ঢাকা ০৪:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে জায়গা খুঁজছি: প্রধানমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০২:২২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১
  • ১১৬ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে রূপপুরের পর আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সেজন্য জায়গা খোঁজার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে যেন আর কখনো পিছিয়ে পড়তে না হয়, এ দেশের ওপর আর কখনো যেন কোনো দশকুনির থাবা’ না পড়ে, সেজন্য সরকার বাংলাদেশকে ‘উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
গতকাল রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল হল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। এর ভেতরেই ইউরেনিয়াম থেকে শক্তি উৎপাদন হবে, যা কাজে লাগিয়ে তৈরি হবে বিদ্যুৎ। রিয়্যাক্টেই হল একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাণ।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছে, রিঅ্যাক্টর স্থাপনের পর প্রকল্পের কাজ শেষ করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। প্রথম ইউনিটের ৫০ শতাংশ কাজ এ বছরেই শেষ হবে।
সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।
রূপপুরের কাজ শেষ হলে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দক্ষিণ অঞ্চলে জায়গা খুঁজছি। দক্ষিণ অঞ্চলে শক্ত মাটিওয়ালা জায়গা পাওয়া খুব কঠিন। তারপরও বিভিন্ন জায়গায় আমরা সার্ভে করছি যে আরেকটা পাওয়ার প্ল্যান্ট আমরা করবে।
“এখন যদি আমরা আরেকটা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে পারি, তাহলে বিদ্যুতের জন্য আর কোনো অসুবিধা আমাদের হবে না। তারপরও আমরা বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছি এই জন্য যে বিদ্যুৎ সুবিধাটা মানুষ যেন পায়, এটা যেন অব্যাহত থাকে।”
২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরে পরমাণু চুল্লির জন্য প্রথম ইউনিটের কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেছিলেন, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ পর্বের কাজ। এবার সেখানে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বসানোর মধ্য দিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ আমরা এখন পরমাণু শক্তির একটা অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আজকেৃ আমি বলবো সেখানে একটা স্থান আমরা করে নিতে পারলাম এবং সেটা শান্তির জন্য। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরমানু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করছি।”
তিনি বলেন, সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে, পাশপাশি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে এ বছর। একই সময়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারা বাংলাদেশের জন্য ‘অত্যন্ত গৌরবের’।
“বাংলাদেশের জন্য আজকে এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ দিবস। আজকের এই দিনটি শুধু বাংলাদেশ নয়, আমার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনটি সত্যিই আমাদের জন্য খুবই একটা আনন্দের দিন।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও তার কথা হয়েছিল।
“সেখানে আমার কতগুলো প্রশ্ন ছিল, আমরা এটা করার পর এটার নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। কারণ বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ, এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করাটা সম্ভব নয়। আমাদের যে চুক্তি হয়, তাতে এটাও নিশ্চিত করা হয়, এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সব সময় রাশিয়া নিজেই করবে। সেই বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করি।”
বাংলাদেশে অনেকে না জেনে সমালোচনা করেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের বাংলাদেশে একটা কিছু করতে গেলে এত সমালোচনা, এত সমালোচনা হয়। নানাভাবে নানা জনে, কেউ বুঝে না বুঝে অনেক কথা বলে ফেলে, অনেক কথা লিখে ফেলে। টকশোতে অনেক কথা-এটা হচ্ছে বাংলাদেশের নিয়ম।” সমালোচকদের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টক, মিষ্টি, ঝালের মিশেলে অনেকে অনেক সময় কথা বলেন, তবে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা করার দরকার করবো।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের নিজস্ব দক্ষ জনবলও তৈরি হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে যারা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী বা যারা নিউক্লিয়ার বিষয়ে কাজ করেন, সকলেরই কিন্তু একটা অভিজ্ঞতা হল। তাদের ট্রেনিং করাতে হচ্ছে। তাদেরকে রাশিয়া ও ইন্ডিয়াতে ট্রেনিং করাচ্ছি।”
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আইএইএর সঙ্গে চুক্তি সই, বাংলাদেশ অ্যাটমিক অ্যানার্জি কমিশন গঠনসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতাও অনেক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর এই উদ্যোগটাই থেমে যায়। ৃ যদি জাতির পিতা বেঁচে থাকতেন, তাহলে এটা আমরা আরও অনেক আগে করতে পারতাম।”
সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু এখানে থেমে গেলে চলবে না। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ আমরা করব। ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম সুন্দর দেশ, উন্নত দেশ, সমৃদ্ধশালী দেশ, আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন একটি দেশ হিসেবেই আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে।”
দেশকে এগিয়ে নিতে শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই দেশকে যাতে আর কোনোদিন পিছিয়ে পড়তে না হয়। আর যেন কোনো শকুনির থাবা না পড়ে বাংলাদেশের উপর। বাংলাদেশের যে উন্নতি, অগ্রগতিৃ অপ্রতিরোধ্য গতিতে যেন বাংলাদেশ এগিয়ে যায়, সেটাই আমরা চাই।”
বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ, এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লোশকিন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান রূপপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : [email protected]
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করতে জায়গা খুঁজছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:২২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১০ অক্টোবর ২০২১

নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘমেয়াদে বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে রূপপুরের পর আরেকটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে সেজন্য জায়গা খোঁজার কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশকে যেন আর কখনো পিছিয়ে পড়তে না হয়, এ দেশের ওপর আর কখনো যেন কোনো দশকুনির থাবা’ না পড়ে, সেজন্য সরকার বাংলাদেশকে ‘উন্নত, সমৃদ্ধ দেশ’ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
গতকাল রোববার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বা পরমাণু চুল্লিপাত্র স্থাপনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল হল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল যন্ত্র। এর ভেতরেই ইউরেনিয়াম থেকে শক্তি উৎপাদন হবে, যা কাজে লাগিয়ে তৈরি হবে বিদ্যুৎ। রিয়্যাক্টেই হল একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রাণ।
প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছে, রিঅ্যাক্টর স্থাপনের পর প্রকল্পের কাজ শেষ করতে খুব বেশি সময় লাগবে না। প্রথম ইউনিটের ৫০ শতাংশ কাজ এ বছরেই শেষ হবে।
সরকার আশা করছে, ২০২৩ সালের এপ্রিলে রূপপুরের ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে। সব ঠিক থাকলে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা যাবে।
রূপপুরের কাজ শেষ হলে আরও একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করার ইচ্ছার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা দক্ষিণ অঞ্চলে জায়গা খুঁজছি। দক্ষিণ অঞ্চলে শক্ত মাটিওয়ালা জায়গা পাওয়া খুব কঠিন। তারপরও বিভিন্ন জায়গায় আমরা সার্ভে করছি যে আরেকটা পাওয়ার প্ল্যান্ট আমরা করবে।
“এখন যদি আমরা আরেকটা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট করতে পারি, তাহলে বিদ্যুতের জন্য আর কোনো অসুবিধা আমাদের হবে না। তারপরও আমরা বহুমুখী বিদ্যুৎ উৎপাদন করে যাচ্ছি এই জন্য যে বিদ্যুৎ সুবিধাটা মানুষ যেন পায়, এটা যেন অব্যাহত থাকে।”
২০১৭ সালের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপপুরে পরমাণু চুল্লির জন্য প্রথম ইউনিটের কংক্রিটের মূল স্থাপনা নির্মাণের উদ্বোধন করেছিলেন, যার মধ্য দিয়ে শুরু হয় দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূল নির্মাণ পর্বের কাজ। এবার সেখানে রিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেল বসানোর মধ্য দিয়ে স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। অর্থাৎ আমরা এখন পরমাণু শক্তির একটা অংশ হিসেবে বাংলাদেশ আজকেৃ আমি বলবো সেখানে একটা স্থান আমরা করে নিতে পারলাম এবং সেটা শান্তির জন্য। এটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরমানু শক্তি আমরা শান্তির জন্য ব্যবহার করছি।”
তিনি বলেন, সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করছে, পাশপাশি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপিত হচ্ছে এ বছর। একই সময়ে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারা বাংলাদেশের জন্য ‘অত্যন্ত গৌরবের’।
“বাংলাদেশের জন্য আজকে এটা সত্যিই খুব গুরুত্বপূর্ণ দিবস। আজকের এই দিনটি শুধু বাংলাদেশ নয়, আমার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের দিনটি সত্যিই আমাদের জন্য খুবই একটা আনন্দের দিন।”
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, ২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়েও তার কথা হয়েছিল।
“সেখানে আমার কতগুলো প্রশ্ন ছিল, আমরা এটা করার পর এটার নিরাপত্তা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। কারণ বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ, এখানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করাটা সম্ভব নয়। আমাদের যে চুক্তি হয়, তাতে এটাও নিশ্চিত করা হয়, এর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সব সময় রাশিয়া নিজেই করবে। সেই বিষয়গুলো আমরা নিশ্চিত করি।”
বাংলাদেশে অনেকে না জেনে সমালোচনা করেন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাদের বাংলাদেশে একটা কিছু করতে গেলে এত সমালোচনা, এত সমালোচনা হয়। নানাভাবে নানা জনে, কেউ বুঝে না বুঝে অনেক কথা বলে ফেলে, অনেক কথা লিখে ফেলে। টকশোতে অনেক কথা-এটা হচ্ছে বাংলাদেশের নিয়ম।” সমালোচকদের ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, টক, মিষ্টি, ঝালের মিশেলে অনেকে অনেক সময় কথা বলেন, তবে আমরা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যা করার দরকার করবো।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে বাংলাদেশের নিজস্ব দক্ষ জনবলও তৈরি হচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দেশে যারা বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী বা যারা নিউক্লিয়ার বিষয়ে কাজ করেন, সকলেরই কিন্তু একটা অভিজ্ঞতা হল। তাদের ট্রেনিং করাতে হচ্ছে। তাদেরকে রাশিয়া ও ইন্ডিয়াতে ট্রেনিং করাচ্ছি।”
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আইএইএর সঙ্গে চুক্তি সই, বাংলাদেশ অ্যাটমিক অ্যানার্জি কমিশন গঠনসহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতাও অনেক উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর এই উদ্যোগটাই থেমে যায়। ৃ যদি জাতির পিতা বেঁচে থাকতেন, তাহলে এটা আমরা আরও অনেক আগে করতে পারতাম।”
সরকারপ্রধান বলেন, “আমরা এখন উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। কিন্তু এখানে থেমে গেলে চলবে না। ২০৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ আমরা করব। ২০৭১ সালে আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন হবে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্ম সুন্দর দেশ, উন্নত দেশ, সমৃদ্ধশালী দেশ, আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন একটি দেশ হিসেবেই আমাদের স্বাধীনতার শতবর্ষ উদযাপন করবে।”
দেশকে এগিয়ে নিতে শত বছরের ডেল্টা প্ল্যান করার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “এই দেশকে যাতে আর কোনোদিন পিছিয়ে পড়তে না হয়। আর যেন কোনো শকুনির থাবা না পড়ে বাংলাদেশের উপর। বাংলাদেশের যে উন্নতি, অগ্রগতিৃ অপ্রতিরোধ্য গতিতে যেন বাংলাদেশ এগিয়ে যায়, সেটাই আমরা চাই।”
বাংলাদেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মিত হচ্ছে রুশ সহায়তায়। দেশটির রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশনের (রোসাটম) মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ, এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লোশকিন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান রূপপুরে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।