আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চিকিৎসা বিজ্ঞানের সব তত্ত্বকে রীতিমতো বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভারতের মধ্যপ্রদেশের সাতনায় ঘটে গেল এক অলৌকিক কাণ্ড। ৪৭ বছর বয়সী এক পুরুষের শরীরে জরায়ুর অস্তিত্ব খুঁজে পেল একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। শুধু অস্তিত্বই নয়, সেই জরায়ু কোন পজিশনে আছে, তারও বিস্তারিত বর্ণনা দেয়া হয়েছে রিপোর্টে।
এমন ঘটনায় তোলপাড় ভারত, ঝড় উঠেছে নেট দুনিয়ায়। আর অভিযুক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমেছে রাজ্যটির পুলিশ।
ডাক্তারি শাস্ত্রের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় না কি চরম গাফিলতির পরাকাষ্ঠা? মধ্যপ্রদেশের সাতনা জেলার ‘সাতনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার’ যা ঘটিয়েছে, তাকে হাস্যকর বললেও কম বলা হয়। ৪৭ বছর বয়সী নিরঞ্জন প্রজাপতি পেটে ব্যথা নিয়ে সোনোগ্রাফি করাতে গিয়ে জানতে পারলেন, তিনি না কি জরায়ুর অধিকারী!
উচেহরা নগর পঞ্চায়েতের চেয়ারম্যান নিরঞ্জন প্রজাপতি গত ১৩ জানুয়ারি পেটে ব্যথা ও ফোলা ভাব নিয়ে স্টেশন রোডের ওই প্যাথলজি সেন্টারে যান। পরীক্ষা শেষে রিপোর্ট হাতে পেয়ে তার চোখ তো কপালে! রিপোর্টে স্পষ্ট লেখা- তার জরায়ু রয়েছে এবং সেটি ‘ইনভার্টেড’ বা উল্টো অবস্থায় আছে। একজন পুরুষ মানুষের রিপোর্টে নারী প্রজনন অঙ্গের এমন নিখুঁত বর্ণনা দেখে হতবাক স্বয়ং চিকিৎসকরাও।
নিরঞ্জন প্রজাপতি জানান, পেটে ব্যথার জন্য সাতনায় সোনোগ্রাফি করিয়েছিলাম। প্রথমে গুরুত্ব দেইনি, ওষুধ খেয়েছি। কিন্তু ব্যথা না কমায় জব্বলপুরে বড় ডাক্তার দেখাই। তিনি রিপোর্ট দেখেই বলে দিলেন, এটি আমার রিপোর্ট হতেই পারে না। আমি বললাম, নাম তো আমারই লেখা!
এই ‘আজব’ রিপোর্টের নেপথ্যে থাকা চিকিৎসক ডা. অরবিন্দ সারাফকে সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে তিনি মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
তবে এই নীরবতা গাফিলতির সন্দেহকে আরও উসকে দিয়েছে। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল টাইপিং মিস্টেক বা ক্ল্যারিক্যাল ভুল নয়, বরং চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। ভুল রিপোর্টের ভিত্তিতে ভুল চিকিৎসা হলে রোগীর প্রাণহানিও হতে পারত।
এই অদ্ভুতুড়ে ঘটনায় ক্ষুব্ধ নিরঞ্জন প্রজাপতি পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন। সাতনার চিফ মেডিকেল অ্যান্ড হেলথ অফিসার ডা. মনোজ শুক্লা জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সোনোগ্রাফি বা আল্ট্রাসাউন্ড সাধারণত নিরাপদ ইমেজিং পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত, কিন্তু সাতনার এই ঘটনা প্রমাণ করল, যন্ত্র নিরাপদ হলেও মানুষের গাফিলতি যে কোনো সময় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
ওআ/আপ্র/১৯/১/২০২৬
























