ঢাকা ১২:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

বিভাজনের রাজনীতি

  • আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২
  • ১৫৮ বার পড়া হয়েছে

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা : রাজনীতিতে মহড়া চলছে, শক্তিমত্তা প্রমাণ দেওয়ার মহড়া। বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ করছে এবং আগামী ১০ ডিসেম্বর দলটি ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিএনপি বলছে এদিনই দেওয়া হবে আল্টিমেটাম। দলের নেতা আমানউল্লাহ আমান তো বলেছেনই, ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায় চলবে দেশ। এ নিয়ে সরকারি দলের প্রতিক্রিয়া আছে, তবে খোদ বিএনপির ভেতর থেকেই বলা হয়েছে, আমানের বক্তব্য একটি কথার কথা। শাসক দলও রাজপথে নামতে শুরু করেছে বিভিন্ন জনপদে সম্মেলন করার মাধ্যমে। এবং জানিয়েছে ১০ ডিসেম্বর দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে। আর এ কারণে জনমনেও একটা শঙ্কা কাজ করছে ওই দিনটিকে ঘিরে। বাংলাদেশের রাজনীতি এমনই। প্রতি পাঁচ বছর পর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ। বিরোধী দল এ সময় চাঙা হয়ে ওঠে এবং সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে চায়। সেটা তারা হয়তো পারবে না, কিন্তু এসবের মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। ২০১৩-১৪ সালের পেট্রোলবোমার আগুন আন্দোলনের কথা মনে হলে এখনও মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়। এখন রাজনীতি মানেই বিভাজিত শত্রু ও মিত্রের মধ্যে অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন।
শত্রু ও মিত্র কথা মানে আলঙ্কারিক অর্থে নয়, প্রতীকী অর্থেও নয়। একেবারেই মৌলিক। ১৯৭১ সালের আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করেছে। ১৯৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সেটি আরও স্পষ্ট করেছে কারা সেই খুনের বেনিফিসিয়ারি আর কারা ভিকটিম। যুদ্ধাপরাধের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা থাকলেও বিভাজনকে দূর করা যায়নি। ২০০৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে হত্যার চেষ্টা বড় দাগ হয়ে থাকছে আমাদের রাজনীতিতে। ক্ষমতাসীনরা তখন বিচারের উদ্যোগ না নিয়ে উপহাস করেছে উল্টো শেখ হাসিনাকে নিয়ে এবং জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকেই নষ্ট করে দিতে চেয়েছে। তাই আমাদের রাজনৈতিক আঙিনায় শত্রু ও মিত্রের বাস্তবতা স্পষ্ট। এর সত্যতা বোঝা যায় লড়াই, সংঘাতে, বোঝা যায় মৌলবাদী জঙ্গি ও সহিংস গোষ্ঠীর আদর্শ কাকে কতটা প্রভাবিত করছে, কারা তাদের ধারণ করছে তার মধ্যে। তাই শত্রু ও মিত্রের সঙ্গে যেটা অপরিহার্যভাবে যুক্ত সেটা হলো সন্ত্রাস, সহিংসতা ও মারামারি। আর এটাই বহুদিনের চর্চিত রাজনীতি। মানুষ তাই আগামী ১০ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে। কী হতে পারে সেদিন? যেহেতু কর্মসূচি রাজধানীতে, তাই মানুষের জিজ্ঞাসা- বিএনপি কি এমন কিছু করতে চায়, যা দেশে রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে? শাসক দল আওয়ামী লীগের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের ভেতর তেমন কোনো চিন্তা নেই দিনটিকে ঘিরে। অন্যদিকে বড় আশা করে বড় সমাবেশের চেষ্টা করছে বিএনপি। সেদিন বড় কিছু ঘটবে বা ঘটবে না। কিন্তু আসল কথা হলো দেশের রাজনীতি বহু বছর ধরে এই শত্রু-মিত্র বিভাজন দলেই পথ চলছে। বিভাজনের দাঙ্গাবাজির রাজনীতিতে মানুষ বাস করছে এক অবক্ষয়িত সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবেশে। মানুষ দেখছে রাজনীতি মানে রাজনীতিবিদের ভাবনা- কে কাকে কখন নির্মূল করতে পারবে। এই বিষয়টি মানুষের জীবনেও প্রভাব বিস্তার করছে। কারণ, তারাও যার যার পরিবেশে এ চর্চাই করছে। এখানে জীবনই হলো ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক। জনগণের জন্য রাজনীতি তাই শেষ পর্যন্ত ত্রাস, আতঙ্ক, ভীতির; মানুষ তাই ব্যস্ত থাকে সম্ভাব্য মৃত্যু, হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।
দলাদলি শত্রু ও মিত্রের বিভাজনেরও একটা আলাদা চেহারা আছে। সরাসরি শত্রু-মিত্র, আমরা-ওরায় বিভাজিত রাজনীতি এখানে আছে ঠিকই, তবে সেটা ওপরতলায় আঘাত করছে কম। তারা যে রাজনীতিই করুক, তাদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতমূলক সমাজ ব্যবস্থা তারা সাধারণের মধ্যে জিইয়ে রাখছে সচেতনভাবেই। তাই সহিংসতা ও বিভেদের রাজনীতির একমাত্র শিকার সাধারণ মানুষ। এখানে ব্যক্তির বা নাগরিকের অস্তিত্ব সীমিত, খ-িত। হত্যা, বিরোধ, সংঘাতের এই পরিবেশে নাগরিকদের পরস্পরনির্ভরতা সম্ভব নয়। শত্রু-মিত্রের রাজনীতি তা হতেও দেয় না। তাই আমরা বলতে পারি দলাদলি, শত্রু-মিত্র, হিং¯্রতা দেশের রাজনীতিতে এক চিরস্থায়ী অশান্তি সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষের জন্য। এই পরিবেশ দেশের রাজনীতিতে উদারনৈতিক মতবাদের ব্যর্থতা প্রতিপন্ন করে। উদারনীতি শত্রু-মিত্রের পার্থক্যকে মতের পার্থক্য হিসেবে বুঝতে চায়। দাবি করে সব বিরোধ যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। দুঃখজনক হলো, সেই সংস্কৃতি গড়েই উঠলো না এখানে। রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির বাস্তববাদী মূল্যায়ন বলে, এখানে সহিংসতা আর সংঘাতই বড় উপকরণ। বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ও পেশাজীবী সব স্তরই আজ বিভাজিত। কোনো সুস্থ নাগরিক সমাজ নেই। তাই এখানে সৃষ্টি করেছে এমন এক সিস্টেম, যা কেবল সংঘাতের মাধ্যমেই সমাধান খোঁজে। দোষ হয়তো দেওয়া যাবে মানুষের অপদার্থতা, ভীরুতা ও মেরুদ-হীনতাকে। কিন্তু এটুকুই, এর বেশি কিছু আশা করা ভুল। আমাদের রাজনীতি কোনোদিনই বুঝবে না যে সহিংসতা ফল দেয়, কিন্তু ফল দেয় অনির্দিষ্টভাবে।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

বিভাজনের রাজনীতি

আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ নভেম্বর ২০২২

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা : রাজনীতিতে মহড়া চলছে, শক্তিমত্তা প্রমাণ দেওয়ার মহড়া। বিএনপি বিভাগীয় সমাবেশ করছে এবং আগামী ১০ ডিসেম্বর দলটি ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিএনপি বলছে এদিনই দেওয়া হবে আল্টিমেটাম। দলের নেতা আমানউল্লাহ আমান তো বলেছেনই, ১০ ডিসেম্বরের পর থেকে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কথায় চলবে দেশ। এ নিয়ে সরকারি দলের প্রতিক্রিয়া আছে, তবে খোদ বিএনপির ভেতর থেকেই বলা হয়েছে, আমানের বক্তব্য একটি কথার কথা। শাসক দলও রাজপথে নামতে শুরু করেছে বিভিন্ন জনপদে সম্মেলন করার মাধ্যমে। এবং জানিয়েছে ১০ ডিসেম্বর দলের নেতাকর্মীরা রাজপথে থাকবে। আর এ কারণে জনমনেও একটা শঙ্কা কাজ করছে ওই দিনটিকে ঘিরে। বাংলাদেশের রাজনীতি এমনই। প্রতি পাঁচ বছর পর পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজপথ। বিরোধী দল এ সময় চাঙা হয়ে ওঠে এবং সরকারকে টেনেহিঁচড়ে নামাতে চায়। সেটা তারা হয়তো পারবে না, কিন্তু এসবের মূল্য দিতে হয় সাধারণ মানুষকে। ২০১৩-১৪ সালের পেট্রোলবোমার আগুন আন্দোলনের কথা মনে হলে এখনও মানুষ ভয়ে আতঙ্কিত হয়। এখন রাজনীতি মানেই বিভাজিত শত্রু ও মিত্রের মধ্যে অ্যাকশন-রিঅ্যাকশন।
শত্রু ও মিত্র কথা মানে আলঙ্কারিক অর্থে নয়, প্রতীকী অর্থেও নয়। একেবারেই মৌলিক। ১৯৭১ সালের আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ একটি পক্ষ-বিপক্ষ সৃষ্টি করেছে। ১৯৭৫-এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সেটি আরও স্পষ্ট করেছে কারা সেই খুনের বেনিফিসিয়ারি আর কারা ভিকটিম। যুদ্ধাপরাধের বিচার, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা থাকলেও বিভাজনকে দূর করা যায়নি। ২০০৪ সালে বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় গ্রেনেড হামলা করে শেখ হাসিনাসহ পুরো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বকে হত্যার চেষ্টা বড় দাগ হয়ে থাকছে আমাদের রাজনীতিতে। ক্ষমতাসীনরা তখন বিচারের উদ্যোগ না নিয়ে উপহাস করেছে উল্টো শেখ হাসিনাকে নিয়ে এবং জজ মিয়া নাটক সাজিয়ে বিচার প্রক্রিয়াকেই নষ্ট করে দিতে চেয়েছে। তাই আমাদের রাজনৈতিক আঙিনায় শত্রু ও মিত্রের বাস্তবতা স্পষ্ট। এর সত্যতা বোঝা যায় লড়াই, সংঘাতে, বোঝা যায় মৌলবাদী জঙ্গি ও সহিংস গোষ্ঠীর আদর্শ কাকে কতটা প্রভাবিত করছে, কারা তাদের ধারণ করছে তার মধ্যে। তাই শত্রু ও মিত্রের সঙ্গে যেটা অপরিহার্যভাবে যুক্ত সেটা হলো সন্ত্রাস, সহিংসতা ও মারামারি। আর এটাই বহুদিনের চর্চিত রাজনীতি। মানুষ তাই আগামী ১০ ডিসেম্বরের দিকে তাকিয়ে। কী হতে পারে সেদিন? যেহেতু কর্মসূচি রাজধানীতে, তাই মানুষের জিজ্ঞাসা- বিএনপি কি এমন কিছু করতে চায়, যা দেশে রাজনীতির মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে? শাসক দল আওয়ামী লীগের মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তাদের ভেতর তেমন কোনো চিন্তা নেই দিনটিকে ঘিরে। অন্যদিকে বড় আশা করে বড় সমাবেশের চেষ্টা করছে বিএনপি। সেদিন বড় কিছু ঘটবে বা ঘটবে না। কিন্তু আসল কথা হলো দেশের রাজনীতি বহু বছর ধরে এই শত্রু-মিত্র বিভাজন দলেই পথ চলছে। বিভাজনের দাঙ্গাবাজির রাজনীতিতে মানুষ বাস করছে এক অবক্ষয়িত সামাজিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের পরিবেশে। মানুষ দেখছে রাজনীতি মানে রাজনীতিবিদের ভাবনা- কে কাকে কখন নির্মূল করতে পারবে। এই বিষয়টি মানুষের জীবনেও প্রভাব বিস্তার করছে। কারণ, তারাও যার যার পরিবেশে এ চর্চাই করছে। এখানে জীবনই হলো ক্ষমতা কাঠামোর সঙ্গে সম্পর্ক। জনগণের জন্য রাজনীতি তাই শেষ পর্যন্ত ত্রাস, আতঙ্ক, ভীতির; মানুষ তাই ব্যস্ত থাকে সম্ভাব্য মৃত্যু, হয়রানি ও প্রতিবন্ধকতা থেকে নিজেকে রক্ষা করতে।
দলাদলি শত্রু ও মিত্রের বিভাজনেরও একটা আলাদা চেহারা আছে। সরাসরি শত্রু-মিত্র, আমরা-ওরায় বিভাজিত রাজনীতি এখানে আছে ঠিকই, তবে সেটা ওপরতলায় আঘাত করছে কম। তারা যে রাজনীতিই করুক, তাদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকে। বৈষম্যমূলক, পক্ষপাতমূলক সমাজ ব্যবস্থা তারা সাধারণের মধ্যে জিইয়ে রাখছে সচেতনভাবেই। তাই সহিংসতা ও বিভেদের রাজনীতির একমাত্র শিকার সাধারণ মানুষ। এখানে ব্যক্তির বা নাগরিকের অস্তিত্ব সীমিত, খ-িত। হত্যা, বিরোধ, সংঘাতের এই পরিবেশে নাগরিকদের পরস্পরনির্ভরতা সম্ভব নয়। শত্রু-মিত্রের রাজনীতি তা হতেও দেয় না। তাই আমরা বলতে পারি দলাদলি, শত্রু-মিত্র, হিং¯্রতা দেশের রাজনীতিতে এক চিরস্থায়ী অশান্তি সৃষ্টি করেছে সাধারণ মানুষের জন্য। এই পরিবেশ দেশের রাজনীতিতে উদারনৈতিক মতবাদের ব্যর্থতা প্রতিপন্ন করে। উদারনীতি শত্রু-মিত্রের পার্থক্যকে মতের পার্থক্য হিসেবে বুঝতে চায়। দাবি করে সব বিরোধ যুক্তি ও আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা যায়। দুঃখজনক হলো, সেই সংস্কৃতি গড়েই উঠলো না এখানে। রাজনৈতিক গতি-প্রকৃতির বাস্তববাদী মূল্যায়ন বলে, এখানে সহিংসতা আর সংঘাতই বড় উপকরণ। বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ও পেশাজীবী সব স্তরই আজ বিভাজিত। কোনো সুস্থ নাগরিক সমাজ নেই। তাই এখানে সৃষ্টি করেছে এমন এক সিস্টেম, যা কেবল সংঘাতের মাধ্যমেই সমাধান খোঁজে। দোষ হয়তো দেওয়া যাবে মানুষের অপদার্থতা, ভীরুতা ও মেরুদ-হীনতাকে। কিন্তু এটুকুই, এর বেশি কিছু আশা করা ভুল। আমাদের রাজনীতি কোনোদিনই বুঝবে না যে সহিংসতা ফল দেয়, কিন্তু ফল দেয় অনির্দিষ্টভাবে।