ঢাকা ০৭:০৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণ ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে

  • আপডেট সময় : ০৬:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার বলছে, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশে সরকার উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভন্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারী) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে একটি বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাতে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে তার দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে স্পষ্ট উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তার বদলে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছে। এটা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিকে বিপন্ন করছে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের নির্লজ্জভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য আবারো দেখিয়েছে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য এই দল দায়ী থাকবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসি/আপ্র/২৫/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করেন না মালিকরা: প্রেস সচিব

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্রে উত্তরণ ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে

আপডেট সময় : ০৬:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকার বলছে, ওই বক্তব্যে বাংলাদেশে সরকার উৎখাত এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে ভন্ডুল করার উদ্দেশ্যে সহিংসতায় উসকানি দেওয়া হয়েছে, যা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে বিপন্ন করছে।

আজ রোববার (২৫ জানুয়ারী) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে একটি বিবৃতি দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাতে তিনি প্রকাশ্যে বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে তার দলীয় অনুসারী ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত হতে স্পষ্ট উসকানি দিয়েছেন। এতে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিস্মিত ও হতবাক হয়েছে।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতার বিষয়ে ভারত এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তার বদলে ভারতের মাটিতে দাঁড়িয়ে তাকে এ ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে বাংলাদেশ গভীরভাবে সংক্ষুব্ধ হয়েছে। এটা স্পষ্টত বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ এবং শান্তি ও সমৃদ্ধিকে বিপন্ন করছে।

বাংলাদেশ সরকার মনে করে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজনের অনুমতি দেওয়া এবং সেখানে ‘গণহত্যাকারী’ শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রচলিত নীতিমালা যেমন সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের পরিপন্থী। এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি স্পষ্ট অবমাননা বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে সতর্ক করে বলা হয়, এ ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে। একই সঙ্গে এতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্বাচিত সরকারের পক্ষে পারস্পরিক কল্যাণমূলক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ে তোলা ও এগিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের নির্লজ্জভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য আবারো দেখিয়েছে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিন সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য এই দল দায়ী থাকবে।

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এসি/আপ্র/২৫/০১/২০২৬