প্রত্যাশা ডেস্ক: ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে একটি মাইলফলক বাণিজ্যিক চুক্তি চূড়ান্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দিল্লিতে ভারত-ইইউ সম্মেলনের আগে তিনি এই চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এটি ভারত ও ইউরোপের কোটি কোটি মানুষের জন্য বিশাল সুযোগ বয়ে আনবে। প্রায় দুই দশক ধরে দীর্ঘ আলোচনার পর এই বহুল আকাঙ্ক্ষিত বাণিজ্য চুক্তিটি (এফটিএ) বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ ভারতকে তার বিশাল ও সুরক্ষিত বাজারসহ বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার ২৭ জাতির ইইউয়ের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যের পথ প্রশস্ত করার সুযোগ দেবে।
এ বিষয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেন, গতকাল (সোমবার) ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বিশ্বের মানুষ একে ‘মাদার অফ অল ডিলস’ বলে অভিহিত করছে। এই চুক্তি ভারতের ১৪০ কোটি মানুষ এবং ইউরোপের কোটি কোটি মানুষের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
রয়টার্স জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে মোদী এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন নয়া দিল্লিতে ভারত-ইইউ সম্মেলনে যৌথভাবে এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন এবং বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত অর্থবছরের বাণিজ্য প্রেক্ষাপট ও পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৩ হাজার ৬৫০ কোটি ডলার। এই বিশাল অংকের বাণিজ্যকে আরো গতিশীল ও বিস্তৃত করতেই নতুন এই চুক্তি করা হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন মারকোসুর, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে বড় ধরনের চুক্তি করেছে। অন্যদিকে ভারতও ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড ও ওমানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের রক্ষণশীল বাণিজ্য নীতি এবং গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির মুখে দেশগুলো এখন বিকল্প বাজার খুঁজছে।
বিশেষ করে ভারতের পণ্যের ওপর ট্রাম্প ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করার পর গত বছর ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি ভেস্তে যায়। মূলত ওয়াশিংটনের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের অর্থনীতি সুরক্ষিত রাখতেই ভারত ও ইইউ এই চুক্তিতে উপনীত হয়েছে।
ভারত সরকারের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চুক্তির আইনি দিকগুলোর যাচাই-বাছাই শেষ করতে আরো পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে। তিনি বলেন, আমরা আশা করছি আগামী এক বছরের মধ্যেই এই চুক্তি পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হবে।
সানা/মেহেদী/আপ্র/২৭/০১/২০২৬




















