ঢাকা ০৯:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

ফের শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা

  • আপডেট সময় : ০৭:০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্প্রতি শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও ফের শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ফের কমতে পারে। এতে করে এসব এলাকায় শীতের প্রকোপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সাধারণত যখন কোনো এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসে, তখন সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা শীতের কড়াকড়ি প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

টানা কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও, আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে এ স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আগামীকাল থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এ অবস্থা চলতে পারে আগামী শনিবার পর্যন্ত। এরপর ফের ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি জানুয়ারি মাসের শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার নিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

যদিও গত চারদিনে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছিল, নতুন করে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস আবারও শীতের দাপট বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শীতের এ ওঠানামা কেন অস্বাভাবিক? পরিবেশ ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ বজলুর রশিদ বলেন, বর্তমান শীতের ধারা গত কয়েক বছরের শীতের তুলনায় ভিন্ন। একদিকে তাপমাত্রার হঠাৎ ওঠানামা, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নভাবে শৈত্যপ্রবাহ সব মিলিয়ে আবহাওয়ার আচরণ এখন আগের মতো নেই।

তিনি আরও বলেন, শীতের মৌসুমে শৈত্যপ্রবাহ কমে গিয়ে ফের হঠাৎ বাড়ার প্রবণতা আগে এত ঘন ঘন দেখা যেত না। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রার অস্থিরতা, বৃষ্টিপাতের অনিয়ম এবং শুষ্ক আবহাওয়া এসব মিলিয়েই আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন শিশু, বয়ষ্ক মানুষ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্তরা। শীতের শুরু ও শেষের সময়গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এ সময়গুলোতে শীত থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওআ/আপ্র/১৪/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

ফের শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ০৭:০৬:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ নিয়ে বড় দুঃসংবাদ দিলো আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্প্রতি শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এলেও ফের শৈত্যপ্রবাহ বাড়ার আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ফের কমতে পারে। এতে করে এসব এলাকায় শীতের প্রকোপ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, সাধারণত যখন কোনো এলাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে নেমে আসে, তখন সেটিকে শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে ধরা হয়।

সম্প্রতি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা প্রায় ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে, যা শীতের কড়াকড়ি প্রভাবের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

টানা কয়েকদিন শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কম থাকলেও, আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে এ স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। আগামীকাল থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এ অবস্থা চলতে পারে আগামী শনিবার পর্যন্ত। এরপর ফের ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

চলতি জানুয়ারি মাসের শুরুতে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছিল, এ মাসে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে অন্তত একটি শৈত্যপ্রবাহ তীব্র আকার নিতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছিল। জানুয়ারির শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

যদিও গত চারদিনে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে এসেছিল, নতুন করে তাপমাত্রা কমার পূর্বাভাস আবারও শীতের দাপট বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

শীতের এ ওঠানামা কেন অস্বাভাবিক? পরিবেশ ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ বজলুর রশিদ বলেন, বর্তমান শীতের ধারা গত কয়েক বছরের শীতের তুলনায় ভিন্ন। একদিকে তাপমাত্রার হঠাৎ ওঠানামা, অন্যদিকে বিচ্ছিন্নভাবে শৈত্যপ্রবাহ সব মিলিয়ে আবহাওয়ার আচরণ এখন আগের মতো নেই।

তিনি আরও বলেন, শীতের মৌসুমে শৈত্যপ্রবাহ কমে গিয়ে ফের হঠাৎ বাড়ার প্রবণতা আগে এত ঘন ঘন দেখা যেত না। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের দিকেও ইঙ্গিত দিতে পারে। দীর্ঘ সময় ধরে তাপমাত্রার অস্থিরতা, বৃষ্টিপাতের অনিয়ম এবং শুষ্ক আবহাওয়া এসব মিলিয়েই আবহাওয়ার স্বাভাবিক চক্রে পরিবর্তন আসছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তাপমাত্রা হঠাৎ কমে গেলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়েন শিশু, বয়ষ্ক মানুষ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত রোগে আক্রান্তরা। শীতের শুরু ও শেষের সময়গুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগ, জ্বর ও শ্বাসকষ্টের প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই এ সময়গুলোতে শীত থেকে সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

ওআ/আপ্র/১৪/০১/২০২৬