ঢাকা ১১:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকার জন্য করণীয়

  • আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২২
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

ড. শামীম আহমেদ : একবিংশ শতাব্দীর আজকে এই সময়ে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্ব ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। এর কারণ হিসেবে ইদানীং ঞযৎবব দঈদ কে অনেকেই দায়ী হিসেবে বিবেচিত বলে মনে করছেন। আর সেগুলো হলো ১. ঈড়হভষরপঃ (মূলত: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ) ২. ঈষরসধঃব পযধহমব ৩. ঈড়ারফ-১৯। মানব সভ্যতার উপর অতর্কিত করোনার নির্মম হামলা দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে পৃথিবীটাকে। ২০২৩ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও)-র মতে, বিশ্বের ৪৫টি দেশে ঘাটতিজনিত মারাত্মক খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এখন সবচেয়ে বেশি৷ এর মধ্যে এশিয়া মহাদেশভুক্ত দেশ আছে ৯টি, যার মধ্যে বাংলাদেশসহ তিনটি দেশ দক্ষিণ এশিয়ার৷ এফএও’র হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরেই বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন কমবে ১.৪ শতাংশ৷ শুধু দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়া বিশ্বের আর সব মহাদেশ বা অঞ্চলেই এবার খাদ্যশস্য উৎপাদন কমবে৷ বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না৷ আর এই দিকগুলো বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুশাসন প্রদান করেন সকল দেশবাসীর উদ্দেশ্যে “দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে”। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ ও কর্মসূচি কৃষিবান্ধব এই সরকারের সফল মন্ত্রণালয় কৃষি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশে মোট ১ কোটি ৬১ লক্ষর মতো ফসলি জমির মধ্যে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমান রয়েছে ৮৬ রক্ষ ২৯ হাজার হেক্টরের মতো। তন্মধ্যে আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমান ৪ লক্ষ ৩২ হাজারের মতো প্রায় (সূত্র: কৃষি বর্ষগ্রন্থ ২০২০, ভূমি ব্যবহার জরিপ ২০১৯-২০)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই পরিমান আবাদযোগ্য পতিত জমি যদি আবাদের আওতায় আনা যায়, তাহলে আমাদের খাদ্য সংকট মোকাবেলায় এই যেমন ভূমিকা পালন করবে, তেমনি গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ফলপ্রসূ হবে। দেশে রোপা আমন-পতিত-বোরো ধান শস্য বিন্যাসে প্রায় ২২ লাখ হেক্টর জমি সাময়িক পতিত থাকে।

এই সাময়িক পতিত জমিতে সরিষা ফসলরে আবাদের এক অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ফসল। এতে তেলের পরিমাণ ৪০-৪৪%। মোট ৪.৪৪ লাখ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৬.৫০ লাখ টন সরিষা উৎপাদিত হয়। যা থেকে তেল পাওয়া যায় ২.৫০ লাখ টন। সর্বসাকুল্যে তেল উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ লাখ টন। অথচ প্রয়োজন ২৪ লাখ টন। সেজন্য প্রতি বছর ৩.২০ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করতে হয়।

এই ব্যাপক আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষি মন্ত্রী আগামী তিন বছরে ভোজ্য তেলের চাহিদার ৪০ ভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করতে তার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, ধানের উৎপাদন না কমিয়ে স্বল্প মেয়াদী আমন ও বোরো ধানের মধ্যবর্তী সময়ে স্বল্প মেয়াদী সরিষা চাষ করতে হবে। সে মোতাবেক ২০২১-২২ অর্থ বছর থেকে সরিষা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

শস্য বিন্যাসে ব্রিধান-৭১, ব্রিধান-৭৫, ব্রিধান-৮৭, ব্রিধান-৯৫, বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭ এবং বিনাধান-২২ এসব জাতের আমন ধান আষাঢ়ের মাঝামাঝি বীজতলায় চারা দিয়ে ২৫ দিন পর লাগালে কার্তিকের মাঝামাঝি সরিষা বীজ বপণ করা যাবে। বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-১০, বিনা সরিষা-১১, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭ এবং বারি সরিষা-১৮ এগুলি উপযুক্ত জাত। সরিষা উঠিয়ে ব্রিধান-৬৩, ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৮১, ব্রি ধান-৮৬, ব্রি ধান৮৮, ব্রি ধান-৯৬, বঙ্গবন্ধু ধান-১০০, বিনাধান-১০, বিনাধান২৪ এবং বিনাধান-২৫ এসব বোরো জাত পৌষের শুরুতে চারা দিয়ে মাঘের শেষে রোপণ করা যেতে পারে। এভাবে একটি নতুন শস্য বিন্যাস অনুসরণের ফলে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনেকটাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
দেশের বসতবাড়ির গড় আয়তন ০.০২ হেক্টর। কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১৬৫.৬২ লক্ষ এবং আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমাণ ২.২৩ লক্ষ হেক্টর। এই জমিগুলো আবাদের আওতায় আনতে পারলে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। সেই লক্ষে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় সকল শ্রেণির কৃষক-কৃষানি যাদের বসতভিটা অনাবাদি পরে আছে সেই সকল জমি পরিকল্পিত উপায়ে চাষাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমান সরকারে যুগান্তরকারী উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম হলো গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ ও গৃহের সংস্থান। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত গৃহের বসতভিটায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপনের মাধ্যমে হত দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রকল্পটি কাজ করছে।
৬,৮৩,৫৬০টি কৃষক পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে এবং ৪৫৫৪টি ইউনিয়ন ও ৩৩০ পৌরসভার প্রায় ৪১ লক্ষ কৃষক-কৃষানি পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে।

উল্লেখিত প্রকল্পটির মেয়াদকালে পারিবারিক সবজি পুষ্টিবাগান প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে ৪,৮৮,৪০০টি, স্যাঁতস্যেতে জমিতে কচু জাতীয় সবজি চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে ৭৩৮০টি এবং ছায়াযুক্ত স্থানে/বসতবাড়িতে আদা/হলুদ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে ৭৩৮০টি। সকল প্রদর্শনীর সফল বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের ৫,০৩,১৬০টি বসতবাড়ির অনাবাদি/পতিত জমি বছরব্যাপী সবজি চাষাবাদের আওতায় আসবে। আর এভাবেও প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তব রূপ পাবে বলে আমরা আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নের আর একটি বড় ক্ষেত্র হলো আমাদের বনাঞ্চল ও তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাস্তুতন্ত্র। বাংলাদেশে পাহাড়ি বনের পরিমাণ প্রায় ১৩.৭৭ লক্ষ হেক্টর আর গ্রামীন বন রয়েছে ৭.৭৪ লক্ষ হেক্টর। এসমস্ত বনাঞ্চল থেকে বনজদ্রব্য আহরণের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো কাঠ (প্রায় ৩১.৩২ লক্ষ ঘনফুট), জ্বালানী (প্রায় ১৬.৮৪ ঘনফুট) ও গোলপাতা (৫৪৬.০২ লক্ষ কেজি) (সূত্র: বন অধিদপ্তর-২০২১)। এর বাইরেও পাহাড়ে অনেক পতিত জমি রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষা বলছে, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান; এই তিন পার্বত্য জেলায় অন্তত পাঁচ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। এই জমি গুলো কাজুবাদাম ও কফি চাষাবাদের উপযোগী কফি-কাজুবাদামে অর্থনীতির নতুন দুয়ার উন্মোচন ও সম্ভাবনার স্বপ্নবাজ কান্ডারী কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। যার একান্ত নির্দেশনায় নেয়া হয়েছে ৫ বছর মেয়াদী ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১২ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো, কাজুবাদাম এবং কফি ফসলের কৌলিসম্পদ সংগ্রহ, বৈশিষ্ট্যকরণ, মূল্যায়ন, সংরক্ষণ এবং উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাত উদ্ভাবন; কাজুবাদাম এবং কফির জাত ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন ৫০%বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান উৎপাদন এলাকা ২০০০ হেক্টর হতে ৬০০০ হেক্টর বৃদ্ধি করা; প্রকল্প এলাকায় ৪৯৫০০ জন কৃষক/কৃষানীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ দারিদ্র্য বিমোচন ও পুষ্টিমান উন্নয়নে সহায়তা করা এবং উৎপাদিত কাজুবাদাম এবং কফির দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করা।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নের আর একটি বড় খাত হলো সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত পতিত জমি গুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক জমি রয়েছে যেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না। কিংবা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক, লাইব্রেরি কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয়ের বহু জমি রয়েছে গুলো অনায়াসেই আবাদের আওতায় আনা যায়। বসত-বাড়ির ছাদে বাগান করা হালে বেশ জনপ্রিয় একটি কর্মসূচি। সেটি বাস্তবায়নের ফলেও কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তবায়িত হতে পারে। কিন্তু তার জন্য মানসম্পন্ন চারা-কলম, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের প্রয়োজন।

বর্তমানে সরকারী পর্যায়ে ৭৬ টি হর্টিকালচার সেন্টার হতে মানসম্পন্ন চারা-কলম, বীজ বিতরণ ও ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তাছাড়াও বেসরকারী নার্সারিগুলোও চারা-কলম বিক্রয় করছে। সরকারী হর্টিকালচার সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চারা-কলম উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাধারণ পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক “টিস্যু কালচার’ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। সেই লক্ষে কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরে একটি প্রকল্প প্রস্তুতকরণের কার্যক্রম চলমান। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তবায়নে এটিও হতে পারে কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যে কাজ গুলো চলমান তার মধ্যে রয়েছে কৃষি যান্ত্রিকিকরণ। কৃষিকে যান্ত্রিকিকরন করার স্বপ্ন ছিলো বঙ্গবন্ধুর। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে “সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ” প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদেরকে দেয়া হচ্ছে। এসমস্ত কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে বর্তমানে দেশের প্রায় শতভাগ কৃষি জমি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কর্ষন করা হয়। লাঙ্গল আর গরু দিয়ে জমি চাষ এখন প্রায় হয় না বললেই চলে। এবারে আমন মৌসুমে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অনেক শস্য কর্তন করা হয়েছে যাতে আগের চেয়ে শ্রম ও খরচ দুটোই কম লেগেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে এটিও একটি সম্পূরক ব্যবস্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

কৃষি প্রণোদনার ক্ষেত্রে অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় এখকার সরকারের ভুমিকা উল্লেখ করার মতো। করোনা কালে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের আস্থা ধরে রাখতে এই প্রণোদনা প্রাণের শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ করেছে। গত ২০২০-২১ অর্থ বছরের ২৭ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে রবি/২০২০-২১ মৌসুমে বোরো ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, শীতকালীন মগ, পেঁয়াজ ও পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ সহায়তা প্রদান বাবদ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৮৬৪৩.০০ লক্ষ টাকার অর্থ ছাড় করা হয়।

এই অর্থ দেশের ৬৪ টি জেলায় ৮ লক্ষ উপকারভোগীর মাঝে উল্লেখিত ৯টি ফসল চাষের জন্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। ফসলভেদে বিভিন্ন পরিমাণে বীজ সহায়তা, ডিএপি ও এমওপি সার সহায়তা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি কৃষকের মাঝে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে গত বছর একই ভাবে এই প্রণোদনা ১৭ নভেম্বর, ২০২০ তারিখ রবি মৌসুমে বোরো ধানের হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারকারীদের মাঝে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে চৌদ্দ লক্ষ সাতানব্বই হাজার কৃষকের মাঝে ৭৬ কোটি ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৭ শত ৬০ টাকা, ২৩ নভেম্বর, ২০২০ তারিখ রবি মৌসুমে পেঁয়াজ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে পঞ্চাশ হাজার কৃষকের মাঝে ২৫ কোটি ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও ২৫ মার্চ, ২০২১ তারিখ খরিপ-১ মৌসুমে আউশ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কৃষকের মাঝে ৩৯ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার সার ও বীজ সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে এটি বেশ গুরুত্ববহণ করে। কৃষি মন্ত্রী মহোদয় এবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার কৃষি প্রনোদণা প্রদানের কথা বলেন।

কৃষি একটি বাস্তবমুখি অপরিহার্য চর্চা। কৃষি বাঁচলে দেশের মানুষ গুলো দুমুঠো খেয়ে পড়ে বাচঁতে পারবে, যে কথাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রায় সমস্ত জনসভা কিংবা রাষ্ট্রীয় বক্তৃতায় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। আর তাই প্রতিটি ইঞ্চি কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়টিকে তিনি সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে কৃষি গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন “দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে” বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।
লেখক: উপপরিচালক (গণযোগাযোগ) কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

একটি শক্তি নির্বাচন বিলম্বিতের চেষ্টা করছে, তবে পেছানোর সুযোগ নেই

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন, এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি না থাকার জন্য করণীয়

আপডেট সময় : ১০:৩৩:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২২

ড. শামীম আহমেদ : একবিংশ শতাব্দীর আজকে এই সময়ে দাঁড়িয়ে গোটা বিশ্ব ভীষণ অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছে। এর কারণ হিসেবে ইদানীং ঞযৎবব দঈদ কে অনেকেই দায়ী হিসেবে বিবেচিত বলে মনে করছেন। আর সেগুলো হলো ১. ঈড়হভষরপঃ (মূলত: রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ) ২. ঈষরসধঃব পযধহমব ৩. ঈড়ারফ-১৯। মানব সভ্যতার উপর অতর্কিত করোনার নির্মম হামলা দুমড়ে-মুচড়ে দিয়েছে পৃথিবীটাকে। ২০২৩ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দার পূর্বাভাস দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বলছে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে।

বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (এফএও)-র মতে, বিশ্বের ৪৫টি দেশে ঘাটতিজনিত মারাত্মক খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এখন সবচেয়ে বেশি৷ এর মধ্যে এশিয়া মহাদেশভুক্ত দেশ আছে ৯টি, যার মধ্যে বাংলাদেশসহ তিনটি দেশ দক্ষিণ এশিয়ার৷ এফএও’র হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরেই বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদন কমবে ১.৪ শতাংশ৷ শুধু দক্ষিণ আমেরিকা ছাড়া বিশ্বের আর সব মহাদেশ বা অঞ্চলেই এবার খাদ্যশস্য উৎপাদন কমবে৷ বাংলাদেশও এর বাইরে থাকবে না৷ আর এই দিকগুলো বিবেচনায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুশাসন প্রদান করেন সকল দেশবাসীর উদ্দেশ্যে “দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে”। প্রধানমন্ত্রীর এই অনুশাসন বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ ও কর্মসূচি কৃষিবান্ধব এই সরকারের সফল মন্ত্রণালয় কৃষি মন্ত্রণালয় গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশে মোট ১ কোটি ৬১ লক্ষর মতো ফসলি জমির মধ্যে মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমান রয়েছে ৮৬ রক্ষ ২৯ হাজার হেক্টরের মতো। তন্মধ্যে আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমান ৪ লক্ষ ৩২ হাজারের মতো প্রায় (সূত্র: কৃষি বর্ষগ্রন্থ ২০২০, ভূমি ব্যবহার জরিপ ২০১৯-২০)। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই পরিমান আবাদযোগ্য পতিত জমি যদি আবাদের আওতায় আনা যায়, তাহলে আমাদের খাদ্য সংকট মোকাবেলায় এই যেমন ভূমিকা পালন করবে, তেমনি গ্রামীণ আর্থসামাজিক উন্নয়নে ফলপ্রসূ হবে। দেশে রোপা আমন-পতিত-বোরো ধান শস্য বিন্যাসে প্রায় ২২ লাখ হেক্টর জমি সাময়িক পতিত থাকে।

এই সাময়িক পতিত জমিতে সরিষা ফসলরে আবাদের এক অপার সম্ভাবনা রয়েছে। সরিষা বাংলাদেশের প্রধান ভোজ্য তেল ফসল। এতে তেলের পরিমাণ ৪০-৪৪%। মোট ৪.৪৪ লাখ হেক্টর জমিতে আবাদ করে ৬.৫০ লাখ টন সরিষা উৎপাদিত হয়। যা থেকে তেল পাওয়া যায় ২.৫০ লাখ টন। সর্বসাকুল্যে তেল উৎপাদন দাঁড়ায় ৩ লাখ টন। অথচ প্রয়োজন ২৪ লাখ টন। সেজন্য প্রতি বছর ৩.২০ বিলিয়ন ডলারের তেল আমদানি করতে হয়।

এই ব্যাপক আমদানি নির্ভরতা কমাতে কৃষি মন্ত্রী আগামী তিন বছরে ভোজ্য তেলের চাহিদার ৪০ ভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন করতে তার মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি বলেন, ধানের উৎপাদন না কমিয়ে স্বল্প মেয়াদী আমন ও বোরো ধানের মধ্যবর্তী সময়ে স্বল্প মেয়াদী সরিষা চাষ করতে হবে। সে মোতাবেক ২০২১-২২ অর্থ বছর থেকে সরিষা উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

শস্য বিন্যাসে ব্রিধান-৭১, ব্রিধান-৭৫, ব্রিধান-৮৭, ব্রিধান-৯৫, বিনাধান-১৬, বিনাধান-১৭ এবং বিনাধান-২২ এসব জাতের আমন ধান আষাঢ়ের মাঝামাঝি বীজতলায় চারা দিয়ে ২৫ দিন পর লাগালে কার্তিকের মাঝামাঝি সরিষা বীজ বপণ করা যাবে। বিনা সরিষা-৪, বিনা সরিষা-৯, বিনা সরিষা-১০, বিনা সরিষা-১১, বারি সরিষা-১৪, বারি সরিষা-১৫, বারি সরিষা-১৭ এবং বারি সরিষা-১৮ এগুলি উপযুক্ত জাত। সরিষা উঠিয়ে ব্রিধান-৬৩, ব্রি ধান-৬৭, ব্রি ধান-৮১, ব্রি ধান-৮৬, ব্রি ধান৮৮, ব্রি ধান-৯৬, বঙ্গবন্ধু ধান-১০০, বিনাধান-১০, বিনাধান২৪ এবং বিনাধান-২৫ এসব বোরো জাত পৌষের শুরুতে চারা দিয়ে মাঘের শেষে রোপণ করা যেতে পারে। এভাবে একটি নতুন শস্য বিন্যাস অনুসরণের ফলে প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনেকটাই বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
দেশের বসতবাড়ির গড় আয়তন ০.০২ হেক্টর। কৃষক পরিবারের সংখ্যা ১৬৫.৬২ লক্ষ এবং আবাদযোগ্য পতিত জমির পরিমাণ ২.২৩ লক্ষ হেক্টর। এই জমিগুলো আবাদের আওতায় আনতে পারলে পারিবারিক পুষ্টি চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি পরিবারের আয় বৃদ্ধি করা সম্ভব। সেই লক্ষে সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙ্গিনায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপন প্রকল্প’ নামে একটি প্রকল্প কাজ করছে।

প্রকল্পের আওতায় সকল শ্রেণির কৃষক-কৃষানি যাদের বসতভিটা অনাবাদি পরে আছে সেই সকল জমি পরিকল্পিত উপায়ে চাষাবাদের আওতায় আনা হচ্ছে। বর্তমান সরকারে যুগান্তরকারী উদ্যোগের মধ্যে অন্যতম হলো গৃহহীনদের জন্য গৃহ নির্মাণ ও গৃহের সংস্থান। মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত গৃহের বসতভিটায় পারিবারিক পুষ্টিবাগান স্থাপনের মাধ্যমে হত দরিদ্র মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে প্রকল্পটি কাজ করছে।
৬,৮৩,৫৬০টি কৃষক পরিবার এই প্রকল্পের মাধ্যমে সরাসরি উপকৃত হবে এবং ৪৫৫৪টি ইউনিয়ন ও ৩৩০ পৌরসভার প্রায় ৪১ লক্ষ কৃষক-কৃষানি পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে।

উল্লেখিত প্রকল্পটির মেয়াদকালে পারিবারিক সবজি পুষ্টিবাগান প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে ৪,৮৮,৪০০টি, স্যাঁতস্যেতে জমিতে কচু জাতীয় সবজি চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে ৭৩৮০টি এবং ছায়াযুক্ত স্থানে/বসতবাড়িতে আদা/হলুদ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন করা হবে ৭৩৮০টি। সকল প্রদর্শনীর সফল বাস্তবায়নের ফলে বাংলাদেশের ৫,০৩,১৬০টি বসতবাড়ির অনাবাদি/পতিত জমি বছরব্যাপী সবজি চাষাবাদের আওতায় আসবে। আর এভাবেও প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তব রূপ পাবে বলে আমরা আশাবাদী।

প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নের আর একটি বড় ক্ষেত্র হলো আমাদের বনাঞ্চল ও তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা বাস্তুতন্ত্র। বাংলাদেশে পাহাড়ি বনের পরিমাণ প্রায় ১৩.৭৭ লক্ষ হেক্টর আর গ্রামীন বন রয়েছে ৭.৭৪ লক্ষ হেক্টর। এসমস্ত বনাঞ্চল থেকে বনজদ্রব্য আহরণের মধ্যে অন্যতম প্রধান হলো কাঠ (প্রায় ৩১.৩২ লক্ষ ঘনফুট), জ্বালানী (প্রায় ১৬.৮৪ ঘনফুট) ও গোলপাতা (৫৪৬.০২ লক্ষ কেজি) (সূত্র: বন অধিদপ্তর-২০২১)। এর বাইরেও পাহাড়ে অনেক পতিত জমি রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমীক্ষা বলছে, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান; এই তিন পার্বত্য জেলায় অন্তত পাঁচ লাখ হেক্টর জমি অনাবাদি পড়ে আছে। এই জমি গুলো কাজুবাদাম ও কফি চাষাবাদের উপযোগী কফি-কাজুবাদামে অর্থনীতির নতুন দুয়ার উন্মোচন ও সম্ভাবনার স্বপ্নবাজ কান্ডারী কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক। যার একান্ত নির্দেশনায় নেয়া হয়েছে ৫ বছর মেয়াদী ‘কাজুবাদাম ও কফি গবেষণা, উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ২১২ কোটি টাকার প্রকল্প। এই প্রকল্পটির উদ্দেশ্য হলো, কাজুবাদাম এবং কফি ফসলের কৌলিসম্পদ সংগ্রহ, বৈশিষ্ট্যকরণ, মূল্যায়ন, সংরক্ষণ এবং উচ্চফলনশীল ও উন্নত জাত উদ্ভাবন; কাজুবাদাম এবং কফির জাত ও ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সম্প্রসারণের মাধ্যমে উৎপাদন ৫০%বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান উৎপাদন এলাকা ২০০০ হেক্টর হতে ৬০০০ হেক্টর বৃদ্ধি করা; প্রকল্প এলাকায় ৪৯৫০০ জন কৃষক/কৃষানীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিসহ দারিদ্র্য বিমোচন ও পুষ্টিমান উন্নয়নে সহায়তা করা এবং উৎপাদিত কাজুবাদাম এবং কফির দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানীর মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি করা।

এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নের আর একটি বড় খাত হলো সরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত পতিত জমি গুলো। বিশেষ করে বাংলাদেশ রেলওয়ের অনেক জমি রয়েছে যেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না। কিংবা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক, লাইব্রেরি কিংবা ধর্মীয় উপাসনালয়ের বহু জমি রয়েছে গুলো অনায়াসেই আবাদের আওতায় আনা যায়। বসত-বাড়ির ছাদে বাগান করা হালে বেশ জনপ্রিয় একটি কর্মসূচি। সেটি বাস্তবায়নের ফলেও কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তবায়িত হতে পারে। কিন্তু তার জন্য মানসম্পন্ন চারা-কলম, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের প্রয়োজন।

বর্তমানে সরকারী পর্যায়ে ৭৬ টি হর্টিকালচার সেন্টার হতে মানসম্পন্ন চারা-কলম, বীজ বিতরণ ও ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। তাছাড়াও বেসরকারী নার্সারিগুলোও চারা-কলম বিক্রয় করছে। সরকারী হর্টিকালচার সেন্টারের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি চারা-কলম উৎপাদনের ক্ষেত্রে সাধারণ পদ্ধতির পরিবর্তে আধুনিক “টিস্যু কালচার’ পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে। সেই লক্ষে কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরে একটি প্রকল্প প্রস্তুতকরণের কার্যক্রম চলমান। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তবায়নে এটিও হতে পারে কার্যকরী একটি পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসনটি বাস্তবায়নে অনুঘটক হিসেবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যে কাজ গুলো চলমান তার মধ্যে রয়েছে কৃষি যান্ত্রিকিকরণ। কৃষিকে যান্ত্রিকিকরন করার স্বপ্ন ছিলো বঙ্গবন্ধুর। বর্তমানে প্রায় তিন হাজার বিশ কোটি টাকা ব্যয়ে “সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ” প্রকল্পের মাধ্যমে অঞ্চলভেদে ৫০-৭০ শতাংশ ভর্তুকি দিয়ে ধান কাটাসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদেরকে দেয়া হচ্ছে। এসমস্ত কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে বর্তমানে দেশের প্রায় শতভাগ কৃষি জমি যান্ত্রিক পদ্ধতিতে কর্ষন করা হয়। লাঙ্গল আর গরু দিয়ে জমি চাষ এখন প্রায় হয় না বললেই চলে। এবারে আমন মৌসুমে কৃষি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে অনেক শস্য কর্তন করা হয়েছে যাতে আগের চেয়ে শ্রম ও খরচ দুটোই কম লেগেছে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে এটিও একটি সম্পূরক ব্যবস্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে।

কৃষি প্রণোদনার ক্ষেত্রে অন্য যেকোন সময়ের তুলনায় এখকার সরকারের ভুমিকা উল্লেখ করার মতো। করোনা কালে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষকের আস্থা ধরে রাখতে এই প্রণোদনা প্রাণের শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ করেছে। গত ২০২০-২১ অর্থ বছরের ২৭ অক্টোবর, ২০২০ তারিখে রবি/২০২০-২১ মৌসুমে বোরো ধান, গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, শীতকালীন মগ, পেঁয়াজ ও পরবর্তী খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ সহায়তা প্রদান বাবদ কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৮৬৪৩.০০ লক্ষ টাকার অর্থ ছাড় করা হয়।

এই অর্থ দেশের ৬৪ টি জেলায় ৮ লক্ষ উপকারভোগীর মাঝে উল্লেখিত ৯টি ফসল চাষের জন্য সহায়তা বিতরণ করা হয়। ফসলভেদে বিভিন্ন পরিমাণে বীজ সহায়তা, ডিএপি ও এমওপি সার সহায়তা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের মাধ্যমে প্রতিটি কৃষকের মাঝে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে গত বছর একই ভাবে এই প্রণোদনা ১৭ নভেম্বর, ২০২০ তারিখ রবি মৌসুমে বোরো ধানের হাইব্রিড জাতের বীজ ব্যবহারকারীদের মাঝে ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে চৌদ্দ লক্ষ সাতানব্বই হাজার কৃষকের মাঝে ৭৬ কোটি ৪ লক্ষ ৬০ হাজার ৭ শত ৬০ টাকা, ২৩ নভেম্বর, ২০২০ তারিখ রবি মৌসুমে পেঁয়াজ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে পঞ্চাশ হাজার কৃষকের মাঝে ২৫ কোটি ১৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও ২৫ মার্চ, ২০২১ তারিখ খরিপ-১ মৌসুমে আউশ ফসলের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে চার লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কৃষকের মাঝে ৩৯ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার সার ও বীজ সহায়তা বিতরণ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে এটি বেশ গুরুত্ববহণ করে। কৃষি মন্ত্রী মহোদয় এবছর প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার কৃষি প্রনোদণা প্রদানের কথা বলেন।

কৃষি একটি বাস্তবমুখি অপরিহার্য চর্চা। কৃষি বাঁচলে দেশের মানুষ গুলো দুমুঠো খেয়ে পড়ে বাচঁতে পারবে, যে কথাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অনুধাবন করেছিলেন বর্তমান কৃষিবান্ধব সরকারের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তাঁর প্রায় সমস্ত জনসভা কিংবা রাষ্ট্রীয় বক্তৃতায় কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। আর তাই প্রতিটি ইঞ্চি কৃষি জমির সর্বোচ্চ ব্যবহারের বিষয়টিকে তিনি সর্বাধিক প্রাধান্য দিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে কৃষি গুরুত্ব বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন “দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদি না থাকে” বাস্তবায়নের কোন বিকল্প নেই।
লেখক: উপপরিচালক (গণযোগাযোগ) কৃষি তথ্য সার্ভিস, খামারবাড়ি, ঢাকা-১২১৫