ঢাকা ০৫:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

ভূমিকম্পে সেফটি ব্যাগ ও সচেতনতা

  • আপডেট সময় : ০২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমাদের ঘাড়ের উপরে ভয়ঙ্কর দানব ভূমিকম্প -বারবার স্মরণ করে দিচ্ছে আমি আসছি। তাই আমাদেরও শান্তশিষ্ট মনে ভূমিকম্পের সঙ্গে অভিযোজন ঘটাতে হবে। মানে তার সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। সে আসতে পারে, নাও পারে। মৃদু মৃদু, মাঝারি কিংবা একটু বড় আকারেও ঝাঁকাতে পারে। আজ কাল কিংবা দশ বছর পরে।

আমাদের করণীয় কী? হয়তো অনেকেই জেনে গেছি। যারা এখনো জানতে পারেননি, ইন্টারনেটে বা পত্রিকা পড়ে জেনে নিন। পরিবারের প্রত্যেকটি লোককে শেখান ও সচেতন করুন।

ভূমিকম্পের সময় কোথায় অবস্থানরত অবস্থায় কী করণীয়। প্রথম কম্পের পরে কী করণীয়। তার আগে কিংবা প্রতিটা ঘরে, অফিসে, কারখানায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেকেরই কী করলে অন্তত নিজেকে কিছুটা নিরাপদ রাখা যায়। এটা জানা এবং সম্ভবপর প্রস্তুত থাকা খুব প্রয়োজন। এ বিষয় নিয়ে সোশ্যাল ট্রল বা হাস্যরস না করাই উত্তম। আবার এ নিয়ে অধিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়াও অমঙ্গলজনক।

সেফটি ব্যাগ কী? আসুন, আজ থেকেই, এখন থেকেই জনে জনে বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা যেকোনো কর্মস্থলে একটা করে ভূমিকম্প প্যাকেজ সেফটি ব্যাগ রাখি। সে ব্যাগে থাকবে হালকা অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্র।

যেমন-১। অন্তত তিন থেকে ৭দিন অল্প অল্প খেয়ে বেঁচে থাকা যায় এমন শুকনো খাবার ও পানির বোতল। সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ২। একটি বা দুটি বাঁশি, মাস্ক, লাল কাপড় আর লম্বা একটা লাঠি। যাতে লাল কাপড়টা বেঁধে আটকা অবস্থায় এদিক ওদিক করার সুযোগ থাকে। উদ্ধারকারীদের উদ্দেশে প্রদর্শন করা যায় ৩। পরিধানের হালকা বস্ত্র ৪। নগদ টাকা, সোনা গহনা ও জরুরি কাগজপত্রের কপি এবং ব্যাংকিং কাগজপত্র ৫। মোবাইল ফোনসহ স্বল্প ওজনের ডিভাইস সামগ্রী ৬। সম্ভবপর অন্যান্য প্রয়োজনীয় হালকা পাতলা জিনিস।

৩০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা দামের হেলমেট জনপ্রতি একটা করে কিনে বাসায় রাখতে পারেন। সেফটি ব্যাগ আর হেলমেট বাসা বা অফিসের এমন স্থানে রাখতে হবে, যাতে ভূমিকম্পের সময় সাথে সাথে হেলমেট মাথায় দিয়ে ব্যাগ নিয়ে টেবিল বা শক্ত কিছুর নিচে আশ্রয় নেওয়া যায়। প্রথম কম্প শেষ হলে বের হবার সুযোগ পেলে একটু দ্রুত তবে অবশ্যই হুড়োহুড়ি ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে খোলা স্থানে চলে যেতে হবে।

ঘরবাড়ি যদি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতর থেকে বের হবার সুযোগ না থাকে, ঘরের নিরাপদ স্থানেই মনোবল ঠিক রেখে অবস্থান করতে হবে। উদ্ধারকারীদের নাম্বারে ফোন করতে হবে।

আশা রাখুন, ভাবনা ইতিবাচক করুন। মনে রাখবেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলেও কোনো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বা নগরের অধিকাংশ ভবন কম ক্ষতিগ্র-স্ত হয়। কারণ, পাশাপাশি প্রায় লেগে থাকা ভবনগুলো যখন ভূতলের ঝাঁকুনিতে কেঁপে হেলেদুলে পড়ার অবস্থা হয়, গতিসূত্র অনুযায়ী তখন একটা ভবনের সাথে আরেকটার সংস্পর্শে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি হয়। তাতে ভবন বেশি দেবেও যেতে পারেনা এবং হেলে পড়তেও পারেনা। তবে ভবনের মধ্যে আসবাবপত্রসহ নানা জিনিস গায়ের ওপর পড়তে পারে এবং ছাদসহ ভবনের দেওয়াল, ইট বালু ভেঙেই বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অনেক সময় ভাঙাচুরা র‌্যাবিশ নাকে চোখে মুখে ঢুকে শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই হেলমেট আর মাস্ক কম্পনের শুরুতেই পরা জরুরি। এভাবেই শিখে নিতে হবে ভূমিকম্প থেকে পরিত্রাণের নানা উপায়। আর সচেতন থাকতে হবে সব সময়।
মনে রাখবেন-আতঙ্ক নয়, সচেতনতা। এখানেই নিহিত ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয়কে জয় করার মহামন্ত্র।

সানা/এসি/আপ্র/১৭/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

ভূমিকম্পে সেফটি ব্যাগ ও সচেতনতা

আপডেট সময় : ০২:১৫:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: আমাদের ঘাড়ের উপরে ভয়ঙ্কর দানব ভূমিকম্প -বারবার স্মরণ করে দিচ্ছে আমি আসছি। তাই আমাদেরও শান্তশিষ্ট মনে ভূমিকম্পের সঙ্গে অভিযোজন ঘটাতে হবে। মানে তার সঙ্গে মানিয়ে চলার চেষ্টা করতে হবে। সে আসতে পারে, নাও পারে। মৃদু মৃদু, মাঝারি কিংবা একটু বড় আকারেও ঝাঁকাতে পারে। আজ কাল কিংবা দশ বছর পরে।

আমাদের করণীয় কী? হয়তো অনেকেই জেনে গেছি। যারা এখনো জানতে পারেননি, ইন্টারনেটে বা পত্রিকা পড়ে জেনে নিন। পরিবারের প্রত্যেকটি লোককে শেখান ও সচেতন করুন।

ভূমিকম্পের সময় কোথায় অবস্থানরত অবস্থায় কী করণীয়। প্রথম কম্পের পরে কী করণীয়। তার আগে কিংবা প্রতিটা ঘরে, অফিসে, কারখানায়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে প্রত্যেকেরই কী করলে অন্তত নিজেকে কিছুটা নিরাপদ রাখা যায়। এটা জানা এবং সম্ভবপর প্রস্তুত থাকা খুব প্রয়োজন। এ বিষয় নিয়ে সোশ্যাল ট্রল বা হাস্যরস না করাই উত্তম। আবার এ নিয়ে অধিক দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হওয়াও অমঙ্গলজনক।

সেফটি ব্যাগ কী? আসুন, আজ থেকেই, এখন থেকেই জনে জনে বাসাবাড়ি, অফিস কিংবা যেকোনো কর্মস্থলে একটা করে ভূমিকম্প প্যাকেজ সেফটি ব্যাগ রাখি। সে ব্যাগে থাকবে হালকা অথচ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু জিনিসপত্র।

যেমন-১। অন্তত তিন থেকে ৭দিন অল্প অল্প খেয়ে বেঁচে থাকা যায় এমন শুকনো খাবার ও পানির বোতল। সাথে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র ২। একটি বা দুটি বাঁশি, মাস্ক, লাল কাপড় আর লম্বা একটা লাঠি। যাতে লাল কাপড়টা বেঁধে আটকা অবস্থায় এদিক ওদিক করার সুযোগ থাকে। উদ্ধারকারীদের উদ্দেশে প্রদর্শন করা যায় ৩। পরিধানের হালকা বস্ত্র ৪। নগদ টাকা, সোনা গহনা ও জরুরি কাগজপত্রের কপি এবং ব্যাংকিং কাগজপত্র ৫। মোবাইল ফোনসহ স্বল্প ওজনের ডিভাইস সামগ্রী ৬। সম্ভবপর অন্যান্য প্রয়োজনীয় হালকা পাতলা জিনিস।

৩০০ টাকা থেকে ৩০০০ টাকা দামের হেলমেট জনপ্রতি একটা করে কিনে বাসায় রাখতে পারেন। সেফটি ব্যাগ আর হেলমেট বাসা বা অফিসের এমন স্থানে রাখতে হবে, যাতে ভূমিকম্পের সময় সাথে সাথে হেলমেট মাথায় দিয়ে ব্যাগ নিয়ে টেবিল বা শক্ত কিছুর নিচে আশ্রয় নেওয়া যায়। প্রথম কম্প শেষ হলে বের হবার সুযোগ পেলে একটু দ্রুত তবে অবশ্যই হুড়োহুড়ি ছাড়াই স্বাভাবিকভাবে বের হয়ে খোলা স্থানে চলে যেতে হবে।

ঘরবাড়ি যদি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ভেতর থেকে বের হবার সুযোগ না থাকে, ঘরের নিরাপদ স্থানেই মনোবল ঠিক রেখে অবস্থান করতে হবে। উদ্ধারকারীদের নাম্বারে ফোন করতে হবে।

আশা রাখুন, ভাবনা ইতিবাচক করুন। মনে রাখবেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলেও কোনো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে বা নগরের অধিকাংশ ভবন কম ক্ষতিগ্র-স্ত হয়। কারণ, পাশাপাশি প্রায় লেগে থাকা ভবনগুলো যখন ভূতলের ঝাঁকুনিতে কেঁপে হেলেদুলে পড়ার অবস্থা হয়, গতিসূত্র অনুযায়ী তখন একটা ভবনের সাথে আরেকটার সংস্পর্শে এক ধরনের ভারসাম্য তৈরি হয়। তাতে ভবন বেশি দেবেও যেতে পারেনা এবং হেলে পড়তেও পারেনা। তবে ভবনের মধ্যে আসবাবপত্রসহ নানা জিনিস গায়ের ওপর পড়তে পারে এবং ছাদসহ ভবনের দেওয়াল, ইট বালু ভেঙেই বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়।

অনেক সময় ভাঙাচুরা র‌্যাবিশ নাকে চোখে মুখে ঢুকে শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই হেলমেট আর মাস্ক কম্পনের শুরুতেই পরা জরুরি। এভাবেই শিখে নিতে হবে ভূমিকম্প থেকে পরিত্রাণের নানা উপায়। আর সচেতন থাকতে হবে সব সময়।
মনে রাখবেন-আতঙ্ক নয়, সচেতনতা। এখানেই নিহিত ভূমিকম্পের মতো বিপর্যয়কে জয় করার মহামন্ত্র।

সানা/এসি/আপ্র/১৭/০১/২০২৬