নিজস্ব প্রতিবেদক: জুনিয়র বৃত্তিতে শিক্ষার্থী ও অর্থ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। বাজারব্যবস্থার সঙ্গে সংগতি রেখে শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ও এককালীন বৃত্তি বাড়ানোর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে বৃত্তির টাকা দ্বিগুণ এবং বৃত্তির সংখ্যা বাড়বে প্রায় সোয়া ৯ হাজার।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।
শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন ও ঝরেপড়া ঠেকাতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পথ মসৃণ করতে বর্তমানের চেয়ে আ অতিরিক্ত ২০ শতাংশ কোটা বৃদ্ধি এবং টাকার অংক দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানো সংক্রান্ত সম্ভাব্য বাজেট প্রস্তাব পর্যালোচনা করে তা অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১) সাইদুর রহমান এ তথ্য জানান।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী বাড়ছে সোয়া ৯ হাজার
বর্তমানে সারাদেশে ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী সরকারি ‘জুনিয়র বৃত্তি’ পেয়ে থাকে। এর মধ্যে ট্যালেন্টপুলে ১৪ হাজার ৭০০ জন ও ৩১ হাজার ৫০০ জন শিক্ষার্থী সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাচ্ছে। এ হার ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৫ হাজার ৪৪০ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ হাজার ৬৪০ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ৩৭ হাজার ৮০০ জন সাধারণ কোটায় বৃত্তি পাবে। নতুন এ প্রস্তাব অনুমোদন হলে ৯ হাজার ২৪০ শিক্ষার্থী বেশি বৃত্তি পাবে।
দ্বিগুণ হচ্ছে বৃত্তির টাকা
খসড়া প্রস্তাবনা অনুযায়ী, ট্যালেন্টপুলে মাসিক ভাতা ৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯০০ এবং বার্ষিক এককালীন অনুদান ৫৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ১২০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে একজন শিক্ষার্থী প্রতি বছর ১১ হাজার ৯২০ টাকা পাবে, যা বর্তমানে ৫ হাজার ৯৬০ টাকা।
সাধারণ বৃত্তি কোটায় মাসিক ৩০০ টাকার পরিবর্তে ৬০০ এবং বার্ষিক এককালীন ৩৫০ টাকার পরিবর্তে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন শিক্ষার্থীর বার্ষিক সুবিধা ৩ হাজার ৯৫০ থেকে বেড়ে ৭ হাজার ৯০০ টাকা হবে। এ সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ২ বছর ভোগ করা যাবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ বৃত্তির পেছনে সরকারে দুই বছরে ব্যয় হয় ৪২ কোটি ৪০ লাখ ৭৪ হাজার টাকা। নতুন হার কার্যকর হলে দুই বছরে সরকারের সম্ভাব্য ব্যয় দাঁড়াবে প্রায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬০০ টাকা। আগের চেয়ে অতিরিক্ত ৫৯ কোটি ৩৭ লাখ ৩ হাজার ৬০০ টাকা বাড়তি প্রয়োজন হবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব (সরকারি মাধ্যমিক-২) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি মিললে দ্রুতই এ সংক্রান্ত সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হবে।
এসি/আপ্র/০৩/০১/২০২৫






















