ঢাকা ০৩:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫

পেলোড মহাকাশে ছেড়ে প্রথম সফল প্রত্যাবর্তন স্টারশিপের

  • আপডেট সময় : ০৭:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫
  • ১০ বার পড়া হয়েছে

পেলোড মহাকাশে ছেড়ে প্রথম সফল প্রত্যাবর্তন স্টারশিপের

প্রযুক্তি ডেস্ক: হতাশাজনক ব্যর্থতার ধারা পাল্টে দিয়ে স্টারশিপ রকেটের দশম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স। এবার প্রথমবারের মতো পেলোড বা মহাকাশে পাঠানো মালামাল সফলভাবে ছেড়ে দিতে পেরেছে স্টারশিপ।

এর আগে কয়েকবার খারাপ আবহাওয়া ও অন্যান্য সমস্যার কারণে বিশ্বের অন্যতম বড় ও শক্তিশালী এই রকেটের উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিতে হয়েছিল কোম্পানিটিকে। দশম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে দক্ষিণ টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্টারবেইস কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উৎক্ষেপিত হয়েছে একশ ২৩ মিটার বা চারশ তিন ফুট লম্বা বিশাল স্টারশিপ রকেটটি। সে হিসাবে রকেটটি একটি ৪০ তলা ভবনের চেয়েও উঁচু। তবে এবার কোনো বুস্টার বিস্ফোরণ ছাড়াই ফ্লাইটটি নিরাপদে উৎক্ষেপণ সম্পন্ন ও মিশনের সব লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করতে পেরেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।

আগের সপ্তম ও অষ্টম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে মহাকাশে উঠতে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল স্টারশিপ। নবম ফ্লাইটে মহাকাশে পৌঁছালেও ওইসময় পেলোডটি সফলভাবে ছাড়তে পারেনি রকেটটি। গত জুনে দশম ফ্লাইটের প্রস্তুতি চলাকালীন মাটিতে বিস্ফোরিত হলেও এবার সফল হল স্টারশিপ।

আগের বিস্ফোরণের পর দশম ফ্লাইটের জন্য স্টারশিপ রকেটের ওপরের ধাপে ‘শিপ’ নামের আরেকটি ধাপ ব্যবহার করতে হয়েছে স্পেসএক্সকে। আগের বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে শেখা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ‘শিপ’ ও এর সুপার হেভি বুস্টারে কিছু পরিবর্তনও আনে ইলন মাস্কের কোম্পানিটি। এ ফ্লাইটে বুস্টার নিয়ে কিছু পরীক্ষামূলক কাজের পরিকল্পনা ছিল স্পেসএক্সের। যেমন, ফ্লাইট শেষে এটি উল্টে ফেলা ও রকেটের ইঞ্জিনের বিভিন্ন কনফিগারেশন পরীক্ষা করা। যেহেতু এটি পরীক্ষামূলক মিশন ছিল ফলে এবার লঞ্চ টাওয়ারের ‘চপস্টিক’ হাত দিয়ে বুস্টারটি ধরার চেষ্টা করেনি স্পেসএক্স। এর বদলে বুস্টারটি নিয়ন্ত্রিতভাবে ভারত মহাসাগরের দিকে নেমে আসে ও পানিতে পড়ার সময় বিস্ফোরিত হয়।

এ সময়ে ‘শিপ’ মহাকাশের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে এবং উৎক্ষেপণের প্রায় ২০ মিনিট পর মহাকাশে আটটি ডামি স্টারলিংক স্যাটেলাইট সফলভাবে ছেড়ে দেয়। এরপর আরেকটি পরীক্ষার অংশ হিসেবে আকাশেই একটি ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে এটি। এর কিছুক্ষণ পর পৃথিবীতে ফিরে আসার যাত্রা শুরু করে ‘শিপ’ এবং উৎক্ষেপণের প্রায় এক ঘণ্টা পর ভারত মহাসাগরে পানিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে এসে পড়ে।

এ উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচারে স্পেসএক্সের ড্যান হুয়েট বলেছেন, স্পেসএক্সর সকল সদস্যকে অভিনন্দন। অনেক দিন পর এমন এক সফল বছর পেলাম। এর থেকেই ইঙ্গিত মেলে, দীর্ঘ সময় পর এমন এক সফল পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পেল স্পেসএক্স দলটি। তবে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে স্পেসএক্সকে, বিশেষ করে, উৎক্ষেপণের পর স্টারশিপের ওপরের ধাপ কীভাবে ফেরত আনা যাবে, তা এখনও ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি তারা। আর সেটিই স্টারশিপকে পুরোপুরি পুনঃব্যবহারযোগ্য করার মূল শর্ত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট। এদিকে, ২০২৭ সালে নিজেদের ‘আর্টেমিস’ প্রোগ্রামের জন্য চাঁদে মানুষ পাঠাতে মাস্কের স্টারশিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

 

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশি আখ্যা দিয়ে আপনারা গরিবদের অত্যাচার করেন: বিজেপিকে মমতা

পেলোড মহাকাশে ছেড়ে প্রথম সফল প্রত্যাবর্তন স্টারশিপের

আপডেট সময় : ০৭:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৫

প্রযুক্তি ডেস্ক: হতাশাজনক ব্যর্থতার ধারা পাল্টে দিয়ে স্টারশিপ রকেটের দশম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ইলন মাস্কের মহাকাশ কোম্পানি স্পেসএক্স। এবার প্রথমবারের মতো পেলোড বা মহাকাশে পাঠানো মালামাল সফলভাবে ছেড়ে দিতে পেরেছে স্টারশিপ।

এর আগে কয়েকবার খারাপ আবহাওয়া ও অন্যান্য সমস্যার কারণে বিশ্বের অন্যতম বড় ও শক্তিশালী এই রকেটের উৎক্ষেপণ পিছিয়ে দিতে হয়েছিল কোম্পানিটিকে। দশম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে দক্ষিণ টেক্সাসে অবস্থিত স্পেসএক্সের স্টারবেইস কেন্দ্র থেকে মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় উৎক্ষেপিত হয়েছে একশ ২৩ মিটার বা চারশ তিন ফুট লম্বা বিশাল স্টারশিপ রকেটটি। সে হিসাবে রকেটটি একটি ৪০ তলা ভবনের চেয়েও উঁচু। তবে এবার কোনো বুস্টার বিস্ফোরণ ছাড়াই ফ্লাইটটি নিরাপদে উৎক্ষেপণ সম্পন্ন ও মিশনের সব লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করতে পেরেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট।

আগের সপ্তম ও অষ্টম পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে মহাকাশে উঠতে গিয়ে বিস্ফোরিত হয়েছিল স্টারশিপ। নবম ফ্লাইটে মহাকাশে পৌঁছালেও ওইসময় পেলোডটি সফলভাবে ছাড়তে পারেনি রকেটটি। গত জুনে দশম ফ্লাইটের প্রস্তুতি চলাকালীন মাটিতে বিস্ফোরিত হলেও এবার সফল হল স্টারশিপ।

আগের বিস্ফোরণের পর দশম ফ্লাইটের জন্য স্টারশিপ রকেটের ওপরের ধাপে ‘শিপ’ নামের আরেকটি ধাপ ব্যবহার করতে হয়েছে স্পেসএক্সকে। আগের বিভিন্ন পরীক্ষা থেকে শেখা অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ‘শিপ’ ও এর সুপার হেভি বুস্টারে কিছু পরিবর্তনও আনে ইলন মাস্কের কোম্পানিটি। এ ফ্লাইটে বুস্টার নিয়ে কিছু পরীক্ষামূলক কাজের পরিকল্পনা ছিল স্পেসএক্সের। যেমন, ফ্লাইট শেষে এটি উল্টে ফেলা ও রকেটের ইঞ্জিনের বিভিন্ন কনফিগারেশন পরীক্ষা করা। যেহেতু এটি পরীক্ষামূলক মিশন ছিল ফলে এবার লঞ্চ টাওয়ারের ‘চপস্টিক’ হাত দিয়ে বুস্টারটি ধরার চেষ্টা করেনি স্পেসএক্স। এর বদলে বুস্টারটি নিয়ন্ত্রিতভাবে ভারত মহাসাগরের দিকে নেমে আসে ও পানিতে পড়ার সময় বিস্ফোরিত হয়।

এ সময়ে ‘শিপ’ মহাকাশের দিকে যাত্রা অব্যাহত রাখে এবং উৎক্ষেপণের প্রায় ২০ মিনিট পর মহাকাশে আটটি ডামি স্টারলিংক স্যাটেলাইট সফলভাবে ছেড়ে দেয়। এরপর আরেকটি পরীক্ষার অংশ হিসেবে আকাশেই একটি ইঞ্জিন পুনরায় চালু করে এটি। এর কিছুক্ষণ পর পৃথিবীতে ফিরে আসার যাত্রা শুরু করে ‘শিপ’ এবং উৎক্ষেপণের প্রায় এক ঘণ্টা পর ভারত মহাসাগরে পানিতে নিয়ন্ত্রিতভাবে এসে পড়ে।

এ উৎক্ষেপণের সরাসরি সম্প্রচারে স্পেসএক্সের ড্যান হুয়েট বলেছেন, স্পেসএক্সর সকল সদস্যকে অভিনন্দন। অনেক দিন পর এমন এক সফল বছর পেলাম। এর থেকেই ইঙ্গিত মেলে, দীর্ঘ সময় পর এমন এক সফল পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পেল স্পেসএক্স দলটি। তবে এখনও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে স্পেসএক্সকে, বিশেষ করে, উৎক্ষেপণের পর স্টারশিপের ওপরের ধাপ কীভাবে ফেরত আনা যাবে, তা এখনও ঠিকভাবে নির্ধারণ করতে পারেনি তারা। আর সেটিই স্টারশিপকে পুরোপুরি পুনঃব্যবহারযোগ্য করার মূল শর্ত বলে প্রতিবেদনে লিখেছে এনগ্যাজেট। এদিকে, ২০২৭ সালে নিজেদের ‘আর্টেমিস’ প্রোগ্রামের জন্য চাঁদে মানুষ পাঠাতে মাস্কের স্টারশিপ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।