ঢাকা ১০:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

তরুণ-তরুণীদের অখুশি থাকার প্রবণতা এখন বৈশ্বিক সমস্যা

  • আপডেট সময় : ০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

ছবি সংগৃহীত

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অখুশি থাকার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, বিশেষ করে ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোয় এই সংকট সবচেয়ে প্রকট হলেও এখন তা একটি বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। বিশ্ব সুখ সূচক ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে, যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও মানসিক অস্থিরতাকে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালি গ্লোবাল ফ্লারিশিং স্টাডির (জিএফএস) তথ্য মতে, ২২টি দেশের দুই লাখের বেশি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে তরুণ প্রজন্মের এই মানসিক শূন্যতা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়, বরং বিশ্বব্যাপী এক সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবনচক্রে সুখের ধারাকে ‘ইউ-আকৃতি’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো—অর্থাৎ জীবনের শুরুতে ও বৃদ্ধ বয়সে মানুষ বেশি খুশি থাকে এবং মধ্যবয়সে সুখের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব আর খাটছে না। আধুনিক তরুণদের সুখের সূচক জীবনের শুরু থেকেই বেশ নিচু অবস্থানে থাকছে এবং বহু বছর তা একই জায়গায় স্থবির হয়ে আছে।

গবেষক ডেভিড ব্লাঞ্চফ্লাওয়ার ও অ্যান্ড্রু জে অসওয়াল্ডের মতে, এই মনঃকষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাস্তব সামাজিক সম্পর্কের অভাব। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থায় অভ্যস্ত এই প্রজন্ম ভার্চুয়াল জগতের ভিড়ে প্রকৃত বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উষ্ণতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে দেখা গেছে, যেসব তরুণের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক মজবুত, তারা এখনো মানসিকভাবে অনেক বেশি সুস্থ। আর্থিক সমৃদ্ধি সব সময় যে সুখ বয়ে আনে না, এর প্রমাণ মিলছে ধনী দেশগুলোর পরিসংখ্যানে।

গবেষণায় দেখা গেছে, জিডিপি যত বাড়ছে; মানুষের জীবনে অর্থবোধ বা বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য তত কমছে। ধনী দেশগুলোর মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজকে অর্থবহ মনে করতে পারছে না, যা এক গভীর মানসিক শূন্যতা তৈরি করছে। এ ছাড়া ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের ঘাটতিও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কোনো না কোনো আধ্যাত্মিক চর্চার মধ্যে থাকেন; তাদের মানসিক প্রশান্তি অন্যদের চেয়ে গড়ে ৮ শতাংশ বেশি। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে গবেষক আর্থার সি ব্রুকস তরুণদের জন্য তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মোহ ত্যাগ করে বাস্তব জীবনে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, জীবনের গভীরতা বুঝতে কোনো দর্শন বা আত্মিক অনুশীলন করা এবং শুধু বস্তুগত আরাম বা অর্থের পেছনে না ছুটে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

তরুণ-তরুণীদের অখুশি থাকার প্রবণতা এখন বৈশ্বিক সমস্যা

আপডেট সময় : ০৯:০০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

লাইফস্টাইল ডেস্ক: বিশ্বজুড়ে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে অখুশি থাকার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, বিশেষ করে ধনী ও শিল্পোন্নত দেশগুলোয় এই সংকট সবচেয়ে প্রকট হলেও এখন তা একটি বৈশ্বিক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। বিশ্ব সুখ সূচক ২০২৫-এ যুক্তরাষ্ট্র তার ইতিহাসের সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে, যার পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে তরুণদের ক্রমবর্ধমান অসন্তোষ ও মানসিক অস্থিরতাকে।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের যৌথ উদ্যোগে পরিচালি গ্লোবাল ফ্লারিশিং স্টাডির (জিএফএস) তথ্য মতে, ২২টি দেশের দুই লাখের বেশি মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে যে তরুণ প্রজন্মের এই মানসিক শূন্যতা কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নয়, বরং বিশ্বব্যাপী এক সাধারণ প্রবণতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জীবনচক্রে সুখের ধারাকে ‘ইউ-আকৃতি’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো—অর্থাৎ জীবনের শুরুতে ও বৃদ্ধ বয়সে মানুষ বেশি খুশি থাকে এবং মধ্যবয়সে সুখের মাত্রা কমে যায়। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের ক্ষেত্রে এই তত্ত্ব আর খাটছে না। আধুনিক তরুণদের সুখের সূচক জীবনের শুরু থেকেই বেশ নিচু অবস্থানে থাকছে এবং বহু বছর তা একই জায়গায় স্থবির হয়ে আছে।

গবেষক ডেভিড ব্লাঞ্চফ্লাওয়ার ও অ্যান্ড্রু জে অসওয়াল্ডের মতে, এই মনঃকষ্টের অন্যতম প্রধান কারণ হলো বাস্তব সামাজিক সম্পর্কের অভাব। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগব্যবস্থায় অভ্যস্ত এই প্রজন্ম ভার্চুয়াল জগতের ভিড়ে প্রকৃত বন্ধু ও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের উষ্ণতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তবে দেখা গেছে, যেসব তরুণের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সম্পর্ক মজবুত, তারা এখনো মানসিকভাবে অনেক বেশি সুস্থ। আর্থিক সমৃদ্ধি সব সময় যে সুখ বয়ে আনে না, এর প্রমাণ মিলছে ধনী দেশগুলোর পরিসংখ্যানে।

গবেষণায় দেখা গেছে, জিডিপি যত বাড়ছে; মানুষের জীবনে অর্থবোধ বা বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য তত কমছে। ধনী দেশগুলোর মানুষ তাদের দৈনন্দিন কাজকে অর্থবহ মনে করতে পারছে না, যা এক গভীর মানসিক শূন্যতা তৈরি করছে। এ ছাড়া ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক অনুশীলনের ঘাটতিও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত কোনো না কোনো আধ্যাত্মিক চর্চার মধ্যে থাকেন; তাদের মানসিক প্রশান্তি অন্যদের চেয়ে গড়ে ৮ শতাংশ বেশি। এই সংকট থেকে উত্তরণের পথ হিসেবে গবেষক আর্থার সি ব্রুকস তরুণদের জন্য তিনটি পরামর্শ দিয়েছেন। তা হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মোহ ত্যাগ করে বাস্তব জীবনে পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, জীবনের গভীরতা বুঝতে কোনো দর্শন বা আত্মিক অনুশীলন করা এবং শুধু বস্তুগত আরাম বা অর্থের পেছনে না ছুটে জীবনের প্রকৃত উদ্দেশ্য খুঁজে বের করা।

আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ