ঢাকা ০৯:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে স্বামী নিহত

থানার পাশে কীভাবে মানুষ খুন হয়, প্রশ্ন গৃহবধূর

  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫
  • ১ বার পড়া হয়েছে

মো. ইসমাইল -ছবি পুলিশের সৌজন্যে

প্রত্যাশা ডেস্ক: সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়েছেন গৃহিণী নাহিদা সুলতানা। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবেন, সেই হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারছেন না।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে চা বিক্রি করে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তাঁর স্বামী মো. ইসমাইল। চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে ২০০ গজ দূরে জেলা পরিষদের সামনের সড়কে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় ইসমাইলকে।

ইসমাইলের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি পেশায় ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোতোয়ালি থানার কাছে ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন ইসমাইল। নিহত ইসমাইলের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে মো. তায়িফের বয়স ৯ বছর, মেয়ে তায়িফার বয়স তিন বছর।

জেলা পরিষদের সামনে নগর পুলিশের নির্মাণাধীন সদর দপ্তর। পাশে চট্টগ্রাম আদালত ভবন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এমন স্থানে ছিনতাইকারী হাতে স্বামীর মৃত্যু কোনোভাবেই যেন মানতে পারছেন না নাহিদা সুলতানা। মোবাইল ফোনে তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্বামীর আয় দিয়ে বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সংসার চলতো। প্রতিদিন রাতে চা বিক্রি করে সকালে বাসায় ফিরতেন স্বামী। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বের হয়ে আর ফিরতে পারেননি।

নাহিদা সুলতানা বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে মারা গেলে মনকে বোঝাতে পারতাম, থানার পাশে কীভাবে মানুষ খুন হয়। লাশ দেখে দুই সন্তান বারবার প্রশ্ন করছে, তাদের বাবা কথা বলছেন না কেন। কিন্তু তাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারছি না।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, ইসমাইল লালদীঘির পাড়, পুরোনো গির্জাসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করতেন। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে সাইকেল চালিয়ে লালদীঘির পাড় থেকে ফিরিঙ্গিবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ইসমাইল। জেলা পরিষদ ভবনের বিপরীতে কোতোয়ালিমুখী সড়কে তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ইসমাইল। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

নিহত ইসমাইলের ছোট ভাই মো. সুজন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের পরিবার কীভাবে চলবে জানি না। কে এ ঘটনার দায় নেবে? আমি জড়িত ছিনতাইকারীদের শাস্তি চাই।’

সানা/আপ্র/২৯/১১/২০২৫

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

রোববারের মধ্যে দাবি না মানলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন

ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে স্বামী নিহত

থানার পাশে কীভাবে মানুষ খুন হয়, প্রশ্ন গৃহবধূর

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

প্রত্যাশা ডেস্ক: সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়েছেন গৃহিণী নাহিদা সুলতানা। ছোট দুই সন্তানকে নিয়ে সামনের দিনগুলো কীভাবে চলবেন, সেই হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারছেন না।
গত বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) রাতে চা বিক্রি করে বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন তাঁর স্বামী মো. ইসমাইল। চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানা থেকে ২০০ গজ দূরে জেলা পরিষদের সামনের সড়কে ছুরিকাঘাতে খুন করা হয় ইসমাইলকে।

ইসমাইলের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়। তিনি পেশায় ভ্রাম্যমাণ চা বিক্রেতা ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোতোয়ালি থানার কাছে ফিরিঙ্গিবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন ইসমাইল। নিহত ইসমাইলের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে মো. তায়িফের বয়স ৯ বছর, মেয়ে তায়িফার বয়স তিন বছর।

জেলা পরিষদের সামনে নগর পুলিশের নির্মাণাধীন সদর দপ্তর। পাশে চট্টগ্রাম আদালত ভবন ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। এমন স্থানে ছিনতাইকারী হাতে স্বামীর মৃত্যু কোনোভাবেই যেন মানতে পারছেন না নাহিদা সুলতানা। মোবাইল ফোনে তিনি একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্বামীর আয় দিয়ে বাসা ভাড়া থেকে শুরু করে সংসার চলতো। প্রতিদিন রাতে চা বিক্রি করে সকালে বাসায় ফিরতেন স্বামী। কিন্তু বৃহস্পতিবার রাতে বের হয়ে আর ফিরতে পারেননি।

নাহিদা সুলতানা বলেন, ‘অসুস্থ হয়ে মারা গেলে মনকে বোঝাতে পারতাম, থানার পাশে কীভাবে মানুষ খুন হয়। লাশ দেখে দুই সন্তান বারবার প্রশ্ন করছে, তাদের বাবা কথা বলছেন না কেন। কিন্তু তাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে পারছি না।’

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, ইসমাইল লালদীঘির পাড়, পুরোনো গির্জাসহ আশপাশের এলাকায় ঘুরে ঘুরে চা বিক্রি করতেন। বৃহস্পতিবার রাত আড়াইটার দিকে সাইকেল চালিয়ে লালদীঘির পাড় থেকে ফিরিঙ্গিবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন ইসমাইল। জেলা পরিষদ ভবনের বিপরীতে কোতোয়ালিমুখী সড়কে তিনজন ছিনতাইকারী তাঁর পথ রোধ করে। ধস্তাধস্তির মধ্যে তাঁদের ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন ইসমাইল। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ওসি বলেন, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা করছে পুলিশ। তবে এখনো কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।

নিহত ইসমাইলের ছোট ভাই মো. সুজন বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষ হলে লাশ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘ভাইয়ের পরিবার কীভাবে চলবে জানি না। কে এ ঘটনার দায় নেবে? আমি জড়িত ছিনতাইকারীদের শাস্তি চাই।’

সানা/আপ্র/২৯/১১/২০২৫