ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

‘বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি’, মোদী সরকারের জবাব চাইল আদালত

  • আপডেট সময় : ০৪:৫০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৫ বার পড়া হয়েছে

filter: 0; fileterIntensity: 0.0; filterMask: 0; captureOrientation: 0; module: photo; hw-remosaic: false; touch: (-1.0, -1.0); modeInfo: ; sceneMode: 8; cct_value: 5500; AI_Scene: (0, 0); aec_lux: 68.0; aec_lux_index: 0; hist255: 0.0; hist252~255: 0.0; hist0~15: 0.0; albedo: ; confidence: ; motionLevel: 0; weatherinfo: null; temperature: 37;

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাভাষী হলেই লোকজনকে আটক করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি না- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেকে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

এদিন, আদালতে বিচারপতি সুর্য কান্ত, জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পানচোলির বেঞ্চ বলেন, দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা থাকলেও প্রশ্ন হলো- কোনো বিশেষ ভাষাভাষীকে শুধু সেই ভাষার কারণেই বিদেশি হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে কি না।

বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, আমরা পরিষ্কার হতে চাই, এই অভিযোগ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কি আসলেই একটি নির্দিষ্ট ভাষা ব্যবহারকারীকে বিদেশি বলে ধরে নিচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ক্ষমতা প্রয়োগ কতটা সঠিক?

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিয়ায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন পর্ষদের চেয়ারপারসন ও তৃণমূল সংসদ সদস্য সমিরুল ইসলাম। তার অভিযোগ, বাংলাভাষী অভিবাসী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে ও নাগরিকত্ব যাচাই না করেই বাংলাদেশে পুশ ইন করা হচ্ছে।

আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, কলকাতা হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস করপাস মামলা করা হয়েছিল এক নারীর পক্ষ থেকে, যাকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়। হাইকোর্টে ওই মামলা মুলতবি রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টে চলা এই মামলার কারণে। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানায়- দুটি মামলা আলাদা। হাইকোর্ট যেন অবিলম্বে শুনানি শুরু করেন ও নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রশ্নও সেখানে তোলা যেতে পারে।

ভূষণ অভিযোগ করেন, শুধু বাংলায় কথা বলার কারণে একজন নারীকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, বাংলা মানেই বাংলাদেশি ভাষা, আর তাই যারা বাংলায় কথা বলে তারা বাংলাদেশি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল কিংবা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি ঘোষণা না করেই কীভাবে কাউকে ঠেলে দেওয়া হয়?

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সমঝোতাও নেই। অন্য কোনো দেশ কাউকে গ্রহণে সম্মতি না দিলে জোর করে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।

বিচারপতি কান্ত বলেন, এখানে নানা বাস্তব প্রশ্ন রয়েছে, যা হাইকোর্টকেই দেখতে হবে। বিচারপতি বাগচি মন্তব্য করেন, সীমান্তে ধরা পড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে প্রতিহত করার অধিকার নিরাপত্তাবাহিনীর রয়েছে। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রম করার পর যদি কেউ দেশের ভেতরে থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, কেন ব্যক্তিগত ভুক্তভোগীরা আদালতে আসছেন না? কেন বিভিন্ন সংগঠন সামনে আসছে? ভারত বিশ্বের অবৈধ অভিবাসীদের রাজধানী নয়। আমাদের নাগরিকদের জন্য যে সম্পদ রয়েছে, অবৈধ অভিবাসীরা যেন তা নষ্ট না করে, সেটাই আমরা নিশ্চিত করছি।

তবে বিচারপতি কান্ত ইঙ্গিত দেন, অভিযোগ হচ্ছে- কেবল বাংলায় কথা বলার কারণে মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে। মেহেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, না, আমরা সংবাদমাধ্যমের খবরের ওপর নির্ভর করতে পারি না।

বিচারপতি বাগচি বলেন, এখানে বিষয়টি সংবেদনশীল। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, সম্পদের সুরক্ষা; অন্যদিকে আমাদের যৌথ ঐতিহ্য- যেমন পাঞ্জাব ও বাংলায় ভাষা এক হলেও সীমান্ত আমাদের আলাদা করেছে। তাই এই অভিযোগ যদি আবেদনে থাকে, তবে কেন্দ্রের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি।

মেহেতা জবাব দেন, তিনি সরকারের অবস্থান জানাবেন। তবে এই আইনজীবী ব্যক্তিগত ভুক্তভোগীদের আদালতে আসার ওপর জোর দেন। বিচারপতি কান্ত বলেন, সব ক্ষেত্রে হয়তো ব্যক্তিরা সরাসরি আসতে সক্ষম নন।

মেহেতা আরো বলেন, প্রশান্ত ভূষণের মতো জনহিতৈষীরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অবৈধ অভিবাসন সমস্যায় সাহায্য করতে পারেন। উত্তরে বিচারপতি বাগচি রসিকতা করে প্রশ্ন করেন, আমরাও কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেয়াল তুলব?

আলোচনার একপর্যায়ে ভূষণ বলেন, বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত না করে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করার অধিকার আইন দেয় না। মেহেতা প্রস্তাব দেন, এ মামলাটি রোহিঙ্গা ইস্যু সংক্রান্ত চলমান মামলার সঙ্গে একত্রে শোনা হোক।

আদালত আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং সলিসিটর জেনারেলকে এই মামলা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক মামলায় সরকারের জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

সূূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৫

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

বিএনপি’র ৪৭তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী আজ

‘বাংলা বললেই কি বাংলাদেশি’, মোদী সরকারের জবাব চাইল আদালত

আপডেট সময় : ০৪:৫০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাভাষী হলেই লোকজনকে আটক করে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে কি না- ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারেকে এই প্রশ্নের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি নিয়ে দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেন ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

এদিন, আদালতে বিচারপতি সুর্য কান্ত, জয়মাল্য বাগচী ও বিপুল এম পানচোলির বেঞ্চ বলেন, দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশের সমস্যা থাকলেও প্রশ্ন হলো- কোনো বিশেষ ভাষাভাষীকে শুধু সেই ভাষার কারণেই বিদেশি হিসেবে ধরে নেওয়া হচ্ছে কি না।

বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, আমরা পরিষ্কার হতে চাই, এই অভিযোগ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কি আসলেই একটি নির্দিষ্ট ভাষা ব্যবহারকারীকে বিদেশি বলে ধরে নিচ্ছে? যদি তাই হয়, তবে এ ধরনের পক্ষপাতদুষ্ট ক্ষমতা প্রয়োগ কতটা সঠিক?

জানা গেছে, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের পরিয়ায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টে এই জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন পর্ষদের চেয়ারপারসন ও তৃণমূল সংসদ সদস্য সমিরুল ইসলাম। তার অভিযোগ, বাংলাভাষী অভিবাসী শ্রমিকদের বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে ও নাগরিকত্ব যাচাই না করেই বাংলাদেশে পুশ ইন করা হচ্ছে।

আবেদনকারীদের পক্ষে আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বলেন, কলকাতা হাইকোর্টে একটি হেবিয়াস করপাস মামলা করা হয়েছিল এক নারীর পক্ষ থেকে, যাকে বাংলাদেশি সন্দেহে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেওয়া হয়। হাইকোর্টে ওই মামলা মুলতবি রাখা হয় সুপ্রিম কোর্টে চলা এই মামলার কারণে। এ সময় সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানায়- দুটি মামলা আলাদা। হাইকোর্ট যেন অবিলম্বে শুনানি শুরু করেন ও নাগরিকত্ব নির্ধারণের প্রশ্নও সেখানে তোলা যেতে পারে।

ভূষণ অভিযোগ করেন, শুধু বাংলায় কথা বলার কারণে একজন নারীকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বলা হচ্ছে, বাংলা মানেই বাংলাদেশি ভাষা, আর তাই যারা বাংলায় কথা বলে তারা বাংলাদেশি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল কিংবা ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিদেশি ঘোষণা না করেই কীভাবে কাউকে ঠেলে দেওয়া হয়?

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো সমঝোতাও নেই। অন্য কোনো দেশ কাউকে গ্রহণে সম্মতি না দিলে জোর করে ঠেলে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।

বিচারপতি কান্ত বলেন, এখানে নানা বাস্তব প্রশ্ন রয়েছে, যা হাইকোর্টকেই দেখতে হবে। বিচারপতি বাগচি মন্তব্য করেন, সীমান্তে ধরা পড়া অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে প্রতিহত করার অধিকার নিরাপত্তাবাহিনীর রয়েছে। কিন্তু সীমান্ত অতিক্রম করার পর যদি কেউ দেশের ভেতরে থাকে, তবে তার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা বলেন, কেন ব্যক্তিগত ভুক্তভোগীরা আদালতে আসছেন না? কেন বিভিন্ন সংগঠন সামনে আসছে? ভারত বিশ্বের অবৈধ অভিবাসীদের রাজধানী নয়। আমাদের নাগরিকদের জন্য যে সম্পদ রয়েছে, অবৈধ অভিবাসীরা যেন তা নষ্ট না করে, সেটাই আমরা নিশ্চিত করছি।

তবে বিচারপতি কান্ত ইঙ্গিত দেন, অভিযোগ হচ্ছে- কেবল বাংলায় কথা বলার কারণে মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করা হচ্ছে। মেহেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, না, আমরা সংবাদমাধ্যমের খবরের ওপর নির্ভর করতে পারি না।

বিচারপতি বাগচি বলেন, এখানে বিষয়টি সংবেদনশীল। একদিকে জাতীয় নিরাপত্তা, সম্পদের সুরক্ষা; অন্যদিকে আমাদের যৌথ ঐতিহ্য- যেমন পাঞ্জাব ও বাংলায় ভাষা এক হলেও সীমান্ত আমাদের আলাদা করেছে। তাই এই অভিযোগ যদি আবেদনে থাকে, তবে কেন্দ্রের অবস্থান পরিষ্কার করা জরুরি।

মেহেতা জবাব দেন, তিনি সরকারের অবস্থান জানাবেন। তবে এই আইনজীবী ব্যক্তিগত ভুক্তভোগীদের আদালতে আসার ওপর জোর দেন। বিচারপতি কান্ত বলেন, সব ক্ষেত্রে হয়তো ব্যক্তিরা সরাসরি আসতে সক্ষম নন।

মেহেতা আরো বলেন, প্রশান্ত ভূষণের মতো জনহিতৈষীরা চাইলে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে অবৈধ অভিবাসন সমস্যায় সাহায্য করতে পারেন। উত্তরে বিচারপতি বাগচি রসিকতা করে প্রশ্ন করেন, আমরাও কি তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেয়াল তুলব?

আলোচনার একপর্যায়ে ভূষণ বলেন, বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত না করে কেবল সন্দেহের ভিত্তিতে কাউকে আটক করার অধিকার আইন দেয় না। মেহেতা প্রস্তাব দেন, এ মামলাটি রোহিঙ্গা ইস্যু সংক্রান্ত চলমান মামলার সঙ্গে একত্রে শোনা হোক।

আদালত আগামী ১১ সেপ্টেম্বর শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন এবং সলিসিটর জেনারেলকে এই মামলা ও রোহিঙ্গা বিষয়ক মামলায় সরকারের জবাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

সূূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৫