ঢাকা ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

নারায়ণগঞ্জে ঘরে বিস্ফোরণে একে একে সাতজনের মৃত্যু

  • আপডেট সময় : ০১:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫
  • ১৩ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো সাতজনে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টায় আসমা মারা যান বলে সেখানকার জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ৩৫ বছর বয়সী আসমা আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। তার শরীরের ৫০ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় ৮ বছরের মুনতাহা কেবল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছে বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।

গত ২৩ অগাস্ট ভোররাতে উপজেলার পাইনাদী পূর্বপাড়া এলাকার একটি টিনশেডের বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পাশাপাশি দুটি ঘরের অন্তত নয়জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আটজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে এনে ভর্তি করা হয়।

তারা হলেন-হাসান (৪০), জান্নাত (৪), মুনতাহা (৮), সালমা (৩২), ইমাম উদ্দিন (১ মাস), আরাফাত (১৮), তৃষা আক্তার (১৭), এবং আসমা (৩৫)। তাদের মধ্যে আসমা এবং সালমা দুই বোন। বাকীরা তাদের স্বামী সন্তান।

তাদের মধ্যে হাসানের শরীরের ৪৪ শতাংশ, জান্নাতের ৪০ শতাংশ, মুনতাহার ৩৭ শতাংশ, সালমার ৪৮ শতাংশ, ইমাম উদ্দিনের ৩০ শতাংশ, আরাফাতের ১৫ শতাংশ, তৃষা আক্তারের ৫৩ শতাংশ এবং আসমার শরীরের ৪৮ শতাংশ পুড়ে যায়।

ঘটনার একদিন পর হাসানের একমাস বয়সী সন্তান ইমাম উদ্দিন মারা যায়। সোমবার মারা যান হাসানের শাশুড়ি তাহেরা আক্তার। বৃহস্পতিবার ভোরে হাসান এবং দুপুরে তার মেয়ে জান্নাত মারা যান।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সালমা আক্তার, সাড়ে তিনটার দিকে তৃষা আক্তারের মৃত্যু হয় আর রাত ১১টায় মারা যান সালমার বোন আসমা।

শর্ট সার্কিট থেকে ঘরে থাকা রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে আগুনের ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানালেও এলাকাবাসীর দাবি তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমা গ্যাস বিস্ফোরণের প্রধান কারণ।

নিহত হাসানের বন্ধু হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আগুনের ঘটনা শুনে তিনি ওই বাসায় যান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এলাকার লোকজন বলেছে প্রথমে একটা বিকট শব্দ হয়েছে। এরপর আগুন লাগে। ওটা টিনশেড ঘর ছিল, তাপ কমানোর জন্য ওপরে ফলস সিলিং লাগানো হয়েছে, আগুনে ওইগুলো পুড়েও তাদের সবার শরীরে এসে পড়েছে। তাতে তারা আরো বেশি দগ্ধ হয়েছে।

এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৫

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নুরুল হকের ওপর নৃশংস হামলার বিচার বিভাগীয় তদন্ত হবে

নারায়ণগঞ্জে ঘরে বিস্ফোরণে একে একে সাতজনের মৃত্যু

আপডেট সময় : ০১:৫১:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

নারায়ণগঞ্জ সংবাদদাতা: নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ একটি বাড়িতে বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের মধ্যে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো সাতজনে।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টায় আসমা মারা যান বলে সেখানকার জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ৩৫ বছর বয়সী আসমা আইসিইউতে ভর্তি ছিলেন। তার শরীরের ৫০ শতাংশ আগুনে পুড়ে যায়।

এই দুর্ঘটনায় ৮ বছরের মুনতাহা কেবল জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছে বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।

গত ২৩ অগাস্ট ভোররাতে উপজেলার পাইনাদী পূর্বপাড়া এলাকার একটি টিনশেডের বাসায় হঠাৎ বিস্ফোরণের পর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে পাশাপাশি দুটি ঘরের অন্তত নয়জন দগ্ধ হন। তাদের মধ্যে আটজনকে বার্ন ইনস্টিটিউটে এনে ভর্তি করা হয়।

তারা হলেন-হাসান (৪০), জান্নাত (৪), মুনতাহা (৮), সালমা (৩২), ইমাম উদ্দিন (১ মাস), আরাফাত (১৮), তৃষা আক্তার (১৭), এবং আসমা (৩৫)। তাদের মধ্যে আসমা এবং সালমা দুই বোন। বাকীরা তাদের স্বামী সন্তান।

তাদের মধ্যে হাসানের শরীরের ৪৪ শতাংশ, জান্নাতের ৪০ শতাংশ, মুনতাহার ৩৭ শতাংশ, সালমার ৪৮ শতাংশ, ইমাম উদ্দিনের ৩০ শতাংশ, আরাফাতের ১৫ শতাংশ, তৃষা আক্তারের ৫৩ শতাংশ এবং আসমার শরীরের ৪৮ শতাংশ পুড়ে যায়।

ঘটনার একদিন পর হাসানের একমাস বয়সী সন্তান ইমাম উদ্দিন মারা যায়। সোমবার মারা যান হাসানের শাশুড়ি তাহেরা আক্তার। বৃহস্পতিবার ভোরে হাসান এবং দুপুরে তার মেয়ে জান্নাত মারা যান।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সালমা আক্তার, সাড়ে তিনটার দিকে তৃষা আক্তারের মৃত্যু হয় আর রাত ১১টায় মারা যান সালমার বোন আসমা।

শর্ট সার্কিট থেকে ঘরে থাকা রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণে আগুনের ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানালেও এলাকাবাসীর দাবি তিতাসের গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে জমা গ্যাস বিস্ফোরণের প্রধান কারণ।

নিহত হাসানের বন্ধু হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, আগুনের ঘটনা শুনে তিনি ওই বাসায় যান। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

এলাকার লোকজন বলেছে প্রথমে একটা বিকট শব্দ হয়েছে। এরপর আগুন লাগে। ওটা টিনশেড ঘর ছিল, তাপ কমানোর জন্য ওপরে ফলস সিলিং লাগানো হয়েছে, আগুনে ওইগুলো পুড়েও তাদের সবার শরীরে এসে পড়েছে। তাতে তারা আরো বেশি দগ্ধ হয়েছে।

এসি/আপ্র/৩০/০৮/২০২৫