ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’ 

  • আপডেট সময় : ০১:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে প্রথমবারের মতে বাংলাদেশে চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’। এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯।

সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ (এমইউএ) জাতীয় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ও টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ এর উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত আইজিপি সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক মো. নুরাননবী, অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের কনভেনার সাদাত রহমান, সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাশরুর আরেফিন, গণমাধ্যম ও উন্নয়নকর্মী দীপ্তি চৌধুরী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (শিশু সুরক্ষা শাখা) মোহা. কামরুজ্জামান।

সিআইডি জানিয়েছে, কোনো শিশু নিখোঁজ হলে, মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে শিশুটির তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হবে, পুলিশ স্টেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার, ব্যাংকিং এটিএম বুথ, মেট্রোরেলসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব প্ল্যাটফর্মে। এছাড়া বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালের জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে নিখোঁজ শিশুর ছবিসহ খবরটি। সীমান্ত দিয়ে নিখোঁজ শিশু পাচার বন্ধে সীমান্তে অ্যালার্ট জারি করা হবে, বিজিবিকে সতর্ক করা হবে।

সিআইডি বলছে, নিখোঁজের প্রথম তিন ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরে নিয়ে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজ অ্যালার্টটি হবে সমন্বিত। এটি তদারকি করবে সিআইডি, তবে গুরুত্ব অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের প্রায় সবগুলো স্টেকহোল্ডার এখানে সহযোগিতা করবে।

নিখোঁজের প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। শিশু অপরাধ দমনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই ব্যবস্থা।

উদ্বোধনকালে সিআইডি প্রধান বলেন, কোনো শিশুর অশ্লীল বা যৌন নির্যাতনের ছবি মোবাইলে ধারণ হলেই, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য সিআইডির কাছে পৌঁছে যাবে।

এসময় তিনি বলেন, শিশু সুরক্ষায় শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে সিলেটের কানাইঘাট থেকে নিখোঁজ হয় শিশু মুনতাহা আক্তার (৫)। অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য ডোবায় পুঁতে রাখা হয়েছিল।

সিলেটের কানাইঘাট থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর শিশু মুনতাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই শিশু মুনতাহাকে উৎসর্গ করেই নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হলো।

এসি/আপ্র/১৩/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

নিখোঁজ শিশু উদ্ধারে চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’ 

আপডেট সময় : ০১:৫৮:৩৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত উদ্ধারে প্রথমবারের মতে বাংলাদেশে চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) চালু হলো ‘মুন অ্যালার্ট’। এ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯।

সকালে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ (এমইউএ) জাতীয় জরুরি সতর্কতা ব্যবস্থা ও টোল ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯ এর উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত আইজিপি সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের পরিচালক মো. নুরাননবী, অ্যাম্বার অ্যালার্ট ফর বাংলাদেশের কনভেনার সাদাত রহমান, সিটি ব্যাংকের এমডি ও সিইও মাশরুর আরেফিন, গণমাধ্যম ও উন্নয়নকর্মী দীপ্তি চৌধুরী এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (শিশু সুরক্ষা শাখা) মোহা. কামরুজ্জামান।

সিআইডি জানিয়েছে, কোনো শিশু নিখোঁজ হলে, মুন অ্যালার্টের মাধ্যমে শিশুটির তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে দেওয়া হবে, পুলিশ স্টেশন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টুইটার, ব্যাংকিং এটিএম বুথ, মেট্রোরেলসহ সারা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব প্ল্যাটফর্মে। এছাড়া বাস, ট্রেন ও লঞ্চ টার্মিনালের জায়ান্ট স্ক্রিনে প্রদর্শন করা হবে নিখোঁজ শিশুর ছবিসহ খবরটি। সীমান্ত দিয়ে নিখোঁজ শিশু পাচার বন্ধে সীমান্তে অ্যালার্ট জারি করা হবে, বিজিবিকে সতর্ক করা হবে।

সিআইডি বলছে, নিখোঁজের প্রথম তিন ঘণ্টাকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধরে নিয়ে কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিখোঁজ অ্যালার্টটি হবে সমন্বিত। এটি তদারকি করবে সিআইডি, তবে গুরুত্ব অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের প্রায় সবগুলো স্টেকহোল্ডার এখানে সহযোগিতা করবে।

নিখোঁজের প্রথম তিন ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে উদ্ধারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে। শিশু অপরাধ দমনেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই ব্যবস্থা।

উদ্বোধনকালে সিআইডি প্রধান বলেন, কোনো শিশুর অশ্লীল বা যৌন নির্যাতনের ছবি মোবাইলে ধারণ হলেই, তাৎক্ষণিকভাবে সেই তথ্য সিআইডির কাছে পৌঁছে যাবে।

এসময় তিনি বলেন, শিশু সুরক্ষায় শুধু পুলিশ নয়, সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। সমন্বিত উদ্যোগেই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এখানে উল্লেখ্য যে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে সিলেটের কানাইঘাট থেকে নিখোঁজ হয় শিশু মুনতাহা আক্তার (৫)। অপহৃত শিশুটিকে হত্যা করে লাশ গুম করার জন্য ডোবায় পুঁতে রাখা হয়েছিল।

সিলেটের কানাইঘাট থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর শিশু মুনতাহার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সেই শিশু মুনতাহাকে উৎসর্গ করেই নিখোঁজ ও অপহৃত শিশুদের দ্রুত উদ্ধার নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ‘মুন অ্যালার্ট’ ও হেল্পলাইন ১৩২১৯ চালু করা হলো।

এসি/আপ্র/১৩/০১/২০২৬