ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

‘পরিবেশের দোহাই দিয়ে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে’

  • আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :পরিবেশ-প্রতিবেশের দোহাই দিয়ে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে ‘জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।’ গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতারা এ অভিযোগ করেন। ‘জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলমান ষড়যন্ত্র এবং এ শিল্পের বিরাজমান সংকট মোকাবেলা’র দাবিতে এ মানববন্ধন হয়েছে। এতে বিভিন্ন শীপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী যোগ দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প প্রতিনিয়ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে। নানা অজুহাতে এ শিল্পের টুঁটি চেপে ধরার পাঁয়তারা চলছে বহুদিন ধরে। নেতিবাচক অভিযোগ আর মিথ্যা অপবাদের কারণে পুরানো জাহাজ আমদানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জাহাজ আমদানির পর কাটার অনুমতি পেতে অহেতুক মাসের পর মাস বিলম্ব হচ্ছে। অথচ ৩০ হাজার কোটি টাকার এ শিল্প প্রতিবছর সরকারকে দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিচ্ছে।’ ‘সরকারের আইন মেনে হংকং কনভেনশনের আলোকে জাহাজ ভাঙ্গা কারখানাগুলো ধীরে ধীরে গ্রীন শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর হচ্ছে। সাতটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড ইতোমধ্যে গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভ করেছে। আরও ১০টি ইয়ার্ড গ্রীন সনদ পেতে প্রস্তুত। বাকিগুলোও গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভের কাজ করছে। এজন্য মালিকদের খরচ হয়ে গেছে হাজার কোটি টাকার বেশি। এখন বলা হচ্ছে, এ শিল্পের পরিবেশগত মানের না কি উন্নতি হচ্ছে না।, এটা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘এ শিল্পের সঙ্গে শুধু শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা ব্যবসায় জড়িত হাজার হাজার ব্যবসায়ী, তাদের কর্মচারী ও পরিবারের সদস্যরা এর ওপর নির্ভরশীল। শীপব্রেকিং ইয়ার্ড থেকে উন্নতমানের লোহাসহ শতাধিক পণ্য পাওয়া যায়। এসব পণ্য প্রাণ সঞ্চার করেছে ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণসহ রফতানি বাণিজ্যের আটটি শিল্পে ও ব্যাংকিং খাতে। এ শিল্পকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে ১ লাখ কোটি টাকার অর্থনীতি।

অন্ধকার অধ্যায় আর হতাশার গল্প ছাপিয়ে এ খাত এখন বলছে সম্ভাবনা আর রূপান্তরের গল্প। আর এমন সময়ে পরিবেশ-প্রতিবেশের দোহাই দিয়ে এ শিল্পকে বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এ ষড়যন্ত্র জীবন দিয়ে প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত।’ পরিষদের আহবায়ক ও পুরাতন জাহাজের ফার্নিচার সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ও শীপব্রেকিং শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদ, সদস্য মো. নবী, খালেদ মঞ্জু, শেখ সাহাব উদ্দিন, মো. নছিম, ছালামত আলী, মইন উদ্দিন, আজিজুর রহমান, শাহ জামান, সাহাব উদ্দিন মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। সীতাকুণ্ড পাইপ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, পুরাতন জাহাজের ইলেকট্রিক সমিতি, সীতাকুণ্ড পুরাতন জাহাজের ইলেকট্রিক ক্যাবেল সমিতি, ভাটিয়ারি নব জাগরন মেটাল, শীতলপুর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, শাপলা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, রশি দোকান মালিক সমিতি, শীতলপুর ইউনিটি সংসদ, জেনারেল ষ্টোর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, সীতাকুণ্ড শীপ ব্রেকিং ওয়েল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, কোল্ডষ্টোর-কিচেন রুম সমিতি, পুরাতন জাহাজের ফার্নিচার সমিতি, পুরাতন জাহাজের হার্ডওয়ার মালিক সমিতিসহ প্রায় অর্ধশত সংগঠনের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচিতে সংহতি জানানো হয়।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

‘পরিবেশের দোহাই দিয়ে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে’

আপডেট সময় : ০৮:০৮:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :পরিবেশ-প্রতিবেশের দোহাই দিয়ে জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প বন্ধের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছে ‘জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদ।’ গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এক মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতারা এ অভিযোগ করেন। ‘জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পের বিরুদ্ধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চলমান ষড়যন্ত্র এবং এ শিল্পের বিরাজমান সংকট মোকাবেলা’র দাবিতে এ মানববন্ধন হয়েছে। এতে বিভিন্ন শীপব্রেকিং ইয়ার্ডের প্রায় দুই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী যোগ দেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প প্রতিনিয়ত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছে। নানা অজুহাতে এ শিল্পের টুঁটি চেপে ধরার পাঁয়তারা চলছে বহুদিন ধরে। নেতিবাচক অভিযোগ আর মিথ্যা অপবাদের কারণে পুরানো জাহাজ আমদানি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। জাহাজ আমদানির পর কাটার অনুমতি পেতে অহেতুক মাসের পর মাস বিলম্ব হচ্ছে। অথচ ৩০ হাজার কোটি টাকার এ শিল্প প্রতিবছর সরকারকে দেড় হাজার কোটি টাকা রাজস্ব দিচ্ছে।’ ‘সরকারের আইন মেনে হংকং কনভেনশনের আলোকে জাহাজ ভাঙ্গা কারখানাগুলো ধীরে ধীরে গ্রীন শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিতে রূপান্তর হচ্ছে। সাতটি শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড ইতোমধ্যে গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভ করেছে। আরও ১০টি ইয়ার্ড গ্রীন সনদ পেতে প্রস্তুত। বাকিগুলোও গ্রীন ইয়ার্ড হিসেবে সনদ লাভের কাজ করছে। এজন্য মালিকদের খরচ হয়ে গেছে হাজার কোটি টাকার বেশি। এখন বলা হচ্ছে, এ শিল্পের পরিবেশগত মানের না কি উন্নতি হচ্ছে না।, এটা মিথ্যাচার ও ষড়যন্ত্র।’ বক্তারা আরও বলেন, ‘এ শিল্পের সঙ্গে শুধু শ্রমিক নয়, এর সঙ্গে সম্পৃক্ত নানা ব্যবসায় জড়িত হাজার হাজার ব্যবসায়ী, তাদের কর্মচারী ও পরিবারের সদস্যরা এর ওপর নির্ভরশীল। শীপব্রেকিং ইয়ার্ড থেকে উন্নতমানের লোহাসহ শতাধিক পণ্য পাওয়া যায়। এসব পণ্য প্রাণ সঞ্চার করেছে ইস্পাত, জাহাজ নির্মাণসহ রফতানি বাণিজ্যের আটটি শিল্পে ও ব্যাংকিং খাতে। এ শিল্পকে ঘিরে আবর্তিত হচ্ছে ১ লাখ কোটি টাকার অর্থনীতি।

অন্ধকার অধ্যায় আর হতাশার গল্প ছাপিয়ে এ খাত এখন বলছে সম্ভাবনা আর রূপান্তরের গল্প। আর এমন সময়ে পরিবেশ-প্রতিবেশের দোহাই দিয়ে এ শিল্পকে বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এ ষড়যন্ত্র জীবন দিয়ে প্রতিরোধ করতে প্রস্তুত।’ পরিষদের আহবায়ক ও পুরাতন জাহাজের ফার্নিচার সমিতির সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ, সদস্য সচিব ও শীপব্রেকিং শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাবেদ, সদস্য মো. নবী, খালেদ মঞ্জু, শেখ সাহাব উদ্দিন, মো. নছিম, ছালামত আলী, মইন উদ্দিন, আজিজুর রহমান, শাহ জামান, সাহাব উদ্দিন মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন। সীতাকুণ্ড পাইপ ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি, পুরাতন জাহাজের ইলেকট্রিক সমিতি, সীতাকুণ্ড পুরাতন জাহাজের ইলেকট্রিক ক্যাবেল সমিতি, ভাটিয়ারি নব জাগরন মেটাল, শীতলপুর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, শাপলা ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, রশি দোকান মালিক সমিতি, শীতলপুর ইউনিটি সংসদ, জেনারেল ষ্টোর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, সীতাকুণ্ড শীপ ব্রেকিং ওয়েল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি, কোল্ডষ্টোর-কিচেন রুম সমিতি, পুরাতন জাহাজের ফার্নিচার সমিতি, পুরাতন জাহাজের হার্ডওয়ার মালিক সমিতিসহ প্রায় অর্ধশত সংগঠনের পক্ষ থেকে এ কর্মসূচিতে সংহতি জানানো হয়।