ঢাকা ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

প্রথমবার মঙ্গল গ্রহে দেখা গেলো বজ্রপাত!

  • আপডেট সময় : ০৮:২১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

মঙ্গলের ধূলিঝড়ের মাঝে সৃষ্ট সম্ভাব্য বজ্রপাতের একটি কাল্পনিক চিত্র- ছবি মার্ক গার্লিক/সায়েন্স ফটো লাইব্রেরি/গেটি

প্রত্যাশা ডেস্ক: সৌরজগতে মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বা বজ্রপাত শনাক্ত করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার–এর সংগৃহীত অডিও ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সম্ভাবনার কথা জানান গবেষকরা। যদি এটি সত্যি হয়, তবে পৃথিবী, শনি ও বৃহস্পতির পর মঙ্গলও এমন গ্রহের তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে বায়ুমণ্ডলীয় বৈদ্যুতিক ক্রিয়া সক্রিয়।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।

২০২১ সালে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করা পারসিভিয়ারেন্স রোভার মূলত জীবনের চিহ্ন অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। চার বছর ধরে রোভারটি ওই অঞ্চলে গবেষণা চালাচ্ছে। এর সুপারক্যাম যন্ত্রে ধরা পড়ে ‘মিনি লাইটনিং’ বা ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক স্রোতের সংকেত।

ফ্রান্সের গবেষক দল মোট ২৮ ঘণ্টা রেকর্ডিং—যা দুই মঙ্গল বছর বা ১,৩৭৪ দিন সমান—বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এসব স্রোত সাধারণত দেখা যায় ধুলোঝড়ের সময়।

তবে, গবেষকদের একটি অংশ এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নেচার সাময়িকীতে কণাপদার্থবিদ ড. ড্যানিয়েল প্রিচার্ড লিখেছেন, শব্দ-ভিত্তিক প্রমাণ যথেষ্ট হলেও বৈদ্যুতিক স্রোত দৃশ্যমানভাবে দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থেকে যাবে। তার মতে, ‘এ নিয়ে বিতর্ক আরও কিছুদিন চলবে’।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেও, মঙ্গলে অদ্ভুত দাগযুক্ত কিছু শিলা পাওয়া যায়, যেগুলোকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘লেপার্ড স্পট’ ও ‘পপি সিডস’।

এসব শিলায় এমন খনিজ রয়েছে, যা জীবাণু-সম্পর্কিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল হতে পারে বলে ধারণা করা হয়; যদিও তা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায়ও তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে মঙ্গল একটি ঠান্ডা ও শুষ্ক মরুভূমি গ্রহ। তবে, অতীতে সেখানে ঘন বায়ুমণ্ডল ও তরল পানি ছিল—এমন প্রমাণ রয়েছে, যা একসময় গ্রহটিকে জীবনের জন্য অনুকূল করে তুলেছিল। সেই সম্ভাবনার কারণেই জেজেরো ক্রেটারকে পারসিভিয়ারেন্স মিশনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

মঙ্গলে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ শনাক্তের দাবি ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এটি প্রমাণিত হলে গ্রহটির বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু এবং সম্ভাব্য অতীত জীবনের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। আরও সংবেদনশীল ক্যামেরা ও বায়ু বিশ্লেষণ যন্ত্র পাঠালে এই আবিষ্কার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলের রহস্য উন্মোচনে পারসিভিয়ারেন্স রোভার যে বড় ভূমিকা রাখছে, নতুন এই সম্ভাবনা সেটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ওআ/আপ্র/২৮/১১/২০২৫

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

প্রথমবার মঙ্গল গ্রহে দেখা গেলো বজ্রপাত!

আপডেট সময় : ০৮:২১:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ নভেম্বর ২০২৫

প্রত্যাশা ডেস্ক: সৌরজগতে মঙ্গল গ্রহের বায়ুমণ্ডলে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ বা বজ্রপাত শনাক্ত করা হয়েছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। নাসার পারসিভিয়ারেন্স রোভার–এর সংগৃহীত অডিও ও ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এই সম্ভাবনার কথা জানান গবেষকরা। যদি এটি সত্যি হয়, তবে পৃথিবী, শনি ও বৃহস্পতির পর মঙ্গলও এমন গ্রহের তালিকায় যুক্ত হবে, যেখানে বায়ুমণ্ডলীয় বৈদ্যুতিক ক্রিয়া সক্রিয়।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ এ তথ্য জানায়।

২০২১ সালে মঙ্গলের জেজেরো ক্রেটারে অবতরণ করা পারসিভিয়ারেন্স রোভার মূলত জীবনের চিহ্ন অনুসন্ধানের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল। চার বছর ধরে রোভারটি ওই অঞ্চলে গবেষণা চালাচ্ছে। এর সুপারক্যাম যন্ত্রে ধরা পড়ে ‘মিনি লাইটনিং’ বা ক্ষুদ্র বৈদ্যুতিক স্রোতের সংকেত।

ফ্রান্সের গবেষক দল মোট ২৮ ঘণ্টা রেকর্ডিং—যা দুই মঙ্গল বছর বা ১,৩৭৪ দিন সমান—বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, এসব স্রোত সাধারণত দেখা যায় ধুলোঝড়ের সময়।

তবে, গবেষকদের একটি অংশ এখনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নেচার সাময়িকীতে কণাপদার্থবিদ ড. ড্যানিয়েল প্রিচার্ড লিখেছেন, শব্দ-ভিত্তিক প্রমাণ যথেষ্ট হলেও বৈদ্যুতিক স্রোত দৃশ্যমানভাবে দেখা না যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে কিছুটা সন্দেহ থেকে যাবে। তার মতে, ‘এ নিয়ে বিতর্ক আরও কিছুদিন চলবে’।

চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেও, মঙ্গলে অদ্ভুত দাগযুক্ত কিছু শিলা পাওয়া যায়, যেগুলোকে বিজ্ঞানীরা নাম দিয়েছেন ‘লেপার্ড স্পট’ ও ‘পপি সিডস’।

এসব শিলায় এমন খনিজ রয়েছে, যা জীবাণু-সম্পর্কিত রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফল হতে পারে বলে ধারণা করা হয়; যদিও তা ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ায়ও তৈরি হতে পারে।

বর্তমানে মঙ্গল একটি ঠান্ডা ও শুষ্ক মরুভূমি গ্রহ। তবে, অতীতে সেখানে ঘন বায়ুমণ্ডল ও তরল পানি ছিল—এমন প্রমাণ রয়েছে, যা একসময় গ্রহটিকে জীবনের জন্য অনুকূল করে তুলেছিল। সেই সম্ভাবনার কারণেই জেজেরো ক্রেটারকে পারসিভিয়ারেন্স মিশনের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

মঙ্গলে বৈদ্যুতিক কার্যকলাপ শনাক্তের দাবি ভবিষ্যৎ গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। এটি প্রমাণিত হলে গ্রহটির বায়ুমণ্ডল, জলবায়ু এবং সম্ভাব্য অতীত জীবনের চিত্র আরও স্পষ্ট হবে। আরও সংবেদনশীল ক্যামেরা ও বায়ু বিশ্লেষণ যন্ত্র পাঠালে এই আবিষ্কার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। মঙ্গলের রহস্য উন্মোচনে পারসিভিয়ারেন্স রোভার যে বড় ভূমিকা রাখছে, নতুন এই সম্ভাবনা সেটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

ওআ/আপ্র/২৮/১১/২০২৫