নিজস্ব প্রতিবদক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ-জাকসু নির্বাচনে ১০টি নারী হলের দেড়শ পদের মধ্যে মাত্র ৩৪টিতে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়বে।
৫৮টি পদের বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় প্রার্থিরা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিজয়ী হতে চলেছেন। আর ৫৮টি পদে কোনো প্রার্থী নেই, সেগুলো ফাঁকা আছে। ১০টি হলের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রার্থী হয়েছে ১৩ নম্বর ছাত্রী হলে। সেখানে ১৫টি পদের মধ্যে বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন মাত্র তিনজন। বাকি ১২টি পদই শূন্য রয়েছে।
অপরদিকে ছেলেদের ১১টি হলে ১৬৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৩১৬ জন। এর মধ্যে ৬১টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই, ফলে তারা বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। আর বিভিন্ন হলে সাতটি পদের কেউ প্রার্থী হননি। ফলে সেগুলো ফাঁকা রয়ে গেছে। ফলে ছেলেদের হলের ৯৭ পদে ভোট হবে। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকাতেই এই চিত্র উঠে এসেছে।
চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা অনুযায়ী জাকসুর কেন্দ্রীয় সংসদে ২৫ পদের বিপরীতে প্রার্থী হয়েছেন ১৭৯ জন। এর মধ্যে ৪৬ জন নারী সদস্য বিভিন্ন পদে প্রার্থী হয়েছেন, যা মোট সদস্যের ২৫.৭ শতাংশ। এর ৩১ জনই নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনে প্রার্থী হয়েছেন, যা মোট নারী প্রতিনিধিত্বের প্রায় ৬৭.৪%।
গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর মধ্যে জাকসুতে সহসভাপতি (ভিপি) পদে নেই কোনো নারী প্রার্থী। সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে প্রার্থী হয়েছেন দুজন নারী।
নারী হলে প্রার্থিতার পরিস্থিতি: বেগম সুফিয়া কামাল হল: ১৫টি পদের মধ্যে নয়টিতে একাধিক প্রার্থী নেই; ছয়টি পদ শূন্য। বীরপ্রতীক তারামন বিবি হল: চারটি পদে একাধিক প্রার্থী নেই; সাতটি পদ শূন্য। রোকেয়া হল: চারটি পদে একাধিক প্রার্থী নেই, ছয়টি পদ শূন্য। প্রীতিলতা হল: ১১টি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা জয়ী হতে যাচ্ছেন, দুটি পদ শূন্য। নওয়াব ফয়জুন্নেসা হল: ছয়টি পদে একাধিক প্রার্থী নেই, নয়টি পদ শূন্য। ফজিলতুন্নেছা হল: নয়টি পদে একাধিক প্রার্থী নেই, তিনটি পদ শূন্য। ১৩ নম্বর ছাত্রী হল: ১২টি পদ শূন্য, একটি পদে একাধিক প্রার্থী নেই। বেগম খালেদা জিয়া হল: সাতটি পদ শূন্য, ছয়টি পদে একাধিক প্রার্থী নেই। ১৫ নম্বর হল: চারটি পদ শূন্য, আটটি পদে একাধিক প্রার্থী নেই।
ছাত্র হলের প্রার্থিতা পরিস্থিতি: ১০ নম্বর ছাত্র হল (সাবেক বঙ্গবন্ধু হল): ছয়জন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে চলেছেন। ২১ নম্বর ছাত্র হল: পাঁচজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, একটি পদ ফাঁকা। আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল: সাতজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে চলেছেন। আল বেরুনী হল: চারটি পদে কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি; পাঁচজন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল: বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হতে যাচ্ছেন ১০ জন, একটি পদ ফাঁকা রয়ে গেছে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল: একটি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী পাওয়া যায়নি। মওলানা ভাসানী হল: ছয়টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। মীর মশাররফ হোসেন হল: পাঁচটি পদে একাধিক প্রার্থী নেই। শহীদ রফিক-জব্বার হল: ছয়টি পদে প্রতিনিধি নির্ধারিত হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। শহীদ সালাম বরকত হল: দুটি পদে কোনো প্রার্থী পাওয়া যায়নি, নয়টি পদে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী নেই। শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল: একটি পদ ফাঁকা রয়ে গেছে।
নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য: সর্বশেষ জাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯২ সালে। গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানে বদলে যাওয়া পরিস্থিতিতে প্রায় ৩৩ বছর পরে জাকসু নির্বাচন আয়োজনে রোডম্যাপ ঘোষণার উদ্যোগ নেয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অন্তত দুইবার পিছিয়ে আসে। পরে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রোডম্যাপ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় ১০ জানুয়ারি একটি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করলেও নানা ঘটনার পর ৩০ এপ্রিল নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল ৩১ জুলাই। পরে কয়েক দফা পেছানোর পর নির্বাচনের তারিখ ঠিক করা হয় আগামী ১১ সেপ্টেম্বর। সেই তফসিল অনুযায়ী, ১৮, ১৯ ও ২১ আগস্ট প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেন। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হয় ২১ থেকে ২৪ আগস্ট এবং খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয় ২৫ আগস্ট। এ ছাড়া, মনোনয়নপত্রের বৈধতার বিষয়ে এবং বাতিলের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন গ্রহণ করা হয় ২৬ আগস্ট (মঙ্গলবার)। আপিলের শুনানি হয় ২৭ আগস্ট (বুধবার)।
মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ছিল ২৮ আগস্ট। আর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে ২৯ আগস্ট। ৩০ আগস্ট সকাল থেকে প্রার্থিরা প্রচার শুরু করেন। আর ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। একইদিনে সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে ভোট গণনা ও ফলাফল প্রকাশ করা হবে।
আজকের প্রত্যাশা/কেএমএএ