ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

টানা আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে শরীরে যা ঘটে

  • আপডেট সময় : ১০:০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • ০ বার পড়া হয়েছে

প্রত্যাশা ডেস্ক: ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করার জন্য নয়, এটি শরীর ও মনেরও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। অনিয়মিত সময়সূচি, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও প্রযুক্তিনির্ভরতা ঘুমকে অনেকের কাছেই বিলাসিতার অবস্থায় নিয়ে গেছে। তবে সুস্থ থাকতে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম অন্যতম শর্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা ঘুম শরীর ও মনের জন্য আদর্শ হলেও, সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবুও নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস জীবনমানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

আট ঘণ্টা ঘুমের গুরুত্ব: ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ঘুম বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক ড. অনুপমজিত সেখন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ঘুমের প্রয়োজন সাত থেকে নয় ঘণ্টার মধ্যে। এই সীমার মাঝামাঝি হওয়াতে আট ঘণ্টাকে আদর্শ ধরা হয়। এই সময়ের মধ্যে শরীর ও মস্তিষ্ক দিনের জমে থাকা ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার সুযোগ পায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে সকালে ঘুম ভাঙার পর নিজেকে বেশি সতেজ ও কর্মক্ষম অনুভব করা যায়। এছাড়া এমন ঘুমের ভালো দিক হল- এটি দিনের বেলা অতিরিক্ত চা বা কফির ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে দিতে পারে।

সবার ঘুমের প্রয়োজন কি এক রকম? টেক্সাসের ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী, ঘুম বিশেষজ্ঞ লিজ রস একই প্রতিবেদনে বলেন, বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক অবস্থা, মানসিক চাপ ও দেহঘড়ির ছন্দের ওপর নির্ভর করে একেকজনের ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।

কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবেই কম ঘুমিয়েও চনমনে থাকতে পারেন। আবার কারও কারও শরীর নয় ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুম না হলে পুরোপুরি সতেজ হয় না। শিশু, কিশোর, অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা মানুষ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের ঘুমের প্রয়োজন তুলনামূলক বেশি হতে পারে। লিজ রসের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হল- ঘুম থেকে উঠে মানুষ নিজেকে কতটা বিশ্রামপ্রাপ্ত ও মানসিকভাবে স্থির অনুভব করে এবং সারাদিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে কি-না।

নিজের জন্য ঠিক কত ঘণ্টা ঘুম দরকার: অনেকেই দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতিতে ভোগেন বা অনিয়মিত সময়সূচির কারণে নিজের প্রকৃত ঘুমের প্রয়োজন বুঝতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্কিল্ড স্লিপার’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাকৃতিক চিকিৎসক ক্যাথরিন ডার্লি এক্ষেত্রে একটি সহজ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কয়েক দিন পরপর শোবার সময় সামান্য বাড়িয়ে দিতে হবে, যতক্ষণ না ঘড়ির অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম ভাঙে। এরপর টানা কয়েক দিন বেশি সময় বিছানায় থাকার সুযোগ দিলে শরীর নিজেই জানিয়ে দেয়, তার প্রকৃত ঘুমের প্রয়োজন কতটা।

শরীর ও মনের পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত হয়: সারাদিন জেগে থাকার ফলে শরীরে যে ‘ঘুমের চাপ’ জমে, পর্যাপ্ত ঘুম তা দূর করতে পারে। আট ঘণ্টা ঘুমালে মস্তিষ্ক ও শরীর গভীরভাবে বিশ্রাম নেয় এবং পরদিন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করা সহজ হয়। নিয়মিত কম ঘুমালে এই চাপ জমতেই থাকে, ফলে দেখা দেয় অবসাদ ও মনোযোগের ঘাটতি।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়: ঘুম মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণের অংশগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুম হলে চাপ, বিরক্তি ও হঠাৎ রেগে যাওয়ার প্রবণতা কমে। মানে ভালোভাবে ঘুমানো মানুষ অন্যের অনুভূতি বুঝতে ও সহানুভূতিশীল হতে বেশি সক্ষম হন।

ক্ষুধা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা বাড়ানো হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং তৃপ্তির সংকেত দেওয়া হরমোনের কার্যকারিতা কমে। ড. সেখনের মতে, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুম এই হরমোনগুলোর স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে অকারণে খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে: ঘুমের সময় মস্তিষ্ক স্মৃতি সংরক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য পরিষ্কার করার কাজ চলে। লিজ রস জানান- গভীর ঘুম ও স্বপ্নের ঘুম এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম হলে মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শেখার গতি ও প্রতিক্রিয়ার সময় উন্নত হয়।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়: ঘুম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। লিজ রস বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম সংক্রমণ প্রতিরোধকারী কোষ তৈরিতে সহায়তা করে এবং শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: ভালো ঘুম ইন্সুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমে: কম ঘুম, মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা হৃদরোগসহ নানান জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম এই প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রেখে সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

আট ঘণ্টা ঘুমের কোনো ক্ষতি আছে কি? লিজ রস বলেন, অধিকাংশ মানুষের জন্য আট ঘণ্টা ঘুম ক্ষতিকর নয়। তবে যারা স্বাভাবিকভাবে কম ঘুমেই সুস্থ থাকেন, তারা জোর করে বেশি সময় বিছানায় থাকলে ভারী বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। দীর্ঘদিন এমন হলে ঘুম আসতে দেরি হওয়ার সমস্যাও তৈরি হতে পারে। ড. সেখনের মতে, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম।

সানা/আপ্র/২৪/০১/২০২৬

ট্যাগস :

যোগাযোগ

সম্পাদক : ডা. মোঃ আহসানুল কবির, প্রকাশক : শেখ তানভীর আহমেদ কর্তৃক ন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস, ১৬৭ ইনার সার্কুলার রোড, মতিঝিল থেকে মুদ্রিত ও ৫৬ এ এইচ টাওয়ার (৯ম তলা), রোড নং-২, সেক্টর নং-৩, উত্তরা মডেল টাউন, ঢাকা-১২৩০ থেকে প্রকাশিত। ফোন-৪৮৯৫৬৯৩০, ৪৮৯৫৬৯৩১, ফ্যাক্স : ৮৮-০২-৭৯১৪৩০৮, ই-মেইল : prottashasmf@yahoo.com
আপলোডকারীর তথ্য

টানা আট ঘণ্টা ঘুমাতে পারলে শরীরে যা ঘটে

আপডেট সময় : ১০:০৭:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

প্রত্যাশা ডেস্ক: ঘুম শুধু ক্লান্তি দূর করার জন্য নয়, এটি শরীর ও মনেরও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া। অনিয়মিত সময়সূচি, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও প্রযুক্তিনির্ভরতা ঘুমকে অনেকের কাছেই বিলাসিতার অবস্থায় নিয়ে গেছে। তবে সুস্থ থাকতে প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম অন্যতম শর্ত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন প্রতিদিন গড়ে আট ঘণ্টা ঘুম শরীর ও মনের জন্য আদর্শ হলেও, সবার ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য নাও হতে পারে। তবুও নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস জীবনমানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে।

আট ঘণ্টা ঘুমের গুরুত্ব: ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন ঘুম বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসক ড. অনুপমজিত সেখন রিয়েলসিম্পল ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ঘুমের প্রয়োজন সাত থেকে নয় ঘণ্টার মধ্যে। এই সীমার মাঝামাঝি হওয়াতে আট ঘণ্টাকে আদর্শ ধরা হয়। এই সময়ের মধ্যে শরীর ও মস্তিষ্ক দিনের জমে থাকা ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলার সুযোগ পায়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম হলে সকালে ঘুম ভাঙার পর নিজেকে বেশি সতেজ ও কর্মক্ষম অনুভব করা যায়। এছাড়া এমন ঘুমের ভালো দিক হল- এটি দিনের বেলা অতিরিক্ত চা বা কফির ওপর নির্ভরতাও কমিয়ে দিতে পারে।

সবার ঘুমের প্রয়োজন কি এক রকম? টেক্সাসের ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী, ঘুম বিশেষজ্ঞ লিজ রস একই প্রতিবেদনে বলেন, বয়স, বংশগত বৈশিষ্ট্য, শারীরিক অবস্থা, মানসিক চাপ ও দেহঘড়ির ছন্দের ওপর নির্ভর করে একেকজনের ঘুমের প্রয়োজন ভিন্ন হতে পারে।

কেউ কেউ স্বাভাবিকভাবেই কম ঘুমিয়েও চনমনে থাকতে পারেন। আবার কারও কারও শরীর নয় ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুম না হলে পুরোপুরি সতেজ হয় না। শিশু, কিশোর, অসুস্থতা থেকে সেরে ওঠা মানুষ বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তিদের ঘুমের প্রয়োজন তুলনামূলক বেশি হতে পারে। লিজ রসের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক হল- ঘুম থেকে উঠে মানুষ নিজেকে কতটা বিশ্রামপ্রাপ্ত ও মানসিকভাবে স্থির অনুভব করে এবং সারাদিন স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারে কি-না।

নিজের জন্য ঠিক কত ঘণ্টা ঘুম দরকার: অনেকেই দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতিতে ভোগেন বা অনিয়মিত সময়সূচির কারণে নিজের প্রকৃত ঘুমের প্রয়োজন বুঝতে পারেন না। যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্কিল্ড স্লিপার’য়ের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রাকৃতিক চিকিৎসক ক্যাথরিন ডার্লি এক্ষেত্রে একটি সহজ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও একই সময়ে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কয়েক দিন পরপর শোবার সময় সামান্য বাড়িয়ে দিতে হবে, যতক্ষণ না ঘড়ির অ্যালার্ম ছাড়াই ঘুম ভাঙে। এরপর টানা কয়েক দিন বেশি সময় বিছানায় থাকার সুযোগ দিলে শরীর নিজেই জানিয়ে দেয়, তার প্রকৃত ঘুমের প্রয়োজন কতটা।

শরীর ও মনের পূর্ণ বিশ্রাম নিশ্চিত হয়: সারাদিন জেগে থাকার ফলে শরীরে যে ‘ঘুমের চাপ’ জমে, পর্যাপ্ত ঘুম তা দূর করতে পারে। আট ঘণ্টা ঘুমালে মস্তিষ্ক ও শরীর গভীরভাবে বিশ্রাম নেয় এবং পরদিন নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করা সহজ হয়। নিয়মিত কম ঘুমালে এই চাপ জমতেই থাকে, ফলে দেখা দেয় অবসাদ ও মনোযোগের ঘাটতি।

আবেগ নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়: ঘুম মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণের অংশগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত ঘুম হলে চাপ, বিরক্তি ও হঠাৎ রেগে যাওয়ার প্রবণতা কমে। মানে ভালোভাবে ঘুমানো মানুষ অন্যের অনুভূতি বুঝতে ও সহানুভূতিশীল হতে বেশি সক্ষম হন।

ক্ষুধা ও ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ক্ষুধা বাড়ানো হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং তৃপ্তির সংকেত দেওয়া হরমোনের কার্যকারিতা কমে। ড. সেখনের মতে, নিয়মিত আট ঘণ্টা ঘুম এই হরমোনগুলোর স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে অকারণে খাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ সহজ হয়।

মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে: ঘুমের সময় মস্তিষ্ক স্মৃতি সংরক্ষণ, তথ্য বিশ্লেষণ ও অপ্রয়োজনীয় তথ্য পরিষ্কার করার কাজ চলে। লিজ রস জানান- গভীর ঘুম ও স্বপ্নের ঘুম এই প্রক্রিয়ায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম হলে মনোযোগ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, শেখার গতি ও প্রতিক্রিয়ার সময় উন্নত হয়।

রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী হয়: ঘুম শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে। লিজ রস বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম সংক্রমণ প্রতিরোধকারী কোষ তৈরিতে সহায়তা করে এবং শরীরের প্রদাহজনিত প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে রাখে।

রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক: ভালো ঘুম ইন্সুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায়, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতেও সাহায্য করতে পারে।

দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ কমে: কম ঘুম, মানসিক চাপ ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন শরীরে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বাড়াতে পারে, যা হৃদরোগসহ নানান জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়। পর্যাপ্ত ঘুম এই প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে রেখে সামগ্রিক স্বাস্থ্য রক্ষা করে।

আট ঘণ্টা ঘুমের কোনো ক্ষতি আছে কি? লিজ রস বলেন, অধিকাংশ মানুষের জন্য আট ঘণ্টা ঘুম ক্ষতিকর নয়। তবে যারা স্বাভাবিকভাবে কম ঘুমেই সুস্থ থাকেন, তারা জোর করে বেশি সময় বিছানায় থাকলে ভারী বা অস্বস্তি অনুভব করতে পারেন। দীর্ঘদিন এমন হলে ঘুম আসতে দেরি হওয়ার সমস্যাও তৈরি হতে পারে। ড. সেখনের মতে, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম।

সানা/আপ্র/২৪/০১/২০২৬