নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলেছে, সার্বিক প্রস্তুতি সারার আগে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের আগাম সময়সূচি ঘোষণার সুযোগ নেই।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে গঠিত বিভিন্ন কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার পরই নির্বাচনের বিস্তারিত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্তৃপক্ষ বলছে, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের বিষয়ে পরামর্শদান, নির্বাচনের আচরণবিধি প্রণয়ন/সংশোধন এবং ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র সংশোধন/পরিমার্জন করার বিষয়ে গঠিত তিনটি কমিটি ‘নিরলসভাবে’ কাজ করে যাচ্ছে।
এসব কমিটি প্রতিনিয়ত ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠন, সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী, সাংবাদিকসহ সকল অংশীজনের মতামত গ্রহণ করছে। কমিটিগুলো ইতোমধ্যে কয়েক দফা বৈঠক করে অংশীজনদের লিখিত মতামত গ্রহণ করেছে।
দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডাকসু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে মাঝে-মধ্যে শোরগোল হলেও সম্ভাব্য কোনো সময়সূচি এখানো ঘোষণা করা হয়নি।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ফেব্রুয়ারির মধ্যে এই নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা বলেছিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এখন তারা এ নির্বাচনের বিষয়ে গঠিত তিন কমিটির সুপারিশ পাওয়ার অপেক্ষার কথা বলছে।
এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশাকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের বিষয়ে পরামর্শ দিতে।
এই কমিটি ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা শেষ করেছে এবং শিগগিরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মতামত সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি প্রণয়ন বা সংশোধনের কাজ করছে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক মামুন আহমেদকে আহ্বায়ক করে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটি।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই কমিটি ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল সকল ছাত্র সংগঠন, ডাকসুর সাবেক নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, সাধারণ শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির ২০১৯ ও ২০২৫ সালের সদস্যবৃন্দ, হল প্রভোস্ট, হাউজ টিউটর এবং আগের ডাকসু নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে মতবিনিময় সভা করে। সভায় পাওয়া মতামত পর্যালোচনা করে এখন প্রতিবেদন তৈরির কাজ চলছে। আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ ইকরামুল হককে আহ্বায়ক করে গঠিত আরেকটি কমিটি ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র সংশোধন বা পরিমার্জনের বিষয়ে সুপারিশ প্রণয়নের কাজ করছে। এই কমিটির পক্ষ থেকে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং শিক্ষার্থীর কাছ থেকে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে। সেসব প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রাথমিক খসড়াও প্রস্তুত করা হয়েছে। সেই খসড়ার ওপর অংশীজনদের মতামত নেওয়া হবে। চূড়ান্ত হওয়ার পর গঠনতন্ত্র সংশোধনের বিষয়ে সুপারিশ করবে কমিটি। তবে এসব কমিটি কতদিনের মধ্যে তাদের কাজ শেষ করবে তা সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়নি।
আওয়ামী লীগ শাসনামলে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের আধিপত্য ছিল একচেটিয়া। বর্তমান বাস্তবতায় ছাত্র সংগঠনগুলোর সহাবস্থান নিয়ে সংকট না থাকলেও ডাকসুর গঠনতন্ত্র সংস্কারসহ নানা বিষয়ে তারা একমত হতে পারেনি। ফলে ডাকসু নির্বাচন নিয়ে একধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়ে আছে।
শতবর্ষী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এখন পর্যন্ত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে ৩৭ বার। এর মধ্যে ২৯ বারই হয়েছে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলের ৫০ বছরে। স্বাধীন দেশে ৫৩ বছরে মাত্র ৮ বার ভোট দেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সর্বশেষ নির্বাচন হয় ২০১৯ সালে।
১৯৭৩ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুসারে, প্রতি বছর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ডাকসু মনোনীত পাঁচ শিক্ষার্থী প্রতিনিধি বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিনেটের সদস্য হন। তারা শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সুযোগের বিষয় তুলে ধরেন সিনেটে। তবে নির্বাচন না হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেটে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব থাকছে না।