ঢাকা ০৭:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

  • আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও ই-মেইল এর মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। এতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠাতব্য নির্বাচনকে পিআর পদ্ধতিতে করার জন্য অবিলম্বে সাংবিধানিক সংশোধন এবং নতুন আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও বিধান জারি করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, দলীয় তালিকা স্বচ্ছ রাখা, নারী ও সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা এবং কালো টাকার ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নোটিশে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থায় জনগণের ভোট যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে কম ভোট পেয়েও প্রার্থীরা নির্বাচিত হন, আবার বিপুল সংখ্যক ভোট কোনো প্রতিফলন পায় না। এতে জনগণের ভোটের সমান মর্যাদা লঙ্ঘিত হয় এবং সংসদে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটে না।

এছাড়াও, বর্তমান পদ্ধতির কারণে নির্বাচনে কালো টাকা, পেশিশক্তি ও দখলদারিত্ব প্রভাব বিস্তার করে। অপরাধী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলো স্থানীয়ভাবে ভোটকেন্দ্র দখল বা ভয়ভীতি দেখিয়ে জয়ী হয়।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, পিআর পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোটের সমান মূল্যায়ন হবে এবং দলীয়ভাবে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টন হবে। এতে ছোট দল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরও সংসদে প্রতিফলিত হবে এবং একচেটিয়া প্রভাব কমে আসবে।

এই বাস্তবতায় প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দল (বিএনপি ও তাদের মিত্র দল ব্যতীত) দাবি তুলেছে যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর/PR) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

নোটিশে জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পিআর পদ্ধতি সফলভাবে কার্যকর রয়েছে। এসব দেশে স্থিতিশীল সরকার গঠন এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের মানদণ্ড বজায় রাখতে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশে বলেন, যদি সরকার আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করা হবে।

তিনি বিশ্বাস করেন, পিআর পদ্ধতি গ্রহণ করলে জনগণের আস্থা ফিরবে, নির্বাচনী সহিংসতা কমবে এবং সংসদে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটবে।

এসি/আপ্র/৩১/০৮/২০২৫

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পিআর পদ্ধতিতে সংসদ নির্বাচন চেয়ে সরকারকে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় : ০৪:০৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

নিজস্ব প্রতিবেদক: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) পদ্ধতিতে আয়োজনের দাবিতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

রোববার (৩১ আগস্ট) রেজিস্ট্রি ডাকযোগে ও ই-মেইল এর মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান। এতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, আগামী ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠাতব্য নির্বাচনকে পিআর পদ্ধতিতে করার জন্য অবিলম্বে সাংবিধানিক সংশোধন এবং নতুন আইন প্রণয়ন করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও বিধান জারি করতে হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলো সময়মতো প্রস্তুতি নিতে পারে। নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, দলীয় তালিকা স্বচ্ছ রাখা, নারী ও সংখ্যালঘুদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা, নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা নির্ধারণ করা এবং কালো টাকার ব্যবহার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

নোটিশে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান ব্যবস্থায় জনগণের ভোট যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে কম ভোট পেয়েও প্রার্থীরা নির্বাচিত হন, আবার বিপুল সংখ্যক ভোট কোনো প্রতিফলন পায় না। এতে জনগণের ভোটের সমান মর্যাদা লঙ্ঘিত হয় এবং সংসদে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটে না।

এছাড়াও, বর্তমান পদ্ধতির কারণে নির্বাচনে কালো টাকা, পেশিশক্তি ও দখলদারিত্ব প্রভাব বিস্তার করে। অপরাধী, দুর্নীতিবাজ ও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত গোষ্ঠীগুলো স্থানীয়ভাবে ভোটকেন্দ্র দখল বা ভয়ভীতি দেখিয়ে জয়ী হয়।

নোটিশে দাবি করা হয়েছে, পিআর পদ্ধতিতে প্রতিটি ভোটের সমান মূল্যায়ন হবে এবং দলীয়ভাবে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে সংসদে আসন বণ্টন হবে। এতে ছোট দল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠস্বরও সংসদে প্রতিফলিত হবে এবং একচেটিয়া প্রভাব কমে আসবে।

এই বাস্তবতায় প্রায় সব বড় রাজনৈতিক দল (বিএনপি ও তাদের মিত্র দল ব্যতীত) দাবি তুলেছে যে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই প্রপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর/PR) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।

নোটিশে জার্মানি, সুইডেন, নরওয়ে, ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশগুলোর উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে পিআর পদ্ধতি সফলভাবে কার্যকর রয়েছে। এসব দেশে স্থিতিশীল সরকার গঠন এবং গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের মানদণ্ড বজায় রাখতে এই পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান নোটিশে বলেন, যদি সরকার আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই বিষয়ে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তবে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট আবেদন দায়ের করা হবে।

তিনি বিশ্বাস করেন, পিআর পদ্ধতি গ্রহণ করলে জনগণের আস্থা ফিরবে, নির্বাচনী সহিংসতা কমবে এবং সংসদে প্রকৃত জনমতের প্রতিফলন ঘটবে।

এসি/আপ্র/৩১/০৮/২০২৫