নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াত-এনসিপি জোট ইতিমধ্যে মাঠে প্রচারণা শুরু করেছে। অন্য জোটগুলোর ভেতরে আসন নিয়ে এখনো অস্পষ্টতা ও বিশৃঙ্খলা থাকলেও তাদের জোট নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতা নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, আগামী দু–এক দিনের মধ্যেই এনসিপি জোট কত আসনে নির্বাচন করবে, তার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, ঘোষণাই কেবল বাকি।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের চিফ ইলেকশন অবজারভার আইভার্স ইজাবস’র নেতৃত্বাধীন নির্বাচন পর্যবেক্ষক প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন নাহিদ ইসলাম।
দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড বা সমান নির্বাচনী সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম। তাঁর অভিযোগ, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও প্রটোকল দেওয়ার কারণে প্রশাসনে পক্ষপাতের বার্তা যাচ্ছে। এতে নির্বাচনী মাঠে অসম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা মনে করছি, বিশেষ রাজনৈতিক দলকে সরকারিভাবে বিশেষ সুযোগ-সুবিধা, বিশেষ করে প্রটোকল দেওয়ার মাধ্যমে একধরনের সিগন্যালিং করা হচ্ছে এবং যেটা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডে বাধা তৈরি করতে পারে, এটা অসম অবস্থা তৈরি করতে পারে। কারণ, প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কিন্তু এইটা একধরনের মেসেজ যায় যে সরকার কার পক্ষে আছে।
মিডিয়ার একদিকে ঝুঁকে যাওয়ার প্রবণতা দেখতে পাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি বা এনসিপিকে নিয়ে মেইন স্ট্রিম মিডিয়াতে নানা ধরনের নেতিবাচক নিউজ বা ফলস নিউজ। বিশেষত কয়েকটি মিডিয়াতে এটি টার্গেটভাবে করা হচ্ছে। তো এটা আসলে আমাদের যে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রশাসনিকভাবে বা মিডিয়ার জায়গা থেকে সেই সুযোগ-সুবিধাটা কিন্তু সমভাবে যাতে হয়, সেটা আমাদের চাওয়া থাকবে। সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে কিন্তু বারবার আমরা এটা বলেছি।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অনেক ঋণখেলাপি প্রার্থীকে প্রাথমিকভাবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। সংখ্যা আরো বেশি হওয়া সত্ত্বেও অল্প কয়েকজনকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান দাবি করেন তিনি। নাহিদ ইসলাম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বড় পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে। ইইউ চায় নির্বাচন সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও গ্রহণযোগ্য হোক, যাতে ফল ঘোষণার পর গণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নির্বিঘ্ন হয়। এ জন্য সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা চেয়েছে সংস্থাটি।
নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নির্বাচনী মাঠে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। হত্যাকারীরা এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় নিরাপত্তাহীনতা রয়ে গেছে।
সানা/আপ্র/১০/০১/২০২৬



















