আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ রণাঙ্গণে রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুদ্ধরত ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী পিছু হটতে পারে। গতকাল বুধবার মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এখবর জানিয়েছে। তবে আঞ্চলিক গভর্নর জোর দিয়ে দাবি করেছেন, তারা শহরের প্রতি সেন্টিমিটারের জন্য এখনও লড়াই করছেন।
সেভেরোদনেস্ককে শহুরে যুদ্ধ উভয় বাহিনীর জন্য কঠিন পরীক্ষা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রুশ সেনাবাহিনীকে তুমুল লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে ইঞ্চি ইঞ্চি করে এগোতে হচ্ছে। ধীরে ধীরে তারা পুরো লুহানস্ক অঞ্চল দখলের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। শহর দুটি সমন্বয়ের শিল্পাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ ডনবাস অঞ্চল গঠিত। যুদ্ধের শুরুতে কিয়েভ ও খারকিভ দখলে ব্যর্থ রাশিয়া পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস দখলে মনোযোগী হয়। এখানে রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা কয়েক বছর ধরে কিছু এলাকা নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল। কিন্তু রাশিয়াকে ইউক্রেনীয় দৃঢ় প্রতিরোধে পড়তে হয়েছে। আট বছর ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে লড়াই করে আসছে ইউক্রেনীয় বাহিনী। ধীর গতির অগ্রগতির ফলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে। উভয়পক্ষ ভারী কামানের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়িয়েছে, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে দুই পক্ষকে। কোনও পক্ষই স্পষ্টভাবে এগিয়ে নেই।
বুধবার সেভেরোদনেস্কতে প্রতিকূল পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন লুহানস্কের ইউক্রেনীয় গভর্নর সেরহি হাইদাই। তিনি বলেছেন, হয়ত আমাদের পিছু হটতে হবে। কিন্তু এই মুহূর্তে শহরে লড়াই চলছে।
এর আগে টেলিগ্রাম অ্যাপে তিনি বলেছিলেন, শহরের প্রতি সেন্টিমিটার রক্ষার জন্য লড়াই করছে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনী। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, রক্ষা করা সহজ এমন অবস্থানে পিছু হটতে পারে তাদের সেনাবাহিনী। নদীর অপর পাশে লিসিচানস্ক শহরটি উঁচু ভূখ-ে অবস্থিত।
২০১৪ সালে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা লুহানস্ক দখলের পর সেভেরোদনেস্ক তাদের প্রশাসনিক রাজধানীতে পরিণত হয়। রুশ সেনারা পূর্ব, উত্তর ও দক্ষিণ দিকে অবস্থান নিয়েছে। লুহানস্কতে অল্প কয়েকটি শহর এখনও রুশ বাহিনী দখল করতে পারেনি। ক্রেমলিন দাবি করেছে, তাদের সেনারা প্রায় পুরো লুহানস্ক অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে। যা দনেস্ক অঞ্চলের অর্ধেক।
এদিকে, উত্তরে খারকিভ শহরে রুশ গোলাবষর্ণে পাঁচ ব্যক্তি নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে বুধবার জানিয়েছেন আঞ্চলিক গভর্নর ওলেহ সিনিয়েহুবভ। রুশ সেনাবাহিনী বুধবার জানিয়েছে, মস্কো আকাশ থেকে নিক্ষেপিত, নির্ভুল আঘাতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে খারকিভের কাছে একটি সমরাস্ত্র মেরামত কারখানায় হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এমন হামলার কথা নিশ্চিত করা হয়নি। কূটনৈতিক ক্ষেত্রে বুধবার তুর্কি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তাদের বৈঠকে কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ইউক্রেনের খাদ্যশস্য রফতানি অনুমোদনের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে কোনও সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।
পূর্বাঞ্চলীয় রণাঙ্গণে পিছু হটতে পারে ইউক্রেনীয় বাহিনী
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ






















