ঢাকা ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬
স্বাস্থ্য প্রতিদিন====

নীরবে শরীর সুস্থ রাখে পুষ্টিগুণে ভরপুর ওলকপি

  • আপডেট সময় : ০৬:২৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৭ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

প্রত্যাশা ডেস্ক: বর্তমান সময়ের জীবনযাপনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, হজমের গোলমাল আর হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা- এ তিনটি সমস্যা প্রায় ঘরে ঘরেই দেখা যাচ্ছে। সুস্থ থাকতে অনেকেই দামি খাবার কিংবা সাপ্লিমেন্টের দিকে ঝুঁকছেন। অথচ বাজারের সাধারণ সবজির তালিকাতেই আছে এর সহজ সমাধান। কম দামে পাওয়া এমন একটি সবজি রয়েছে- যা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীরের এ তিনটি বড় সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব। পুষ্টিগুণে ভরপুর ওই সবজি শুধু স্বাদেই ভালো নয়, নীরবে কাজ করে শরীরকে সুস্থ রাখতে। সবজিটি নাম হলো ওলকপি।

ওলকপি বাঁধাকপি পরিবারের একটি পুষ্টিকর সবজি, যা স্বাদ ও গুণ দুটিতেই আলাদা। কাঁচা অবস্থায় এটি কিছুটা পেঁপের মতো কচকচে অনুভূতি দেয় আর রান্না হলে নরম হয়ে হালকা মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। শুধু স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্যগুণেও ওলকপি বেশ সমৃদ্ধ।

ওলকপির আরেক নাম ‘জার্মান শালগম’। এটি ব্রাসিকা ওলারাসিয়া গোত্রভুক্ত একটি ক্রুসিফেরাস সবজি। গোলাকার কাণ্ডের সঙ্গে এর ডাঁটা ও পাতা সব অংশই খাওয়ার উপযোগী। সাধারণত সবুজ ও বেগুনি রঙের ওলকপি বেশি দেখা যায়। তবে সাদা ও লাল জাতও রয়েছে। ভেতরের অংশ সাধারণত ফ্যাকাশে সাদা রঙের হয়।

এক কাপ কাঁচা ওলকপিতে প্রায় থাকে মাত্র ৩৬ ক্যালরি, ৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৫ গ্রাম খাদ্যআঁশ, ২ গ্রাম প্রোটিন, ৮৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি (দৈনিক চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ), ৪৭২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম (দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১৮ শতাংশ), ০.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬।

ওলকপি খাওয়ার তিনটি উল্লেখযোগ্য উপকারিতা হলো-
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ওলকপিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এটি কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং আয়রন শোষণে সাহায্য করে। পাশাপাশি ওলকপির পাতা ও মূল অংশে থাকা পলিফেনল ও গ্লুকোসিনোলেটস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ওলকপি খাওয়া কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে: ওলকপির খাদ্যআঁশ অন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং হজম সহজ করে। একই সঙ্গে এটি অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া যেমন ল্যাকটোবাসিলি ও বিফিডোব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি সহায়তা করে; যা গাট মাইক্রোবায়োম সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর: ওলকপি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে লাল বা বেগুনি ওলকপিতে থাকা অ্যানথোসায়ানিন, সঙ্গে পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ এই উপাদানগুলো হার্ট ভালো রাখতে সহায়ক। গবেষকদের মতে, নিয়মিত ওলকপি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

খাওয়ার আগে সতর্কতা: অতিরিক্ত ওলকপি খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। এতে ভিটামিন কে রয়েছে। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে পরিমিত খাওয়া জরুরি। খাদ্য তালিকায় নতুন করে যোগ করলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করাই ভালো।

ওলকপি খাওয়ার উপায়: ওলকপি রান্না করে তরকারি, ভাজি কিংবা সেদ্ধ করে খাওয়া যায়। গ্রিল করেও ভালো লাগে। কাঁচা অবস্থায় সালাদে ব্যবহার করা যায় অনায়াসে। স্পাইরাল করে কেটে নুডলসের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। চাইলে পাকোড়া বানিয়েও খেতে পারেন।

তথ্য সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

স্বাস্থ্য প্রতিদিন====

নীরবে শরীর সুস্থ রাখে পুষ্টিগুণে ভরপুর ওলকপি

আপডেট সময় : ০৬:২৫:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী ২০২৬

প্রত্যাশা ডেস্ক: বর্তমান সময়ের জীবনযাপনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, হজমের গোলমাল আর হৃদস্বাস্থ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা- এ তিনটি সমস্যা প্রায় ঘরে ঘরেই দেখা যাচ্ছে। সুস্থ থাকতে অনেকেই দামি খাবার কিংবা সাপ্লিমেন্টের দিকে ঝুঁকছেন। অথচ বাজারের সাধারণ সবজির তালিকাতেই আছে এর সহজ সমাধান। কম দামে পাওয়া এমন একটি সবজি রয়েছে- যা নিয়মিত খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীরের এ তিনটি বড় সমস্যার মোকাবিলা করা সম্ভব। পুষ্টিগুণে ভরপুর ওই সবজি শুধু স্বাদেই ভালো নয়, নীরবে কাজ করে শরীরকে সুস্থ রাখতে। সবজিটি নাম হলো ওলকপি।

ওলকপি বাঁধাকপি পরিবারের একটি পুষ্টিকর সবজি, যা স্বাদ ও গুণ দুটিতেই আলাদা। কাঁচা অবস্থায় এটি কিছুটা পেঁপের মতো কচকচে অনুভূতি দেয় আর রান্না হলে নরম হয়ে হালকা মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যায়। শুধু স্বাদেই নয়, স্বাস্থ্যগুণেও ওলকপি বেশ সমৃদ্ধ।

ওলকপির আরেক নাম ‘জার্মান শালগম’। এটি ব্রাসিকা ওলারাসিয়া গোত্রভুক্ত একটি ক্রুসিফেরাস সবজি। গোলাকার কাণ্ডের সঙ্গে এর ডাঁটা ও পাতা সব অংশই খাওয়ার উপযোগী। সাধারণত সবুজ ও বেগুনি রঙের ওলকপি বেশি দেখা যায়। তবে সাদা ও লাল জাতও রয়েছে। ভেতরের অংশ সাধারণত ফ্যাকাশে সাদা রঙের হয়।

এক কাপ কাঁচা ওলকপিতে প্রায় থাকে মাত্র ৩৬ ক্যালরি, ৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ৫ গ্রাম খাদ্যআঁশ, ২ গ্রাম প্রোটিন, ৮৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি (দৈনিক চাহিদার প্রায় ৯৫ শতাংশ), ৪৭২ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম (দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১৮ শতাংশ), ০.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি৬।

ওলকপি খাওয়ার তিনটি উল্লেখযোগ্য উপকারিতা হলো-
শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: ওলকপিতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেয়। এটি কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং আয়রন শোষণে সাহায্য করে। পাশাপাশি ওলকপির পাতা ও মূল অংশে থাকা পলিফেনল ও গ্লুকোসিনোলেটস অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও জীবাণুনাশক হিসেবে কাজ করে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ওলকপি খাওয়া কিছু নির্দিষ্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।

হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে: ওলকপির খাদ্যআঁশ অন্ত্রের জন্য খুবই উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে এবং হজম সহজ করে। একই সঙ্গে এটি অন্ত্রে থাকা ভালো ব্যাকটেরিয়া যেমন ল্যাকটোবাসিলি ও বিফিডোব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি সহায়তা করে; যা গাট মাইক্রোবায়োম সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হৃদস্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর: ওলকপি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং ক্ষতিকর কোলেস্টেরল (এলডিএল) কমাতে ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে লাল বা বেগুনি ওলকপিতে থাকা অ্যানথোসায়ানিন, সঙ্গে পটাশিয়াম ও ভিটামিন বি৬ এই উপাদানগুলো হার্ট ভালো রাখতে সহায়ক। গবেষকদের মতে, নিয়মিত ওলকপি খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমতে পারে।

খাওয়ার আগে সতর্কতা: অতিরিক্ত ওলকপি খেলে গ্যাস বা পেট ফাঁপার সমস্যা হতে পারে। এতে ভিটামিন কে রয়েছে। তাই যারা রক্ত পাতলা করার ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে পরিমিত খাওয়া জরুরি। খাদ্য তালিকায় নতুন করে যোগ করলে অল্প পরিমাণ দিয়ে শুরু করাই ভালো।

ওলকপি খাওয়ার উপায়: ওলকপি রান্না করে তরকারি, ভাজি কিংবা সেদ্ধ করে খাওয়া যায়। গ্রিল করেও ভালো লাগে। কাঁচা অবস্থায় সালাদে ব্যবহার করা যায় অনায়াসে। স্পাইরাল করে কেটে নুডলসের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। চাইলে পাকোড়া বানিয়েও খেতে পারেন।

তথ্য সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ