ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নারী প্রার্থীর সংখ্যা তলানিতে, শতাংশের হিসেবে ৪ দশমিক ০৮

  • আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রমতে, এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জোরালো দাবি থাকলেও এবারের নির্বাচনে এই সংখ্যা হতাশাজনক। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ৮১ জন, যা শতাংশের হিসেবে মাত্র ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।

জুলাই সনদ ও দলের অঙ্গীকার বনাম বাস্তবতা: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হয়েছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০ শতাংশের প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির ৫ শতাংশের প্রস্তাবটি জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ধাপে ধাপে নারী প্রতিনিধিত্ব ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার। তবে নারী অধিকারকর্মীদের মতে, প্রথম ধাপেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মনোনয়ন ও প্রার্থীর তালিকা: ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, ৩ হাজার ৪১৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫৮০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানি শেষে ৪৩৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। পরবর্তী সময়ে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৮১ জনে। তবে সীমানা জটিলতায় পাবনা-১ ও ২ আসনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত হলেও পরে নতুন তফসিলে ৯ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরো কিছুটা বাড়বে।
কোন অঞ্চলে নারী প্রার্থী কত? নির্বাচন কমিশন সারা দেশের ৩০০ আসনকে ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেছে। অঞ্চলগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, ফরিদপুর এবং কুমিল্লা। এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যায় বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে।

ঢাকা অঞ্চল: ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রোকেয়া আক্তার, ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিমা হুদা, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৭ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী শাহানা সেলিম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত, ঢাকা-৮ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, গণফোরামের প্রার্থী নাজমা আক্তার, ঢাকা-১০ আসনের আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী নাসরীন সুলতানা, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী বহ্নি বেপারী, ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সালমা আক্তার, ঢাকা-১৩ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম, ঢাকা-১৮ আসনের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ, ঢাকা-১৯ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দিলোশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ, গাজীপুর-১ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী তসলিমা আক্তার, গাজীপুর-১ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সরকার তাসলিমা আফরোজ, নরসিংদী-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শিরিন আক্তার, নরসিংদী-৫ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী তাহমিনা আক্তার, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মেহেরুন নেছা খান হেনা।

রাজশাহী অঞ্চল: এই অঞ্চলের ১০ জন প্রার্থী হলেন- জয়পুরহাট-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) তৌফিকা দেওয়ান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার, বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) দিলোরুবা, নওগাঁ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম, নাটোর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমীন, নাটোর-২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাহামিদা ইসলাম তানিয়া, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মল্লিকা খাতুন, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী ইলোরা খাতুন, পাবনা-৩ আসনের গণফোরামের প্রার্থী সরদার আশা পারভেজ, পাবনা-৪ আসনের নাগরিক ঐক্যের শাহনাজ হক।

রংপুর অঞ্চল: রংপুর অঞ্চলের ৮ জন হলেন- ঠাকুরগাঁও-২ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী নূরুন নাহার বেগম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি, দিনাজপুর-৩ আসনের বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী লায়লা তুল রীমা, রংপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী ও রিটা রহমান, রংপুর-৪ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী প্রগতি বর্মণ তমা, রংপুর-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিয়া জাহান চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালমা আক্তার, গাইবান্ধা-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী রাহেলা খাতুন।

কুমিল্লা অঞ্চল: এই অঞ্চলের ১১ জন প্রার্থীরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও আমজনতার দলের শরিফা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আয়েশা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী নাহিদা জাহান, কুমিল্লা-৫ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী শিরিন আক্তার, কুমিল্লা-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কামরুন্নাহার সাথী, কুমিল্লা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম, চাঁদপুর-২ আসনের বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকার, নোয়াখালী-১ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী রেহানা বেগম, নোয়াখালী-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মুন তাহার বেগম, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী তানিয়া রব।

চট্টগ্রাম অঞ্চল: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাত জন হলেন- চট্টগ্রাম-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার, চট্টগ্রাম-১০ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী আসমা আকতার এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সাবিনা খাতুন, চট্টগ্রাম-১১ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী দীপা মজুমদার, খাগড়াছড়ি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, রাঙামাটির বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা।

ফরিদপুর অঞ্চল: ফরিদপুর অঞ্চলের চার জন হলেন- ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী আরিফা আক্তার বেবি, মাদারীপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার।
সিলেট অঞ্চল: সিলেট অঞ্চলের প্রার্থী দুই জন। এরা হলেন- সিলেট-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর, মৌলভীবাজার-২ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী।

ময়মনসিংহ অঞ্চল: এই অঞ্চলে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৯। এরা হলেন- টাঙ্গাইল ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার, টাঙ্গাইল-৫ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার, জামালপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা ফরিদ, শেরপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা, ময়মনসিংহ-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরী, নেত্রকোনা-৪ আসনের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী চম্পা রানী সরকার এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জলি তালুকদার, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির।

খুলনা অঞ্চল: খুলনা অঞ্চলের ছয় জন প্রার্থী হলেন- কুষ্টিয়া-৩ আসনের বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) প্রার্থী রুমপা খাতুন, ঝিনাইদহ-১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মনিকা আলম, ঝিনাইদহ-৪ আসনের গণফোরামের প্রার্থী খনিয়া খানম, যশোর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, মাগুরা-১ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী শম্পা বসু, খুলনা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী শামিম আরা পারভীন (ইয়াসমীন)।

বরিশাল অঞ্চল: এই অঞ্চল থেকে নারী প্রার্থী মাত্র দুই জন। এরা হলেন- ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো ও বরিশাল-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মণিষা চক্রবর্তী।

কোন দলে কত নারী প্রার্থী: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি দল। এই দলগুলোর মধ্যে ২০টি দলের নারী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এই নির্বাচনে। এছাড়াও স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নারী প্রার্থীরা। আর যেকোনও দলের থেকেই স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি।

বিএনপি: এবারের ভোটে ৩০০ আসনে বিএনপির মোট ২৮৮ জন চূড়ান্ত হয়েছে; যার মধ্যে নারী প্রার্থী ১০ জন। অর্থাৎ তা মোট প্রার্থীর ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এনসিপি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৩২ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে; যার মধ্যে নারী প্রার্থী দুই জন। অর্থাৎ তা ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী): এই দলটি থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছে ২৯ জন। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। সে হিসেবে তা ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টি (জাপা) এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১৯২ জন; যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৬ জন। মোট সংখ্যার ৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ১০ দলীয় জোটের হয়ে সারা দেশে দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি দলটি।

স্বতন্ত্র: এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২৪৯ জন। এদের মধ্যে নারী প্রার্থী ১৮ জন; যা মোট সংখ্যার ৭ দশমিক ২২ শতাংশ।

এছাড়া অন্যান্য যে দলগুলো থেকে নারী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) একজন; বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) চার জন; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ছয় জন; ন্যাশনাল পিপলস পার্টির একজন; ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ছয় জন; গণসংহতি আন্দোলনের চার জন; বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই জন; গণঅধিকার পরিষদের তিন জন; গণফোরামের তিন জন; বাংলাদেশ মুসলিম লীগের একজন; বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) একজন; বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির একজন; আমজনতার দলের একজন; বাংলাদেশ লেবার পার্টির একজন এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের একজন।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯৬৯ জন। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৯৬ জন। সেই হিসেবে এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা গেলো বারের তুলনায় কম।

সানা/আপ্র/২৪/০১/২০২৬

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

নারী প্রার্থীর সংখ্যা তলানিতে, শতাংশের হিসেবে ৪ দশমিক ০৮

আপডেট সময় : ০৯:৫৩:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

প্রত্যাশা ডেস্ক: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রমতে, এবারের সংসদীয় নির্বাচনে ৩০০ আসনে সব মিলিয়ে ১ হাজার ৯৮১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে জাতীয় নির্বাচনে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর জোরালো দাবি থাকলেও এবারের নির্বাচনে এই সংখ্যা হতাশাজনক। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী মাত্র ৮১ জন, যা শতাংশের হিসেবে মাত্র ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ।

জুলাই সনদ ও দলের অঙ্গীকার বনাম বাস্তবতা: জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে ন্যূনতম ৫ শতাংশ নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে অধিকাংশ দল একমত হয়েছিল। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১০ শতাংশের প্রস্তাব দিলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির ৫ শতাংশের প্রস্তাবটি জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ধাপে ধাপে নারী প্রতিনিধিত্ব ৩৩ শতাংশে উন্নীত করার। তবে নারী অধিকারকর্মীদের মতে, প্রথম ধাপেই রাজনৈতিক দলগুলো তাদের এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

মনোনয়ন ও প্রার্থীর তালিকা: ইসি সচিবালয়ের তথ্যমতে, ৩ হাজার ৪১৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্যে ২ হাজার ৫৮০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। যাচাই-বাছাই ও আপিল শুনানি শেষে ৪৩৬ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। পরবর্তী সময়ে ৩০৫ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেওয়ায় চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ৯৮১ জনে। তবে সীমানা জটিলতায় পাবনা-১ ও ২ আসনের কার্যক্রম সাময়িক স্থগিত হলেও পরে নতুন তফসিলে ৯ জন প্রার্থীকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা আরো কিছুটা বাড়বে।
কোন অঞ্চলে নারী প্রার্থী কত? নির্বাচন কমিশন সারা দেশের ৩০০ আসনকে ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চলে ভাগ করেছে। অঞ্চলগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, ময়মনসিংহ, রংপুর, সিলেট, ফরিদপুর এবং কুমিল্লা। এই অঞ্চলগুলোর মধ্যে নারী প্রার্থীর সংখ্যায় বড় ধরনের তারতম্য দেখা গেছে।

ঢাকা অঞ্চল: ঢাকা অঞ্চল থেকে সবচেয়ে বেশি ২৩ জন নারী প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন- মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপির প্রার্থী আফরোজা খানম, মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের রোকেয়া আক্তার, ঢাকা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অন্তরা সেলিমা হুদা, ঢাকা-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৭ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী শাহানা সেলিম ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত, ঢাকা-৮ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মেঘনা আলম, ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, গণফোরামের প্রার্থী নাজমা আক্তার, ঢাকা-১০ আসনের আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) প্রার্থী নাসরীন সুলতানা, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী বহ্নি বেপারী, ঢাকা-১২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাসলিমা আখতার, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সালমা আক্তার, ঢাকা-১৩ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী সানজিদা ইসলাম, ঢাকা-১৮ আসনের ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সাবিনা জাবেদ, ঢাকা-১৯ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী দিলোশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী নাবিলা তাসনিদ, গাজীপুর-১ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী তসলিমা আক্তার, গাজীপুর-১ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সরকার তাসলিমা আফরোজ, নরসিংদী-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী শিরিন আক্তার, নরসিংদী-৫ আসনের ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী তাহমিনা আক্তার, জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মেহেরুন নেছা খান হেনা।

রাজশাহী অঞ্চল: এই অঞ্চলের ১০ জন প্রার্থী হলেন- জয়পুরহাট-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) তৌফিকা দেওয়ান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেকুন নাহার, বগুড়া-৬ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) দিলোরুবা, নওগাঁ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আরফানা বেগম, নাটোর-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমীন, নাটোর-২ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী তাহামিদা ইসলাম তানিয়া, সিরাজগঞ্জ-১ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মল্লিকা খাতুন, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী ইলোরা খাতুন, পাবনা-৩ আসনের গণফোরামের প্রার্থী সরদার আশা পারভেজ, পাবনা-৪ আসনের নাগরিক ঐক্যের শাহনাজ হক।

রংপুর অঞ্চল: রংপুর অঞ্চলের ৮ জন হলেন- ঠাকুরগাঁও-২ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী নূরুন নাহার বেগম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আশা মনি, দিনাজপুর-৩ আসনের বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী লায়লা তুল রীমা, রংপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী ও রিটা রহমান, রংপুর-৪ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী প্রগতি বর্মণ তমা, রংপুর-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী তাকিয়া জাহান চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছালমা আক্তার, গাইবান্ধা-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী রাহেলা খাতুন।

কুমিল্লা অঞ্চল: এই অঞ্চলের ১১ জন প্রার্থীরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানা ও আমজনতার দলের শরিফা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের আয়েশা আক্তার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী নাহিদা জাহান, কুমিল্লা-৫ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী শিরিন আক্তার, কুমিল্লা-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) কামরুন্নাহার সাথী, কুমিল্লা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম, চাঁদপুর-২ আসনের বাংলাদেশ লেবার পার্টির প্রার্থী নাসিমা নাজনীন সরকার, নোয়াখালী-১ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী রেহানা বেগম, নোয়াখালী-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী মুন তাহার বেগম, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী তানিয়া রব।

চট্টগ্রাম অঞ্চল: চট্টগ্রাম অঞ্চলের সাত জন হলেন- চট্টগ্রাম-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী জিন্নাত আকতার, চট্টগ্রাম-১০ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী আসমা আকতার এবং ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী সাবিনা খাতুন, চট্টগ্রাম-১১ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী দীপা মজুমদার, খাগড়াছড়ি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী জিরুনা ত্রিপুরা এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মিথিলা রোয়াজা, রাঙামাটির বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী জুঁই চাকমা।

ফরিদপুর অঞ্চল: ফরিদপুর অঞ্চলের চার জন হলেন- ফরিদপুর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ফরিদপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) প্রার্থী আরিফা আক্তার বেবি, মাদারীপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী নাদিরা আক্তার।
সিলেট অঞ্চল: সিলেট অঞ্চলের প্রার্থী দুই জন। এরা হলেন- সিলেট-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী তাহসিনা রুশদীর, মৌলভীবাজার-২ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) প্রার্থী সাদিয়া নোশিন তাসনিম চৌধুরী।

ময়মনসিংহ অঞ্চল: এই অঞ্চলে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৯। এরা হলেন- টাঙ্গাইল ৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আইনিন নাহার, টাঙ্গাইল-৫ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী ফাতেমা আক্তার, জামালপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারজানা ফরিদ, শেরপুর-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী সানসিলা জেবরিন, ময়মনসিংহ-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা, ময়মনসিংহ-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসিনা খান চৌধুরী, নেত্রকোনা-৪ আসনের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী চম্পা রানী সরকার এবং বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জলি তালুকদার, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির।

খুলনা অঞ্চল: খুলনা অঞ্চলের ছয় জন প্রার্থী হলেন- কুষ্টিয়া-৩ আসনের বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) প্রার্থী রুমপা খাতুন, ঝিনাইদহ-১ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী মনিকা আলম, ঝিনাইদহ-৪ আসনের গণফোরামের প্রার্থী খনিয়া খানম, যশোর-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা, মাগুরা-১ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী শম্পা বসু, খুলনা-৫ আসনের জাতীয় পার্টির (জাপা) প্রার্থী শামিম আরা পারভীন (ইয়াসমীন)।

বরিশাল অঞ্চল: এই অঞ্চল থেকে নারী প্রার্থী মাত্র দুই জন। এরা হলেন- ঝালকাঠি-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভূট্টো ও বরিশাল-৫ আসনের বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী মণিষা চক্রবর্তী।

কোন দলে কত নারী প্রার্থী: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে মোট ৫১টি দল। এই দলগুলোর মধ্যে ২০টি দলের নারী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে এই নির্বাচনে। এছাড়াও স্বতন্ত্রভাবেও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন নারী প্রার্থীরা। আর যেকোনও দলের থেকেই স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেওয়া নারী প্রার্থীর সংখ্যা বেশি।

বিএনপি: এবারের ভোটে ৩০০ আসনে বিএনপির মোট ২৮৮ জন চূড়ান্ত হয়েছে; যার মধ্যে নারী প্রার্থী ১০ জন। অর্থাৎ তা মোট প্রার্থীর ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

এনসিপি: জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রথমবারের মতো নির্বাচনে অংশ নিয়ে ৩২ জন প্রার্থী ঘোষণা করেছে; যার মধ্যে নারী প্রার্থী দুই জন। অর্থাৎ তা ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী): এই দলটি থেকে প্রার্থী দেয়া হয়েছে ২৯ জন। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ১০ জন। সে হিসেবে তা ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

জাতীয় পার্টি: জাতীয় পার্টি (জাপা) এবারের নির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে ১৯২ জন; যার মধ্যে নারী প্রার্থী ৬ জন। মোট সংখ্যার ৩ দশমিক ১২ শতাংশ।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: ১০ দলীয় জোটের হয়ে সারা দেশে দুই শতাধিক আসনে প্রার্থী দিলেও কোনো নারীকে মনোনয়ন দেয়নি দলটি।

স্বতন্ত্র: এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ২৪৯ জন। এদের মধ্যে নারী প্রার্থী ১৮ জন; যা মোট সংখ্যার ৭ দশমিক ২২ শতাংশ।

এছাড়া অন্যান্য যে দলগুলো থেকে নারী প্রার্থী দেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো- আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) একজন; বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) চার জন; জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ছয় জন; ন্যাশনাল পিপলস পার্টির একজন; ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ছয় জন; গণসংহতি আন্দোলনের চার জন; বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির দুই জন; গণঅধিকার পরিষদের তিন জন; গণফোরামের তিন জন; বাংলাদেশ মুসলিম লীগের একজন; বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) একজন; বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির একজন; আমজনতার দলের একজন; বাংলাদেশ লেবার পার্টির একজন এবং ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের একজন।

উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থী ছিলেন ১ হাজার ৯৬৯ জন। তাদের মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন ৯৬ জন। সেই হিসেবে এবার নারী প্রার্থীর সংখ্যা গেলো বারের তুলনায় কম।

সানা/আপ্র/২৪/০১/২০২৬