নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর মহাখালীতে দিনভর সড়ক ও রেলপথ অবরোধ শেষে দুই ঘণ্টার বিরতিতে আবার সড়কে নেমেছেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীরা; বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে অটল তারা।
সোমবার (২৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে আবারও কলেজের সামনে মহাখালী-গুলশান সড়কে অবস্থান নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবি জানাতে থাকেন তারা। এতে এ সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাদের দাবি, সন্ধ্যার পর মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আগের অবস্থান থেকে সরে আসায় তারা আবার সড়কে নেমেছেন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, তাদের ১২ জন প্রতিনিধি মন্ত্রণালয়ে অনশন শুরু করেছেন। বনানী থানার ওসি রাসেল সারোয়ার বলেন, “আবারও কলেজের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাচ্ছি।”
ইংরেজি বিভাগ ২০২০-২১ সেশনের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, “সকালে আন্দোলনের পর আমাদের ১২ জন প্রতিনিধি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যায়। সেখানে তাদের তিন দিনের মধ্যে তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রূপান্তরের কমিশন গঠনের আশ্বাস দেওয়া হয়। তবে সন্ধ্যার পরে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সে অবস্থান থেকে সরে আসেন। তারা বলছেন কমিটি গঠন হবে না। ”আমাদের ১২ জন প্রতিনিধি মন্ত্রণালয়ে অনশন শুরু করেছেন। আমরা সন্ধ্যার পর সড়ক অবরোধ করেছি। তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত এ অবরোধ চলবে।”
এর আগে বেলা ১১টায় মহাখালীর আমতলী, কাঁচাবাজার ও রেলক্রসিংয়ে শত শত শিক্ষার্থী তাদের দাবি আদায়ের কর্মসূচি নিয়ে জড়ো হন। সরকারি তিতুমীর কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সেখানে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করলে রাজধানীজুড়ে চরম যানজট সৃষ্টি হয়। তাতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। সোমবার দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা থেকে বানানী পর্যন্ত রাস্তায় গাড়ি আটকে থাকতে দেখা যায়। এছাড়া বনানী থেকে তেজগাঁও, তেজগাঁও থেকে বনানী, মহাখালীর আমতলী থেকে জাহাঙ্গীরগেইট এবং মহাখালী থেকে গুলশান পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ ছিল। এসময় যাত্রীদের গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে দেখা যায়। কমলাপুর থেকে রেল চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কমলাপুরে ট্রেনের অপেক্ষায় বিপাকে পড়েন হাজারো যাত্রী। পরে ৫ ঘণ্টা বাদে বিকাল ৪টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ তুলে নিলে সড়কে যান চলাচল ও ঢাকার সঙ্গে সারাদেশের রেল চলাচল স্বাভাবিক হয়। সেসময় তিতুমীর কলেজের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আমিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কয়েকজন প্রতিনিধি হিসেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে গিয়েছে। বৈঠকের পরে সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলন করে জানান হবে।” এ কর্মসূচি চলার মধ্যে একটি ট্রেনে ঢিল ছোড়ায় শিশুসহ কয়েকজন যাত্রী আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে রেলক্রসিংয়ে অবস্থান নিয়ে একদল শিক্ষার্থী বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাদের দেখে উপকূল এক্সপ্রেসের লোকোমাস্টার ব্রেক কষেন। তবে ট্রেনটি থামে অবরোধস্থল পার হওয়ার পর। সোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীরা রেল লাইন থেকে সরে যাওয়ায় অল্পের জন্য তারা প্রাণে বেঁচে যান। ততোক্ষণে কেউ কেউ ট্রেনটিকে লক্ষ্য করে পাথর ছুড়ে মারেন। তাতে শিশুসহ বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন। রেলের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী বলেন, বেলা পৌনে ১২টার দিকে নোয়াখালী থেকে আসা উপকূল এক্সপ্রেস মহাখালী পার হচ্ছিল। এ সময় আন্দোলনকারীরা ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করলে কয়েকজন যাত্রী আহত হন। “তারা ট্রেনে পাথর মারে। এতে পাঁচটি কোচের জানালার ২৯টি কাঁচ ভেঙে যায়। আর কয়েকজন যাত্রী আহত হন। আহতদের আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি।”