ঢাকা ১০:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
 কারণ জানালো তিতাস

ঢাকায় গ্যাস সংকট চরমে

  • আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ২৫ বার পড়া হয়েছে

গ্যাস না থাকায় অনেকেকেই বিকল্প উপায়ে রান্না করতে হচ্ছে -ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। গ্যাসের এই সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসিন্দা গৃহিনী রেখা শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই প্রতিবেদককে জানান, গত বছরের শীতকাল থেকে গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। মাঝে কয়েক মাস অল্প চাপ থাকলেও তাতে মোটামুটি রান্নার মতো অবস্থা ছিল। রাতে একটু চাপ বাড়তো। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে দিনের বেলা গ্যাসের চাপ একেবারেই ক্ষীণ। তিনি বলেন, গত বুধবার সারা দিনই গ্যাস প্রায় ছিলই না। তবে ওইদিন রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও আজ (শুক্রবার) সকালে রান্না করার মতো চাপ নেই। রেখা বলেন, প্রতি মাসে দুই চুলার জন্য নিয়মিত ১০৮০ টাকা করে গুনতে হলেও বছরজুড়েই গ্যাসের সংকট চলছে। ফলে আমাদের কষ্টও অনেক বেড়ে গেছে।

গ্যাসের সংকট নিরসন করে সরকার যেন স্বাভাবিকভাবে রান্না-বান্না করার সুযোগ নিশ্চিত করে, সেই দাবি জানান রেখা।

নিকেতন এলাকার বাসিন্দা সাদি ইসলাম বলেন, খুব সকালে সামান্য গ্যাস থাকে। এই গ্যাস দিয়ে সকালের রান্না কোনোমতে চালানো যায়। এরপর চুলা আর জ্বলেই না। দুপুরের খাবার বাইরে থেকে কিনে খেতে হয়। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে গ্যাস আসে। তবে গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে। তখন রাতের রান্না করা যায়।

পূর্ব রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা রুমানা গৃহকর্মীর কাজ করেন। সব বাড়িতে কাজ শেষে নিজের বাসায় ফিরে দিবাগত রাত একটার দিকে গ্যাস পান তিনি। লাইন দিয়ে সেই গ্যাসে রান্না করতে হয়। সারা দিন গ্যাস থাকে না। স্বল্প আয়ে সংসার চলে তাঁর। তাই বিকল্প ব্যবস্থার উপায় তাঁর নেই।

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় থাকেন শুভা জিনিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, সকালে অফিস শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখেন গ্যাসের চুলা টিমটিম করে জ্বলে। সেই অল্প জ্বালে রান্না হতে অনেক সময় লাগে। সারা দিনই গ্যাস থাকে না। আসে রাত ১১টার পরে। তখন প্রতিবেশীদের অনেকে রান্না করেন। এখন তিনি রাইস কুকারে কিছু রান্না করছেন। তিনি বৈদ্যুতিক চুলা কিনবেন বলে ভাবছেন।

মিরপুর-২ নম্বরের দক্ষিণ মণিপুরের বাসিন্দা মো. আবু হুরাইরাহ্ বলেন, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যায়। সারা দিন আর থাকে না। বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে গ্যাস আসে। তবে চাপ থাকে খুবই কম। এ কারণে রান্না নিয়ে খুবই সমস্যা হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ফাতেমা তুজ জোহরা থাকেন খিলগাঁও এলাকায়। খুব সকালে ছাড়া বাকি সময় গ্যাস থাকে না বলে জানান তিনি। তাই সকাল ছয়টায় উঠে তাঁদের রান্না করতে হয়। এ অবস্থায় রান্নার জন্য তাঁদের ভরসা বৈদ্যুতিক চুলা।

পাইপলাইনের লিকেজ না সারায় গ্যাসের তীব্র সংকট: গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঢাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ থাকার কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিটি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে মেরামতকাজ শুরু করা হয়।
তবে মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশ করে। এ ছাড়া ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কম আছে। এ কারণে ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলেছে, গ্যাসের স্বল্পচাপের এই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি এলাকায় বেশি সংকট: পাইপলাইন লিকেজের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গাবতলী থেকে আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে। বুধবার থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, ‘রাতে সামান্য গ্যাস থাকলেও আজ (শুক্রবার) সারাদিন চুলায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, চুলায় গ্যাস নেই বললেই চলে। উপায় না পেয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করেছি।

সানা/আপ্র/০৯/০১/২০২৬

 

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

 কারণ জানালো তিতাস

ঢাকায় গ্যাস সংকট চরমে

আপডেট সময় : ০৯:১৪:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। গ্যাসের এই সংকটের কারণে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন নগরবাসী।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসিন্দা গৃহিনী রেখা শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই প্রতিবেদককে জানান, গত বছরের শীতকাল থেকে গ্যাসের সংকট শুরু হয়েছে। মাঝে কয়েক মাস অল্প চাপ থাকলেও তাতে মোটামুটি রান্নার মতো অবস্থা ছিল। রাতে একটু চাপ বাড়তো। কিন্তু গত ডিসেম্বর থেকে দিনের বেলা গ্যাসের চাপ একেবারেই ক্ষীণ। তিনি বলেন, গত বুধবার সারা দিনই গ্যাস প্রায় ছিলই না। তবে ওইদিন রাত থেকে গ্যাস সরবরাহ অনেকটাই স্বাভাবিক হলেও আজ (শুক্রবার) সকালে রান্না করার মতো চাপ নেই। রেখা বলেন, প্রতি মাসে দুই চুলার জন্য নিয়মিত ১০৮০ টাকা করে গুনতে হলেও বছরজুড়েই গ্যাসের সংকট চলছে। ফলে আমাদের কষ্টও অনেক বেড়ে গেছে।

গ্যাসের সংকট নিরসন করে সরকার যেন স্বাভাবিকভাবে রান্না-বান্না করার সুযোগ নিশ্চিত করে, সেই দাবি জানান রেখা।

নিকেতন এলাকার বাসিন্দা সাদি ইসলাম বলেন, খুব সকালে সামান্য গ্যাস থাকে। এই গ্যাস দিয়ে সকালের রান্না কোনোমতে চালানো যায়। এরপর চুলা আর জ্বলেই না। দুপুরের খাবার বাইরে থেকে কিনে খেতে হয়। বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে গ্যাস আসে। তবে গ্যাসের চাপ খুবই কম থাকে। তখন রাতের রান্না করা যায়।

পূর্ব রাজাবাজার এলাকার বাসিন্দা রুমানা গৃহকর্মীর কাজ করেন। সব বাড়িতে কাজ শেষে নিজের বাসায় ফিরে দিবাগত রাত একটার দিকে গ্যাস পান তিনি। লাইন দিয়ে সেই গ্যাসে রান্না করতে হয়। সারা দিন গ্যাস থাকে না। স্বল্প আয়ে সংসার চলে তাঁর। তাই বিকল্প ব্যবস্থার উপায় তাঁর নেই।

রাজধানীর কলাবাগান এলাকায় থাকেন শুভা জিনিয়া চৌধুরী। তিনি বলেন, সকালে অফিস শেষে সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে দেখেন গ্যাসের চুলা টিমটিম করে জ্বলে। সেই অল্প জ্বালে রান্না হতে অনেক সময় লাগে। সারা দিনই গ্যাস থাকে না। আসে রাত ১১টার পরে। তখন প্রতিবেশীদের অনেকে রান্না করেন। এখন তিনি রাইস কুকারে কিছু রান্না করছেন। তিনি বৈদ্যুতিক চুলা কিনবেন বলে ভাবছেন।

মিরপুর-২ নম্বরের দক্ষিণ মণিপুরের বাসিন্দা মো. আবু হুরাইরাহ্ বলেন, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে আটটা পর্যন্ত গ্যাস পাওয়া যায়। সারা দিন আর থাকে না। বিকেলে বা সন্ধ্যার দিকে গ্যাস আসে। তবে চাপ থাকে খুবই কম। এ কারণে রান্না নিয়ে খুবই সমস্যা হচ্ছে।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী ফাতেমা তুজ জোহরা থাকেন খিলগাঁও এলাকায়। খুব সকালে ছাড়া বাকি সময় গ্যাস থাকে না বলে জানান তিনি। তাই সকাল ছয়টায় উঠে তাঁদের রান্না করতে হয়। এ অবস্থায় রান্নার জন্য তাঁদের ভরসা বৈদ্যুতিক চুলা।

পাইপলাইনের লিকেজ না সারায় গ্যাসের তীব্র সংকট: গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঢাকায় গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ থাকার কথা জানায়। বিজ্ঞপ্তিটি তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের ফেসবুক পেজে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মালবাহী ট্রলারের নোঙরের আঘাতে আমিনবাজারে তুরাগ নদের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত বিতরণ গ্যাস পাইপলাইন মেরামত করা হয়েছে। বুধবার থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে মেরামতকাজ শুরু করা হয়।
তবে মেরামতকালে পাইপে পানি প্রবেশ করে। এ ছাড়া ঢাকা শহরে গ্যাসের সরবরাহ কম আছে। এ কারণে ঢাকা মহানগরীতে গ্যাসের মারাত্মক স্বল্পচাপ বিরাজ করছে। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বলেছে, গ্যাসের স্বল্পচাপের এই সমস্যা সমাধানে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

মোহাম্মদপুর-ধানমন্ডি এলাকায় বেশি সংকট: পাইপলাইন লিকেজের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে গাবতলী থেকে আসাদগেট, মোহাম্মদপুর, বসিলা, লালমাটিয়া, ধানমন্ডি ও আশপাশের এলাকাগুলোতে। বুধবার থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের চাপ কমে যায়। ছুটির দিনে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েছে। মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মো. শাহজাহান বলেন, ‘রাতে সামান্য গ্যাস থাকলেও আজ (শুক্রবার) সারাদিন চুলায় গ্যাস নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হয়েছে। ধানমন্ডির বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বলেন, চুলায় গ্যাস নেই বললেই চলে। উপায় না পেয়ে ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করেছি।

সানা/আপ্র/০৯/০১/২০২৬