নিজস্ব প্রতিবেদক : দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরখাস্ত হওয়া পরিচালক খন্দকার এনামুল বাছিরকে ছয় মাসের জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিনি দুর্নীতি মামলায় কারাদ-প্রাপ্ত আসামি। জামিনাদেশের ফলে তার কারামুক্তিতে বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবীরা। একইসঙ্গে তার সাজার বিরুদ্ধে করা আপিল শুনানির জন্য নথি প্রস্তুতির নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আইনজীবী ফারুখ আলমগীর চৌধুরী জামিন আবেদনের পক্ষে আদলতে শুনানি করেন। অন্যদিকে দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
এর আগে ২০১৯ সালের ৯ জুন একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে প্রচারিত প্রতিবেদন অনুযায়ী— ডিআইজি মিজানের বিরুদ্ধে পরিচালিত দুর্নীতির অনুসন্ধান থেকে দায়মুক্তি পেতে দুদক পরিচালক বাছিরকে ৪০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছিলেন ডিআইজি মিজান। ঘুষ লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথন রেকর্ড করে ওই চ্যানেলকে দিয়েছিলেন মিজান। ডিআইজি মিজানও এ বিষয়ে নিজেই গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা থেকে বাঁচতে ওই অর্থ ঘুষ দেন বলে ডিআইজি মিজান দাবি করেন। এ প্রতিবেদন প্রচারিত হওয়ার পর দুদক সংস্থার সচিব মুহাম্মদ দিলোয়ার বখতকে প্রধান করে তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটি ২০১৯ সালের ১০ জুন প্রতিবেদন জমা দেয়। প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পরিচালক বাছিরকে দুদকের তথ্য অবৈধভাবে পাচার, চাকরির শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সর্বোপরি অসদাচরণের অভিযোগে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে কমিশন।
২০১৯ সালের ১৬ জুলাই মানি লন্ডারিং আইনে দুদকের ঢাকা-১ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা হয়। একই বছর ২২ জুলাই এনামুল বাছিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেই থেকে তিনি কারাগারে আছেন। চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঘুষ নেওয়ার কারণে দুদকের মামলায় খন্দকার এনামুল বাছিরকে ৮ বছর এবং পুলিশের বরখাস্ত উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মিজানুর রহমানকে ৩ বছরের কারাদ- দেন আদালত। পরে রায়ের বিরুদ্ধে খালাস চেয়ে আপিল এবং জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানান খন্দকার এনামুল বাছির। গত ২৩ আগস্ট তার জামিন মঞ্জুর করেন হাইকোর্ট। তবে সে আদেশ পরিদন প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট। তবে পুনরায় জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন জানান বাছির।




















