নিজস্ব প্রতিবেদক : বিদায়ী বছরের ২৮ অক্টোবর মহাসমাবেশ প- হওয়ার পর ঝটিকা মিছিল, ফুল নিবেদন, লিফলেট বিতরণ ও ঘরোয়া সভা-দোয়া মাহফিলের মধ্যে কার্যক্রম সীমিত রাখছে বিএনপি। এরইমধ্যে দেশে অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে একটি জাতীয় নির্বাচন। যাতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। নির্বাচনের পর এই প্রথমবারের মতো ঢাকার রাজপথে নামছে বিএনপি।
আজ শনিবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে কালো পতাকা মিছিল কর্মসূচি পালন করবে দলটি। ইতোমধ্যে মিছিলের জন্য ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মৌখিক অনুমতি মিলেছে বলেও দলের দায়িত্বশীল সূত্র সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে।
এদিকে গতকাল শুক্রবার (২৬ জানুয়ারি) দেশের জেলায় জেলায় কালো পতাকা মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ‘দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং ডামি প্রহসন নির্বাচনে অবৈধ সংসদ বাতিলের সঙ্গে একদফা’ দাবিতে শনিবার মিছিল হবে। চলমান শান্তিপূর্ণ যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ১২ দলীয় জোট, ‘জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট’ ‘গণফোরাম ও পিপলস পার্টি’, ‘এলডিপি’ কালো পতাকা মিছিল করবে। তবে এই কর্মসূচিতে গণতন্ত্র মঞ্চ নেই। তারা আগামী ৩০ জানুয়ারি সমাবেশ করবে। শায়রুল কবির খান জানান, শনিবার বিকালে বিজয়নগর দলীয় অফিসে সংবাদ সম্মেলন করবে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’।
৭ জানুয়ারি ইলেকশনের নামে সিলেকশন হয়েছে: মঈন খান: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান বলেছেন, গত ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের নামে এখানে একটি প্রহসনের নাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশের কোটি কোটি মানুষ সেই নির্বাচনকে বর্জন করেছে। আর এখানে কোনো নির্বাচন হয় নাই। এখানে ইলেকশনের নামে সিলেকশন হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (জেটেব) উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৮৮তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। তিনি বলেন, শুধু বিএনপি ও বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী মানুষ শুধু বলে নাই, আওয়ামী লীগের যারা ভোটার ছিল, তারাও এই নির্বাচনে যায় নাই। কারণ তারা জানে, এই নির্বাচনে কে নির্বাচিত হবে এবং কে হবে না, এটা ভোট দিয়ে নির্ধারিত হবে না, এটা নির্ধারিত হয়েছে রাজধানী থেকে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা রাজপথে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা রাজপথেই দাঁড়িয়ে থাকবো। যতক্ষণ না পর্যন্ত বাংলাদেশের ১৮ কোটির মানুষের জন্য গণতন্ত্র ফিরিয়ে না আনবো, ততক্ষণ ঠিক এভাবেই আমরা রাজপথে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে থাকবো। ড. আবদুল মঈন খান বলেন, আমরা রাজপথে দাঁড়িয়ে আছি। আমরা রাজপথে দাঁড়িয়েই থাকবো। আমরা শান্তিপূর্ণ, নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতি করি- আমরা বাংলাদেশে রাজনীতি করবো নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক পথে। বিএনপি গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাকশালে বিশ্বাস করে না। বিএনপির শান্তির রাজনীতি করে, বিএনপি লগি-বৈঠার রাজনীতি করে না। তিনি বলেন, বিরোধী দলীয় গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, যারা আমরা নির্বাচনকে বর্জন করেছি। আমরা সবাই মিলে যে শপথ নিয়েছি, সেটা হচ্ছে- বাংলাদেশে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবো। দেশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবন-যাত্রার মান আমরা উন্নত করবো। আমরা এই আদর্শে রাজনীতি করি। আওয়ামী লীগের মতো ক্ষমতায় যাওয়ার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। সাবেক মন্ত্রী মঈন খান আরও বলেন, সরকার বলছে- বাংলাদেশ নাকি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দ্রুত উন্নয়নকামী দেশ। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যদি বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দ্রুত উন্নয়নকামী দেশ হয়ে থাকে তাহলে সেদেশে আজকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দাঁড়িয়ে দরিদ্র মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র কেনো বিতরণ করতে হচ্ছে? কোথায় সেই উন্নয়ন? কার জন্য সেই উন্নয়ন? অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেটেবের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলম। আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সহ-সম্পাদক কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ।
























