরা জেনেছি, প্রকৃত চিত্র পাইনি। যতটুকু জেনেছি, স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেক সমর্থক নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছে, সাথে ইউটিউবার ছিল প্রায় ৭০ জনের মতো।”
পুলিশ সেজন্য হিরো আলমকে আটকে দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ তাদের বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু রাস্তায় বের হয়ে এলে কে বা কারা তাকে ধাওয়া দিয়েছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।” তবে বাইরেও একজন প্রার্থী আক্রান্ত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে আলমগীর বলেন, “এটা আমরা কামনা করি না। অন্যায় কাজ করেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও যারা জড়িত তাদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
ভোটার খরা: গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনেও ভোটার খরা দেখা গেছে। ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, গুলশান এলাকা নিয়ে গঠিত রাজধানীর এই আসনে ভোটার সোয়া তিন লাখ। তবে অধিকাংশ কেন্দ্র দিনভর ফাঁকা দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, “ঢাকায় ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। এটা নানা কারণে হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসেব পাইনি। ধারণা করা হচ্ছে, ১২ থেকে ১৩% ভোটের হার হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৪-১৫% ভোট পড়তে পারে।” গত কে এম নুরুল হুদা কমিশনের সময় ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে ইভিএমে মাত্র ৫.২৮% ভোট পড়ার নজির রয়েছে। এবার ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় সম্পূর্ণ ব্যালটে। সোমবার ঢাকায় উপনির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়নেও নির্বাচন হয়েছে। পৌরসভায় ৫০-৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান আলমগীর।

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

ভোট শান্তিপূর্ণ, হিরো আলমের উপর হামলা কেন্দ্রের বাইরে: আলমগীর

আপডেট সময় : ০২:৫২:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ জুলাই ২০২৩

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রার্থী হিরো আলমের উপর হামলার ঘটনাটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে হয়েছে দাবি করে নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর বলেছেন, ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণই ছিল।
গতকাল সোমবার রাজধানীর এই সংসদীয় আসনে ভোটগ্রহণ শেষের পর নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সামনে এসে এই প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। নিরুত্তাপ এই উপনির্বাচনে ভোটের হার ১২-১৫ শতাংশ হতে পারে বলে ধারণা করছেন এই নির্বাচন কমিশনার। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আকবর খান পাঠান ফারুকের মৃত্যুতে পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের কয়েক মাস আগে ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচন হল। বিএনপিসহ অধিকাংশ দলের বর্জনের মধ্যে এই নির্বাচনকে আলোচনায় আনেন ইউটিউবার হিরো আলম। এর আগে বগুড়া থেকে নির্বাচন করা এই কন্টেন্ট ক্রিয়েটর এখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন একতারা প্রতীক নিয়ে। ভোটগ্রহণের শেষ দিকে বিকাল সোয়া ৩টার দিকে বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে হামলার শিকার হন হিরো আলম। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার আগে স্কুলের মাঠে কয়েকজনের সঙ্গে সেলফি তোলেন হিরো আলম। তখন নৌকার ব্যাজধারী কয়েকজন এসে তাকে ঘিরে ধরেন এবং বলেন, ‘এটা টিকটক ভিডিও বানানোর জায়গা না’। এরপর হিরো আলমকে ধাওয়া শুরু করেন। তখন কেন্দ্রটির দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা হিরো আলমকে ঘিরে ধরে স্কুলের গেইটের বাইরে দিয়ে আসেন। এরপর হিরো আলমকে সড়কে ফেলে বেধড়ক পেটানো হয়। ভোট শেষে নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, “নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হয়েছে। আমি নিজেও সকালে ৮-১০ কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি, শান্তিপূর্ণ দেখেছি। আমাদের আরেক নির্বাচন কমিশনারও গেছেন। “প্রত্যেকটি কেন্দ্রে শাান্তিপূর্ণ হয়েছে। সিসি ক্যামেরাও দেখেছি আমরা। ঢাকার বাইরেও পৌরসভাসহ কিছু নির্বাচন হয়েছে। প্রত্যেকটি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে।”
ঢাকা ১৭ উপ নির্বাচনের শেষ দিকে সোমবার বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র পরিদর্শনে এসে হামলার শিকার হওয়ার আগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিরো আলমকে ঘিরে ফেলেন নৌকা প্রতীকের ব্যাজধারী একদল যুবক। এসময় পুলিশ সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে গেইটের দিকে নিয়া যান।
হিরো আলমের আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সাংবাদিকরা তুলে ধরলে এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, “১২৪টা কেন্দ্র রয়েছে, একটি কেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলে তো বলা যায় না অসুষ্ঠু হয়েছে।
“স্বতন্ত্র প্রার্থীর উপর হামলার বিষয়ে কিছু তথ্য আমরা জেনেছি, প্রকৃত চিত্র পাইনি। যতটুকু জেনেছি, স্বতন্ত্র প্রার্থী অনেক সমর্থক নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের চেষ্টা করেছে, সাথে ইউটিউবার ছিল প্রায় ৭০ জনের মতো।”
পুলিশ সেজন্য হিরো আলমকে আটকে দিয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, “পুলিশ তাদের বুঝিয়ে পাঠিয়ে দেয়। অর্থাৎ ভোটকেন্দ্রে কোনো ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু রাস্তায় বের হয়ে এলে কে বা কারা তাকে ধাওয়া দিয়েছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছে।” তবে বাইরেও একজন প্রার্থী আক্রান্ত হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করে আলমগীর বলেন, “এটা আমরা কামনা করি না। অন্যায় কাজ করেছে। পুলিশ ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও যারা জড়িত তাদের তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।”
ভোটার খরা: গত কয়েকটি নির্বাচনের মতো ঢাকা-১৭ আসনে উপনির্বাচনেও ভোটার খরা দেখা গেছে। ক্যান্টনমেন্ট, বনানী, গুলশান এলাকা নিয়ে গঠিত রাজধানীর এই আসনে ভোটার সোয়া তিন লাখ। তবে অধিকাংশ কেন্দ্র দিনভর ফাঁকা দেখা গেছে। নির্বাচন কমিশনার আলমগীর বলেন, “ঢাকায় ভোটার উপস্থিতি খুবই কম। এটা নানা কারণে হয়ে থাকে। এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত হিসেব পাইনি। ধারণা করা হচ্ছে, ১২ থেকে ১৩% ভোটের হার হতে পারে। সর্বোচ্চ ১৪-১৫% ভোট পড়তে পারে।” গত কে এম নুরুল হুদা কমিশনের সময় ২০২০ সালের মার্চে করোনাভাইরাস সংক্রমণ আতঙ্কের মধ্যে ঢাকা-১০ আসনে উপনির্বাচনে ইভিএমে মাত্র ৫.২৮% ভোট পড়ার নজির রয়েছে। এবার ঢাকা-১৭ উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ হয় সম্পূর্ণ ব্যালটে। সোমবার ঢাকায় উপনির্বাচনের পাশাপাশি বিভিন্ন পৌরসভা ও ইউনিয়নেও নির্বাচন হয়েছে। পৌরসভায় ৫০-৮০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে জানান আলমগীর।