মো. খশরু : করোনাকালে দীর্ঘদিন দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। পড়ালেখায় অনীহার পাশাপাশি ইতিমধ্যে বাড়তে শুরু করেছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা। বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ওপর এর প্রভাব পড়েছে বেশি। এমনকি অনেকে বিদ্যালয়বিমুখ হয়ে পড়েছে। দেশের প্রান্তিক এলাকার প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী উপস্থিতির হার নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন গবেষণা জরিপ বলছে, দেশের দারিদ্র্যের হার পৌঁছেছে ২২ থেকে ৩৫ শতাংশে। এই পরিসংখ্যান আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা রয়েছে। পরিবারের দারিদ্রে৵র এই প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের জীবনে। আর্থিক সমস্যায় জর্জরিত পরিবারগুলোর মেয়েদের দ্রুত বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা বেড়েছে লক্ষণীয় হারে। সেটা করোনার সময়ে বেশি দেখা গেছে। পাশাপাশি পারিবারের চাহিদা মেটাতে হিমশিম খেয়ে শিশুদের দিয়ে কায়িক পরিশ্রম করাতে বাধ্য হচ্ছে অনেক পরিবার।
এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলে ঝরে পড়া এবং বিদ্যালয়বিমুখ শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন সহশিক্ষামূলক কার্যক্রম হাতে নেওয়া উচিত। এতে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের আনন্দঘন পরিবেশের প্রতি আকৃষ্ট হতে পারবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে নানা ধরনের বিনোদনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। হতে পারে সেটি সাংস্কৃতিক, খেলাধুলা অথবা কুইজ প্রতিযোগিতা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সরকার কর্তৃক যেসব সুবিধা দেওয়া হয়, প্রয়োজনে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সবার বাড়িতে গিয়ে সেসব উপস্থাপন করে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে । কেননা, দেশের শিক্ষাক্ষেত্রকে এগিয়ে নিতে প্রাথমিক শিক্ষার বিকল্প নেই। কারণ, প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের মূল ভিত্তিই এটি । সেজন্যই সরকার গুরুত্ব বিবেচনায় প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেছে।
সুতরাং এই মুহূর্তে দেশের প্রান্তিক পর্যায় থেকে শুরু করে সব জায়গায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই শিক্ষার্থীদের আগের রূপে শিক্ষাঙ্গনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব ।
ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের যেভাবে ফিরিয়ে আনা যায়
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ