বিদেশেরখবর ডেস্ক : দুই যুগেরও বেশি সময় আগে নেটোর বোমাবর্ষণের দুঃসহ ঘটনা স্মরণ এবং হামলার শিকার কম্পাউন্ডটি ডনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের মালিকানাধীন বিনিয়োগ কোম্পানিকে লিজ দেওয়ার প্রতিবাদে সার্বিয়ার বেলগ্রেডে কয়েক হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গত সোমবারের এ বিক্ষোভের আগে থেকেই ইউরোপের দেশটি কয়েক মাসের লাগাতার সরকারিবিরোধী বিক্ষোভ দেখে আসছে। একটি রেল স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর অবহেলা ও বিস্তৃত দুর্নীতি নিয়ে এ টানা বিক্ষোভ চলছে।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কৃষকদের অংশ নেওয়া এসব বিক্ষোভ সার্বিয়ার বর্তমান জনতুষ্টিবাদী প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভুচিকের জন্য বেশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সোমবারের বিক্ষোভটি ডাকে বেলগ্রেড স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ডিসেম্বরের শুরু থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ রেখে তারাই গত ৪ মাসের সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে আসছে।
ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই ২০ বছর বয়সী শিক্ষার্থী অগনেন পিয়েভাচকে সোমবার দেখা গেছে এক সময়কার সেনা সদরদ্প্তরের বাইরে বিক্ষোভ করতে; আড়াই দশক আগেও সেনাসদর হিসেবে ব্যবহৃত ওই ভবনদুটো এবং সংশ্লিষ্ট কম্পাউন্ডটি গত বছর সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ কোম্পানি এফিনিটি পার্টনারসকে লিজ দিয়েছে। “নেটোর বোমাবর্ষণের ২৬তম বার্ষিকী আজ। আমরা বিক্ষোভ করছি কারণ লাভ পেতে এই ভবনগুলো কাউকে না কাউকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এগুলোকে যেমন ছিল সে অবস্থাতেই রাখা উচিত ছিল, যা নেটোর আগ্রাসনের সাক্ষ্য দিতো,” বলেন পিয়েভাচ। ১৯৯৯ সালে যুগোস্লাভিয়ার অংশ ছিল সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রো; সেসময় বিদ্রোহ দমনের নামে পুলিশ জাতিগত আলবেনীয়দের হত্যা করছিল অভিযোগ তুলে বেলগ্রেডে এই ভবনদুটোতে বোমা মেরেছিল নেটো।
ভবনগুলোর নকশা করেছিলেন সার্বিয়ান স্থপতি নিকোলা দবরোভিচ, তৈরি হয়েছিল ১৯৫৭ থেকে ১৯৬৫ সালের মধ্যে। নকশায় বসনিয়ার পূর্বাঞ্চলের সুৎজেস্কা নদীর গিরিগাত ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন দবরোভিচ; ১৯৪৩ সালে এই গিরিখাতেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি লড়াই হয়েছিল। “সুরক্ষিত সাংস্কৃতিক স্মৃতিস্তম্ভ হিসেবে ভবনগুলো রেখে দেওয়া দরকার ছিল,” বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এমনটাই বলেছেন বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৬১ বছর বয়সী প্রেদরেগ জানিচ।