তুষার কান্তি সরকার : নারদ হালদার। জেলে পরিবারের সন্তান। ঘরের চালে অসংখ্য ফুটো। রোদ আসে। ঝমঝম বৃষ্টি পড়ে। রাতের বেলা চাঁদ দেখা যায়। তারারা উঁকি মারে। স্যাঁতসেঁতে মাটিরঘরের কোনো পাশে বেড়া আছে তো কোনো পাশে নেই। কুকুর-বেড়াল ঢোকে। হাঁড়িতে ভাত খোঁজে। রান্না করা সবজির কড়াই চাটে। খাবার পায় না। ওরাই খাবার পায় না তো পশুপাখি কি খাবে? জেলেপল্লীর চেহারা আজো বদলাইনি। ছোট ছেলেমেয়েরালেংটা থাকে। জাল-দড়ি নিয়ে খেলে। গায়ে ধুলোবালি মাখে। কাঁদা মাখে। নাক দিয়ে সর্দিপরে। ঠা-া লেগে জ¦র হয়। পাতলা পায়খানা হয়। ডাক্তারের কাছে যায় না। দুদিন পর এমনিতেই সেরে যায়।ওদের ডাক্তার দেখানোর বাড়তি টাকা কোথায়? পেটের খিদে মেটাতে ওরা দিনরাত পরিশ্রম করে। এরপরও খিদে মেটে না। তিনবেলা জোটে না পেটভর্তি খাবার। জুটবে কি করে। নদী শুকিয়ে গেছে। গাঙে মাছ নেই। মাছ নেই তো টাকা নেই। টাকা নেই তো পেটের ভাতও নেই।
নারদ ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। প্রতি ক্লাসে এক থেকে তিনের ভেতর রোল থেকেছে। ফাইভ পর্যন্ত বিদ্যে আছে পেটে। পড়তে পারেনি টাকার অভাবে। বাপ-দাদার সঙ্গে মাছ ধরতে গেছে জালের নৌকায়। দুটাকা আসলে সংসারের সাশ্রয়। পেটের খিদে যেখানে বড় লেখাপড়া সেখানে তুচ্ছ মনে হয়েছে ওদের কাছে।
যৌবনে জাল-নৌকা আর জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে একদিন ঢাকা চলে আসে নারদ। বড় কিছু করার জন্য। পেট ভরে খাওয়ার জন্য। কিন্তু বাস্তবতার আগুনে পুড়ে কয়লা হয় দেহ-মন। প্রচ- পরিশ্রম আর দিনের পর দিন উপোষ থাকায় শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। টিবিতে আক্রান্ত হয় ও। মনের জোর আর বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় একসময় ভালো হয়ে ওঠে। কিন্তু শ^াস-প্রশ^াসের সমস্যা থেকেই যায়। আবার টাকা রোজগারের চিন্তা। অক্লান্ত পরিশ্রম। দিনের পর দিন উপোষ। আবার শরীর বিদ্রোহ করে। প্রচ- অসুস্থতার পর ডাক্তাররা ওর রোগ নির্ণয় করেন চড়ংঃ ঞঁনবৎপঁষড়ংরং ই/খ খঁহম ইৎড়হপযরবঃধংরং (উধসধমবফ সড়ৎব ঃযধহ ৫০% ই/খ খঁহম). চলতে থাকে চিকিৎসা।
বন্ধু-বান্ধবদের সহযোগিতা আর ধার-দেনা করেও রোগ থেকে মুক্তি মেলেনা। বক্ষব্যাধি হাসপাতাল অনেক চেষ্টা করেও রোগ মুক্তির বার্তা ওকে শোনাতে পারেনি। ফুসফুসের ৫০% নষ্ট। শারীরিক সক্ষমতা অপ্রতুল। ধুকে ধুকে মরা ছাড়া বাংলাদেশে ওর কোনো চিকিৎসা নেই।
৩৮ বছরের নারদ এখন রাজবাড়ি জেলার রতনদিয়ার জেলে পল্লীতে থাকে। যৌবনের সেই তাগড়া ছেলেটার শরীরে আজ হাড় ছাড়া কিছুই নেই। মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে ও। ক্ষয়ে যাচ্ছে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে। ও জানে, সামনে ওর নিশ্চিত মৃত্যু। তবু বাঁচার স্বপ্ন ওর চোখে-মুখে। ও এখন একটি মুহূর্তও অক্সিজেন ছাড়া থাকতে পারে না। চলতে পারে না। বুক ভরে নিশ^াস নিতে পারে না। কথা বলতে প্রচ- কষ্ট হয়। ঠা-া-গরমে সমস্যা হয়। কাশি দিলে গলগল করে রক্ত পড়ে। রক্ত বন্ধ করতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে থাকতে হয় ১০/১৫ দিন। নির্দিষ্ট ওষুধের সঙ্গে চলে কড়া অ্যান্টিবায়োটিক। তখন ওর মুখের দিকে তাকানো যায় না। কষ্ট হয়, প্রচ- কষ্ট।
মানুষ বাঁচতে চায়। নারদও বাঁচতে চায়। তাই বাঁচার স্বপ্ন নিয়ে যোগাযোগ করতে থাকে ভারতে বিভিন্ন হাসপাতালে। একসময় সাড়া দেয় চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো হাসপাতাল। আশ^াস দেন তারা রোগ মুক্তির। বেঁচে থাকার মূল্য নির্ধারণ করেন সাড়ে ২৬ লাখ রুপি। মেজর দুটো অপারেশন। একজনকে সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া, ওখানে থাকা-খাওয়া, পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা… সব মিলিয়ে বাংলাদেশের ৩২ থেকে ৩৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। যে নিঃস্ব পরিবারের ৩৫ হাজার টাকা নেই সেই পরিবারটি কি করে ৩৫ লাখ টাকা জোগাড় করবে?
নারদের বেঁচে থাকার ইচ্ছে প্রবল। ওর পরিবারের এতো টাকা খরচ করার সামর্থ্য নেই। কিন্তু আমাদের আছে। বাংলাদেশের আছে। .আমরা বিশ^কে দেখিয়ে দিয়েছি পদ্মাসেতুর মতো সেতুও আমরা নিজেদের টাকায় করতে পারি। আমরা নারদকেও বাঁচাতে পারব। দেশের ১৭ কোটি মানুষ যদি একটি করে টাকা দেয় তাহলে ১৭ কোটি টাকা। নারদের চিকিৎসায় এতো টাকার প্রয়োজন নেই। শুধু ৩৫ লাখ টাকা দরকার। আমরা পারি নারদকে বাঁচিয়ে রাখতে। আমরা পারি নারদের স্বপ্নকে সফল করতে। একবার চিন্তা করুন, নারদ তো কারো ভাই, কারো সন্তান, কারো ছেলে। মাত্র ৩৫ লাখ টাকার বিনিময়ে আসুন আমরা মায়ের কোলে সন্তানকে ফিরিয়ে দিই; দাদার কাছে ফিরিয়ে দিই ভাইকে, বোনের কাছে তার দাদাকে। এর চেয়ে আনন্দের আর কী হতে পারে! নারদের পাশে আমরা দাঁড়াব। বাংলাদেশ দাঁড়াবে। মানবতার জয় হবেই।
নারদ হালদার : সোনালি ব্যাংক, কালুখালী শাখাÑ এসি নম্বরÑ২২১৩৭০১০১২৩৮২; ডাচবাংলা ব্যাংক, কালুখালী শাখাÑ এসি নম্বরÑ৭০১৭৩১৭৭৪৯৬৩২; নগদ, বিকাশ, রকেট নম্বরÑ০১৯৫৩১৩৭৩৩১; নগদ, বিকাশ, রকেট নম্বরÑ ০১৯৮৫৬৪৮৬১৪
লেখক : সম্পাদক. প্রকৃতিবার্তা
নারদের পাশে আমরা দাঁড়াব, বাংলাদেশ দাঁড়াবে
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ