ঢাকা ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
যে বার্তা দিলেন বিশেষ সহকারী

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গেট অবরোধে জুলাই আন্দোলনে আহতরা, ঘটনাস্থলে সেনা সদস্যরা

  • আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের মাসিক ভাতাসহ মোট ৩ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে বিছানা বিছিয়ে শুয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের মূল ফটক অবরোধের জেরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ৫টি জিপে করে সেনাসদস্যরা ১ নম্বর ফটকের সামনে এসে অবস্থান নেন।

এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের মাসিক ভাতাসহ মোট ৩ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে বিছানা বিছিয়ে শুয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। ফলে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া কার্যালয়ের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষে সমন্বয়ক আরমান হোসেন বলেন, আমরা এই আন্দোলনের প্রথম সারির যোদ্ধা। আমাদের রক্তের ওপর অন্তর্বর্তী সরকার দাঁড়িয়ে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে আমরা এখানে অবস্থান করছি, কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার পক্ষ থেকে এই দাবি মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হোক। যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তবে আমরা রাস্তা অবরোধ করবো। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে দাবি আদায়ের ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা দাবি জানিয়েছি যেন আহতদের তালিকা তৈরিতে ক্যাটাগরি বৈষম্যের অবসান করা হয়। এখন তিনটি ক্যাটাগরি বিদ্যমান। সেটি বাতিল করে ২টি ক্যাটাগরি করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আহতদের যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অবস্থানকারীদের সঙ্গে দাবির বিষয়ে কথা বলেন। তখন, উপস্থিত ব্যক্তিরা ক্যাটাগরি বৈষম্য দূর করে আহতদের দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা এবং ইমার্জেন্সি হটলাইন চালুর দাবি জানান।

এসব দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা যে আন্দোলন করেছেন সেটির ফলেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা সবাই একটি সুন্দর ও নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আপনারা সেজন্য আহত হয়েছেন রক্ত দিয়েছেন। আপনারা যে সংগ্রাম করেছেন সে জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি নিজে এখানে উপস্থিত হয়ে এই দাবিগুলো গ্রহণ করলাম। যে মন্ত্রণালয় এই দাবিগুলো নিয়ে কাজ করছে আমি নিজ হাতে তাদের কাছে পৌঁছে দেব। আমি আবারও বলছি, আপনাদের ত্যাগ অনস্বীকার্য এবং মূল্য দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। কিন্তু সরকারের একটি নিয়ম আছে। এখন এটি আমি হাতে নিয়েছি এবং যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দেব। একইসঙ্গে বিষয়টি যেন সুবিবেচনা করা হয় সেটিরও অনুরোধ জানাবো। আমি আশা করব আপনারা এই অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেবেন।

এসময় অবস্থানকারীরা নারাজ হলে আবারও আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজে এখানে এসে দাবিগুলো হাতে নিয়েছি। যে উপদেষ্টা এই বিষয়টি দেখেন তার কাছে আমি পৌঁছে দেব। আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি আপনারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করুন।

পরে আহত ও তাদের পরিবারবর্গের পক্ষে আরমান নামের একজন বলেন, এই তিন দাবি পূরণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত এখান থেকে সরে যাওয়া হবে না। আমরা এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো। পরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আবার ভেতরে চলে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় আন্দোলনে আহতরা স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবিতে রাজধানীর শ্যামলী, শাহবাগ, উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অবরোধ করে ও অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন।

 

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

উত্তেজনা-হাতাহাতির মধ্য দিয়ে ‘বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’ গঠিত

যে বার্তা দিলেন বিশেষ সহকারী

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের গেট অবরোধে জুলাই আন্দোলনে আহতরা, ঘটনাস্থলে সেনা সদস্যরা

আপডেট সময় : ০৮:১৪:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের মূল ফটক অবরোধের জেরে ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা অবস্থান নিয়েছে।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ৫টি জিপে করে সেনাসদস্যরা ১ নম্বর ফটকের সামনে এসে অবস্থান নেন।

এর আগে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের মাসিক ভাতাসহ মোট ৩ দফা দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সামনে বিছানা বিছিয়ে শুয়ে পড়েন আন্দোলনকারীরা। ফলে প্রধান উপদেষ্টা কার্যালয়ের ১ নম্বর গেট দিয়ে ভেতরে প্রবেশ এবং বের হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়া কার্যালয়ের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচলও বন্ধ হয়ে যায়।

শহীদ পরিবার ও আহতদের পক্ষে সমন্বয়ক আরমান হোসেন বলেন, আমরা এই আন্দোলনের প্রথম সারির যোদ্ধা। আমাদের রক্তের ওপর অন্তর্বর্তী সরকার দাঁড়িয়ে। অথচ দীর্ঘ সময় ধরে আমরা এখানে অবস্থান করছি, কিন্তু কোনো সমাধান হচ্ছে না। আমরা চাই, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সরকার পক্ষ থেকে এই দাবি মেনে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেওয়া হোক। যদি আমাদের দাবি মানা না হয় তবে আমরা রাস্তা অবরোধ করবো। আমরা সুশৃঙ্খলভাবে দাবি আদায়ের ব্যাপারে সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্ত পেতে চাই।

তিনি আরও বলেন, আমরা দাবি জানিয়েছি যেন আহতদের তালিকা তৈরিতে ক্যাটাগরি বৈষম্যের অবসান করা হয়। এখন তিনটি ক্যাটাগরি বিদ্যমান। সেটি বাতিল করে ২টি ক্যাটাগরি করতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত দাবি আদায় না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
আহতদের যে বার্তা দিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া জুলাই আন্দোলনে আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ। সরেজমিনে দেখা যায়, উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অবস্থানকারীদের সঙ্গে দাবির বিষয়ে কথা বলেন। তখন, উপস্থিত ব্যক্তিরা ক্যাটাগরি বৈষম্য দূর করে আহতদের দ্রুত পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা এবং ইমার্জেন্সি হটলাইন চালুর দাবি জানান।

এসব দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, আপনারা যে আন্দোলন করেছেন সেটির ফলেই বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে। আমরা সবাই একটি সুন্দর ও নতুন বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আপনারা সেজন্য আহত হয়েছেন রক্ত দিয়েছেন। আপনারা যে সংগ্রাম করেছেন সে জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, আমি নিজে এখানে উপস্থিত হয়ে এই দাবিগুলো গ্রহণ করলাম। যে মন্ত্রণালয় এই দাবিগুলো নিয়ে কাজ করছে আমি নিজ হাতে তাদের কাছে পৌঁছে দেব। আমি আবারও বলছি, আপনাদের ত্যাগ অনস্বীকার্য এবং মূল্য দিয়ে নির্ধারণ করা যাবে না। কিন্তু সরকারের একটি নিয়ম আছে। এখন এটি আমি হাতে নিয়েছি এবং যথাযথ জায়গায় পৌঁছে দেব। একইসঙ্গে বিষয়টি যেন সুবিবেচনা করা হয় সেটিরও অনুরোধ জানাবো। আমি আশা করব আপনারা এই অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেবেন।

এসময় অবস্থানকারীরা নারাজ হলে আবারও আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, আমি নিজে এখানে এসে দাবিগুলো হাতে নিয়েছি। যে উপদেষ্টা এই বিষয়টি দেখেন তার কাছে আমি পৌঁছে দেব। আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি আপনারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করুন।

পরে আহত ও তাদের পরিবারবর্গের পক্ষে আরমান নামের একজন বলেন, এই তিন দাবি পূরণ না হওয়ার আগ পর্যন্ত এখান থেকে সরে যাওয়া হবে না। আমরা এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখবো। পরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আবার ভেতরে চলে যান।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন সময় আন্দোলনে আহতরা স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের দাবিতে রাজধানীর শ্যামলী, শাহবাগ, উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অবরোধ করে ও অবস্থান নিয়ে আন্দোলন করেছিলেন।