নিজস্ব প্রতিবেদক : নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, জাতীয় সংসদে নারী সংরক্ষিত ৫০ আসন দিয়ে নারীদের অপমান করা হয়েছে। নারীদের আসন দিতে হবে ১০০টি এবং তা হবে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক। কেননা এখন টাকা দিয়ে নারীদের আসন কিনে নেওয়া হচ্ছে। পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসবে সেটা ভুল ধারণা, এক্ষেত্রে সংসদের ভূমিকা লাগবে।
শনিবার (১৬ নভেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘কেমন সংবিধান চাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রধান এ মন্তব্য করেন তিনি। সংবিধান শুধু আইনজ্ঞদের বিষয় নয়, এটি সবার- উল্লেখ করে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘সংবিধানকে নানান সংশোধনীর মাধ্যমে নষ্ট করা হয়েছে। বিশেষ করে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে এক তৃতীয়াংশ পরিবর্তন করে সংবিধান কলুষিত করা হয়েছে।’ মৌলিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা কারও নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংবিধানে বহু অসঙ্গতি রয়েছে, যা পরিবর্তন করতে হবে।’
সংরক্ষিত আসন নিয়ে নির্বাচন সংস্কার কমিশন প্রধান বলেন, ‘এখানে নারীকে প্রতীকী অবস্থায় নিয়ে যায়, সেইসঙ্গে অবমূল্যায়ন করা হয়। তাই সংস্কার প্রয়োজন। সরাসরি নির্বাচনের মাধ্যমে নারীকে ক্ষমতায় আনার ব্যবস্থা করতে হবে। ৪০০ আসন হলে ১০০টি নারীর জন্য বরাদ্দ করতে হবে, তাও যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে। তৃণমূল পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
ড. বদিউল আলম মজুমদার আরো বলেন, ভোটের সময় কোটি কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য হয়। রাজনীতি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। রাজনীতি এখন জনকল্যাণ নয়, রাজনীতি এখন ব্যবসা। এ সময় স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার খারাপ হয়েছে। দলীয় প্রতীকে ভোট হোক আমরা চাই না। লোকাল গভর্নমেন্ট আইন পরিবর্তন করতে হবে। আইনের পরিবর্তন হলে ভালো হবে। সভায় গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল হোসেন বলেন, ‘বিগত সময়গুলোতে রাজনৈতিক সংকটে এই সংবিধান সমাধান করতে পারেনি। বরং সংকট বাড়িয়েছে।’ সভায় নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব জেসমিন টুলিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল হলেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরবে না :ড. বদিউল আলম মজুমদার
জনপ্রিয় সংবাদ